kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

কষ্ট পেলে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা আল্লাহকে স্মরণ করে

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কষ্ট পেলে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা আল্লাহকে স্মরণ করে

৮৫. তারা [ইয়াকুব (আ.)-এর ছেলেরা] বলল, আল্লাহর শপথ! আপনি তো ইউসুফের কথা সদা স্মরণ করতে থাকবেন, যতক্ষণ না আপনি মুমূর্ষু অবস্থায় পতিত হবেন অথবা মৃত্যুবরণ করবেন।

৮৬. সে [ইয়াকুব (আ.)] বলল, আমি আমার অসহনীয় বেদনা, আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছে নিবেদন করছি। আমি আল্লাহর কাছ থেকে যা জানি, তোমরা তা জানো না। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮৫-৮৬)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, বিনিয়ামিনকে মিসরে আটক করার ঘটনা ইয়াকুব (আ.)-এর মনে ইউসুফকে হারানোর কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। তাই তিনি ঘন ঘন ইউসুফের কথা মনে করতে থাকেন। তিনি বলতে থাকেন, আফসোস! হায় আফসোস! ইউসুফের জন্য আফসোস! এভাবে তিনি অনেক বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েন। তিনি এত বেশি কেঁদেছিলেন যে তাঁর চোখ দুটির স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল। বিষয়টি তাঁর পুত্রদের মোটেও ভালো লাগেনি। কারণ তারা ইউসুফ (আ.)-কে ভীষণ হিংসা করত। এ জন্য তারা তাদের পিতাকে বলল, ইউসুফের দুঃখে আপনি নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলছেন। ইউসুফকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে, আমরা তা নিজের চোখে দেখেছি।

কাজেই ইউসুফের কথা মনে করে কেন আপনি নিজের ক্ষতি করছেন।

ইয়াকুব (আ.) আল্লাহর নবী হিসেবে ইউসুফ (আ.)-কে ভালো করেই চিনতেন। তাঁর ভবিষ্যৎ তিনি উপলব্ধি করতেন। কিন্তু ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি পিতার ভালোবাসার কারণ তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা উপলব্ধি করতে সক্ষম ছিল না। তাই তারা ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ছিল এবং তাঁকে পথের কাঁটা হিসেবে বিবেচনা করত।

দ্বিতীয় আয়াতের মূল বক্তব্য হলো, হজরত ইয়াকুব (আ.) এই শোকাতুর পরিস্থিতিতেও নিজেকে মহান আল্লাহর কাছে সমর্পিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছে নিবেদন করছি। ’

এই আয়াতসহ পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে এটা সুস্পষ্ট যে নবী-রাসুলরা যেকোনো সমস্যায় আল্লাহর ওপর নির্ভর করতেন, তাঁর সাহায্য কামনা করতেন, সব কিছু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করতেন। যেমন—হজরত মুসা (আ.) অভাব-অনটনের কথা আল্লাহর কাছে অভিযোগ করেছিলেন। হজরত ইয়াকুব (আ.)ও তেমনি অত্যধিক স্নেহভাজন শিশুপুত্রকে হারানোর বিষয়টি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছিলেন।

এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে আল্লামা ওহাবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন, কোনো কারণে ব্যথিত, দুঃখিত ও ভারাক্রান্ত হওয়া অপরাধ নয়, যখন সে বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করা হয়, ভাগ্যের ওপর তুষ্ট থাকা হয় এবং আল্লাহর ফয়সালায় নিজেকে সমর্পিত করা হয়। বিপদাপদে ব্যথিত হওয়া মানুষের স্বভাবগত বিষয়। এ ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হলো, আল্লাহর ফয়সালা ও ভাগ্যে অসন্তুষ্টি, কাপড় ছিঁড়ে ফেলা ও অনুপযোগী কথাবার্তা বলা। নিজ পুত্রের ইন্তেকালে শোকাহত হয়ে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘চোখ অশ্রু প্রবাহিত করছে, অন্তর ব্যথিত; কিন্তু আমরা এমন কথা বলব না, যা আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

এ কারণে হজরত ইয়াকুব (আ.) যখন বিনিয়ামিনের ব্যাপারে নিজ সন্তানদের কথা শুনেছেন তখন তাঁর অন্তর সংকীর্ণ হয়ে যায়। তিনি তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তাদের কাছ থেকে কিছু সময়ের জন্য আলাদা হয়ে যান। পরিশেষে তাদের ডেকে নতুন পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি তাদের আবার মিসরে পাঠিয়েছেন (এ বিষয়ে পরের আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে)। (আততাফসিরুল মুনির লিওহাবা জুহাইলি)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 

 


মন্তব্য