kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

জেনারেল এম এ জি ওসমানী

জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী ছিলেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি। ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর তিনি সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

সিলেট সরকারি হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা ও আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি পান। ভারতীয় সিভিল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি ১৯৪০ সালে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশনার অফিসার হিসেবে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি বার্মা রণাঙ্গনে ব্রিটিশ বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন। ১৯৫৬ সালে উন্নীত হন কর্নেল পদে এবং আর্মি হেডকোয়ার্টার্সে জেনারেল স্টাফ ও মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর নিযুক্ত হন। ১৯৬৭ সালে অবসরগ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন।

১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে দল থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং পদোন্নতি আগের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর গণ্য করা হয়।

১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেন। ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিসভায় স্থান পান। পরের বছর মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি গঠন করেন জাতীয় জনতা পার্টি। বাঙালি সৈনিকদের জন্য পদ সংরক্ষণ, মার্চ সংগীত রূপে কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল্ চল্ চল্’ গানটির সরকারি অনুমোদন আদায় তাঁর চাকরিজীবনের এক অনন্য কীর্তি। আজীবন অকৃতদার, তীক্ষ মেধা, উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ওসমানী লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য