kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

সার্জেট জহুরুল হক

জহুরুল হক আমাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ের এক অন্যতম অগ্রসেনা। তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট ছিলেন। তাঁকে বিচারাধীন অবস্থায় জেলে হত্যা করা হয়। ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩৫ জন আসামির তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৯৩৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার সোনাপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। ১৯৫৩ সালে নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও জগন্নাথ কলেজ থেকে আইকম পাস করেন জহুরুল হক। ১৯৫৬ সালে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়ে পর্যায়ক্রমে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে অন্য কারাগারে রাখলেও পরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়। পাকিস্তান সরকারের দায়ের করা এ মামলাকে জনসাধারণ পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে মামলা রদ করে কয়েদিদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন হয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৬৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এ মামলার বিচারের শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়। কিন্তু উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ তারিখ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একজন পাকিস্তানি হাবিলদার জেলের একটি সেলের দরজায় দাঁড়ানো জহুরুল হককে সামনাসামনি গুলি করে আহত করে। তাঁকে সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে তিনি মারা যান। এ হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা সরকারি অতিথি ভবন ও অন্যান্য সরকারি অট্টালিকায় অগ্নিসংযোগ করে। গণ-আন্দোলনের চাপে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা রদ করতে বাধ্য হয়। জহুরুল হক একজন ভালো চিত্রশিল্পী ও খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি কাঠের শিল্পকর্মেও কম পারদর্শী ছিলেন না। তাঁর কিছু চিত্রকর্ম বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তাঁর সম্মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের নাম জহুরুল হক হল রাখা হয়।   

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য