kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

আহমদ শরীফ

আহমদ শরীফ শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। জন্ম ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে। তাঁর বাবা আবদুল আজিজ ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের করণিক। খ্যাতনামা পুঁথি সংগ্রাহক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ছিলেন তাঁর চাচা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পটিয়া হাই স্কুল, চট্টগ্রাম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করে তিনি লাকসাম পশ্চিমগাঁও নওয়াব ফয়জুন্নেসা কলেজে বাংলার অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে গবেষণা সহকারী হিসেবে যোগ দেন এবং পরে বিভাগের শিক্ষক হন। মধ্যযুগের কবি সৈয়দ সুলতানের ওপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩ বছর অধ্যাপনা এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান, কলা অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ নানা দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৮৩ সালে অবসর নেন। পরে দুই বছর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল অধ্যাপক পদের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রথম প্রকাশিত বই ‘পুঁথি পরিচিতি’।

এতে ৬০০ পুঁথির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তিনি তুলে ধরেছেন। মধ্যযুগের প্রায় চল্লিশোর্ধ্ব কাব্যের পুঁথি সম্পাদনা করেছেন তিনি। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আলাওলের তোহফা ও সিকান্দরনামা, মুহম্মদ খানের সত্য-কলি-বিবাদ-সংবাদ, মুসলিম কবির পদসাহিত্য, জয়েনউদ্দীনের রসুল বিজয়, বাঙলার সুফি সাহিত্য, বাউলতত্ত্ব, সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ, রসুলচরিত ইত্যাদি। ‘বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য’ (দুই খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা। যুক্তিনিষ্ঠ, বিজ্ঞানমনস্ক, মানবকল্যাণকামী, প্রগতিশীল লেখক আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সমাজ, সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি সম্পর্কে নানা প্রবন্ধ লিখেছেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য :

বিচিত্র চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, যুগ যন্ত্রণা ইত্যাদি। তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে; কিন্তু এর আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য