kalerkantho


পদ্মা সেতু ও পায়ে কুড়াল মারার গল্প

আবদুল মান্নান

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পদ্মা সেতু ও পায়ে কুড়াল মারার গল্প

বাংলাদেশের ‘সুশীল’ শব্দটি এখন জগদ্বিখ্যাত। অন্য কোনো দেশে সুশীলদের তেমন কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও বাংলাদেশে তাঁরা বেশ বহাল তবিয়তে আছেন। কারা সুশীল তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে বিজ্ঞজনরা একমত যে বাংলাদেশের সুশীলদের কিছু অভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে। তাঁরা অবশ্যই কেতাদুরস্ত হবেন। কর আইনজীবী হলেও তিনি সংবিধান বিশেষজ্ঞ।   তাঁদের কিছু নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে। বাম, অতি বাম, তামাদি বাম, সাবেক বাম, উঠতি বাম হওয়ার একটি আকর্ষণ তাঁদের মধ্যে লক্ষণীয়। পেশায় সাধারণত তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পণ্ডিত শিক্ষক হবেন। এর বাইরে যেসব পেশা থেকে সুশীলরা আসেন সেগুলোর মধ্যে সাংবাদিকতা, আইনজীবী, ভূতপূর্ব অসফল রাজনীতিবিদ অন্যতম। কোনো বিশেষ দলের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না, তবে কথাবার্তা আর চিন্তাচেতনায় অবশ্যই আওয়ামী লীগবিরোধী হওয়াটা সুশীল হওয়ার একটি পূর্বশর্ত।

এই সুশীলদের টেলিভিশনের মধ্যরাতের টক শোতে নিয়মিত দেখা যায়। ‘টক’ করাও কারো কারো কাছে ইদানীং পেশা হয়ে উঠেছে। এই সুশীলদের বেশি দেখা যায় দেশের রাজধানী ঢাকায়। আওয়ামী লীগ সরকার কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নিলে এই সুশীলরা তার প্রতিবাদে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়েন। হোক না তা আড়িয়ল বিলে একটি আধুনিক বিমানবন্দরের প্রস্তাব অথবা সুন্দরবন থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে রামপাল বিদ্যুৎকন্দ্র। তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জমায়েতের। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে মাঠে নামার প্রস্তুতি চলছে বলেও খবর রটেছে। দেশের কয়েকটি প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা তাঁদের পেছনে খোলামেলাভাবেই সমর্থন জোগায়।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে সুশীলরা অসংগঠিত ছিলেন। তবে তাঁদের সংখ্যা ছিল কম। দেশের সার্বিক উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুশীলদেরও বেশুমার উন্নতি হয়েছে। অনেকে আবার বিদেশি টাকায় এনজিও ব্যবসা করে বেশ সফল। বিদেশিদের বাংলাদেশের দারিদ্র্য প্রদর্শন করে লাখ টাকা এনে তা নিজের উন্নয়নে ব্যয় করলেও যাদের দেখিয়ে এই অর্থ জোগাড়, তাদের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। কয়েকজন আছেন ঢাকা শহরের অনেক অভিজাত এলাকায় জমি দখল করার অভিযোগ মাথায় নিয়ে প্রতি রাতে টেলিভিশনে দেশের মানুষকে নিয়মিত নসিহত করেন। বাংলাদেশের সুশীলদের প্রথম সংগঠিত আবির্ভাব ২০০৬ সালের মাঝামাঝি গুলশানের এক অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে ‘যোগ্য প্রার্থী অন্দোলন’ নাম নিয়ে। তখন বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ সময়। বেগম জিয়া বছর শেষে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করার জন্য মোটামুটি সব কিছু গুছিয়ে এনেছেন। প্রায় সোয়া কোটি ভুয়া ভোটারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন তা-ও নির্ধারিত হয়ে আছে। যেকোনো মূল্যে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হবে। নানা ফন্দিফিকির করে সুশীলদের পরোক্ষভাবে সঙ্গে রাখার ব্যবস্থা হিসেবে ‘যোগ্য নাগরিক আন্দোলনে’র মতো এই অভিনব ব্যবস্থা। এই সুশীল সমাবেশে সমবেত হয়েছিলেন দেশের বেশ কিছু হেভিওয়েট সুশীল। অনেক কথাবার্তা হলো। ঠিক হলো আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাঁদের পছন্দের যোগ্য প্রার্থী না দেন তাহলে তাঁরাই যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করে নির্বাচনে দাঁড় করাবেন। বুঝতে অসুবিধা হলো না, কাদের স্বার্থে এই তামাশার আয়োজন। তাঁদের পেছনে ইন্ধন জোগাল বেশ কিছু বিদেশি দূতাবাস। তারপর তো এলো এক-এগারো। সুশীলদের অনেকেরই ভাগ্য খুলে গেল। কেউ হলেন ফখরুদ্দীনের অসাংবিধানিক সরকারের উপদেষ্টা, কেউ বা হলেন রাষ্ট্রদূত। দু-একজন আবার সাহস করে রাজনৈতিক দলও খুলে ফেললেন। ডিজিটাল যুগে আবার একজন বললেন, তাঁর দলের সদস্য হতে হলে তা মোবাইল ফোনে খুদেবার্তা পাঠিয়ে হওয়া যাবে। বেশ সুবিধাজনক ব্যবস্থা। শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া গেলেন কারাগারে। সুশীলদের বুদ্ধিজীবী নেতারা বললেন, দেশের রাজনীতিকে সাফসুতরো করতে হলে এই দুই মহিলাকে রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে হবে। জন্ম হলো মাইনাস টু ফর্মুলা। তবে এই অসাধারণ রাজনৈতিক ফর্মুলার জনক কে তা নিয়ে মতভেদ আছে।

ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ছাত্র-জনতা ফুঁসে উঠল। এই দেশে আবার ছাত্র-জনতা ফুঁসে উঠলে কী হতে পারে তা সবাই জানে। ফখরুদ্দীন আর তাঁর দোসর মঈনুদ্দিন নির্বাচন দিতে বাধ্য হলেন। নেই নির্বাচনে ধস নামানো বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ‘দিন বদলের সনদ’। মূল অঙ্গীকার ছিল বিজয়ী হলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, পদ্মা নদীর ওপর দিয়ে সেতু আর কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে সুড়ঙ্গপথ। পদ্মার ওপর সেতু বানাবেন—এমন স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন ১৯৭৩ সালে, যখন তিনি সাত দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ১৭ অক্টোবর জাপান যান। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য তিনি জাপান সরকারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বলেন, পদ্মার ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে বদলে যেতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্য। একটি কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা চালাতে রাজি হয় জাপান সরকার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম কালরাতের পর সেই স্বপ্ন নিভে যায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে এই সেতু নির্মাণে তাঁর দলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পার কথাই শুধু দেশের মানুষকে বলেননি, তিনি সরকার গঠনের পরপরই এই সেতু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেন। জাপানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। জাপান একটি সমীক্ষা চালিয়ে বলল, এই সেতু বানাতে ১.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। ঠিক হলো এই অর্থের সিংহভাগ জোগান দেবে জাপান। বাকিটা আসবে এডিবি, আইডিবি ও বাংলাদেশের নিজের উৎস থেকে। হঠাৎ করে কোথা থেকে না চাইতেই উড়ে এসে জুড়ে বসে বিশ্বব্যাংক বলল, সেতু যখন বানাবে, তা হোক একটা বহুমুখী মহাসেতু। টাকা লাগে আমরা দেব। হিসাব কষে বলল, ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার লাগবে, তার মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে ১.২০ বিলিয়ন ডলার। বাকি অর্থ আসবে জাপান, এডিবি আর আইডিবি থেকে। আর বাংলাদেশের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ৫৩ কোটি ডলার। রাজি বাংলাদেশ। বুঝতে পারল না বাংলাদেশ একটি পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। দেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে পুরো প্রকল্প তদারকি করার জন্য গঠিত হলো একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল। পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে। এই কাজটি করার দায়িত্ব ঋণগ্রহীতা দেশের। তবে তাতে বিশ্বব্যাংকের সায় থাকতে হয়। তা না করে বিশ্বব্যাংক চীনের একটি ভুয়া কম্পানিকে (সিআরসিসি) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য হাজির করল। বিশেষজ্ঞ প্যানেল সাফ জানিয়ে দিল এমন ভুয়া কম্পানিকে এমন একটি বড় কাজের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। শেষ পর্যন্ত কাজটি পেল কানাডার এসএনসি-লাভালিন। বিশ্বব্যাংক বেজায় নাখোশ। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে। সেপ্টেম্বর মাসে এসে তারা হঠাৎ বোমা ফাটানোর মতো ঘোষণা করল, সেতুর অর্থ চুরি হবে এমন একটা গন্ধ তারা পেয়েছে। পুরো বিষয়টার সুরাহা না হলে কোনো অর্থ ছাড় করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী বললেন, কোনো অর্থই যেখানে ছাড় হয়নি, সেখানে চুরির অপবাদ দেওয়াটা অযৌক্তিক। তার পরও যদি কোনো প্রমাণ বিশ্বব্যাংক দিতে পারে তার তদন্ত হবে। কে শোনে কার কথা! বিএনপি বিশ্বব্যাংকের আওয়াজ পেয়েই বগল বাজাতে শুরু করল। বেগম জিয়া বললেন, পদ্মার ওপর সেতু হবে না, কারণ আওয়ামী লীগ সব টাকা মেরে দিয়েছে। মাঠে নেমে পড়লেন সুশীলরা শিঙা ফুঁকতে। মানুষের প্রশ্ন, কারা এই সর্বনাশটা করল? বিশ্বব্যাংকের আঙুল সেতুমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের দিকে। জড়ানো হলো বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে। বাদ গেলেন না বঙ্গবন্ধু পরিবারের কয়েকজন সদস্যও। আঙুল উঠল প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের দিকে। বলা হলো, সব অপকর্মের মূল নায়ক সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা। এই মহাদুর্নীতির মূল দূতিয়ালিটা করেছেন এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ভূঁইয়া। বাংলাদেশের সরকার বারবার বলল, প্রমাণ দিন তদন্তপূর্বক বিচার হবে। সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে দুদকে মামলা হলো। আটক হয়ে কারাগারে গেলেন প্রকল্পের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা। শেখ হাসিনা তদন্তের স্বার্থে মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিলেন সৈয়দ আবুল হোসেনকে। ড. মসিউর রহমানের মতো আমলাকে পাঠালেন ছুটিতে। ওয়াশিংটন থেকে ধীরেসুস্থে এলো বিশ্বব্যাংকের তদন্তদল। সরকার আর দুদকের সঙ্গে বসল। কিছু কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করে ফিরে গিয়ে বলল, সরকার থেকে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায়নি। এদিকে দুদক তদন্ত শেষে জানাল, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সুশীলদের মধ্যরাতের গলাবাজি সমানে চলতে থাকল। এমন গলাবাজি পারলে তখনই সরকারের পতন ঘটান। বিএনপির বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বললেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের কাউকে দেশত্যাগ করতে দেওয়া হবে না। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে কানাডার পুলিশ সেই দেশে এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে মামলা করল। মামলার তারিখ পড়ে, শুনানি হয় না। প্রায় এক বছর পর ২০১২ সালের জুন মাসে বিশ্বব্যাংক বলল, তারা এই প্রকল্পে আর কোনো অর্থায়ন করবে না। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এই প্রকল্প থেকে হাত গুটিয়ে নিল। ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক ওয়াশিংটন থেকে এক বিবৃতিতে জানাল, ‘The World Bank cannot, should not, and will not turn a blind eye to evidence of corruption. We have both an ethical obligation and fiduciary responsibility to our shareholders and IDA donor counties…. The World Bank has decided to cancel its $1.2 billion IDA credit in support of the Padma Multipurpose Bridge project effective immediately.’ ঋণ বাতিলের ঘোষণাটি অত্যন্ত অশালীন ও অমর্যাদাকর। সুশীলদের কাগজে লিখল, দেশের ইতিহাসে এতবড় কূটনৈতিক বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। আর সৈয়দ আবুল হোসেন তত দিনে দেশের সবচেয়ে বড় ভিলেন আর শেখ হাসিনা তাঁর আশ্রয়দাতা। ২০১২ সালের ৮ জুলাই শেখ হাসিনা ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের অর্থায়নেই পদ্মার ওপর সেতু হবে। সুশীলদের গলার স্বর আরো চড়ে গেল। এটা কি বাঁশের সাঁকো নাকি? পাগলামির একটা সীমা আছে! 

গত শুক্রবার কানাডার আদালত শুনানি শেষে মামলা খারিজ করে দিয়ে রায়ে বলেছেন, গালগল্প আর গুজব দিয়ে দুর্নীতির মামলা হয় না। এমন একটা ফালতু মামলা করার জন্য কানাডার পুলিশকেও তিরস্কার করা হলো। বাংলাদেশের সুশীলরা বললেন, হায় হায়, এ কী হলো! এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। তাহলে কি শেখ হাসিনা কানাডার আদালতকেও প্রভাবিত করে ফেলেছেন! রায় ঘোষিত হওয়ার পর থেকে সুশীলদের আওয়াজ তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অনেক ভালো প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে, এখনো করে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু নিয়ে কেন তারা এমন নোংরা খেলা খেলতে গেল তা হয়তো কোনো একদিন জানা যাবে। কিন্তু এই পুরো ঘটনার পরিসমাপ্তি বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। হাজার হলেও বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার। বিশ্বব্যাংকের উচিত হবে পুরো ঘটনার জন্য বাংলাদেশের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা। আর যাঁরা এই ঘটনাকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছেন ও নিজেদের পায়ে হাসিমুখে কুড়াল মেরেছেন  তাঁদের উচিত করজোড়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি। ইতিহাসে পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার অমর কীর্তি হয়ে থাকুক।

 

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক


মন্তব্য