kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হজরত ইয়াকুব (আ.)

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হজরত ইয়াকুব (আ.)

৮৩. সে [ইয়াকুব (আ.)] বলল, ‘না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনি সাজিয়ে দিয়েছে। সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়। হয়তো আল্লাহ তাদের একসঙ্গে আমার কাছে এনে দেবেন। তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। ’ [সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮৩ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, বিনিয়ামিন কথিত চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভাইয়েরা কেনান নগরীতে ফিরে আসে। ফিরে এসে তারা বাবার কাছে কৈফিয়ত দেয় যে আপনার ছেলে চুরি করেছে। তাই তাকে আমাদের সঙ্গে আনা সম্ভব হয়নি। আলোচ্য আয়াতে বলা হচ্ছে, হজরত ইয়াকুব (আ.) ছেলেদের বক্তব্য শোনার পর বলেন, ‘মনে হচ্ছে তোমাদের কুপ্রবৃত্তি আরেকটি নিন্দনীয় কাজ তোমাদের চোখের সামনে সুন্দর রূপে তুলে ধরেছে। ইউসুফকে হারিয়ে আমার যে মর্মজ্বালা আছে, বিনিয়ামিনকে মিসরে রেখে তোমরা তা আরো বাড়াতে চাও। কিন্তু আমি অসহিষ্ণু হতে চাই না। আমি ধৈর্য ধরব।

আশা করি, মহান আল্লাহ তাদের সবাইকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেবেন। ’

বিনিয়ামিনের বিষয়ে ভাইয়েরা শত চেষ্টা করেও ইয়াকুব (আ.)-এর আস্থা অর্জন করতে পারেনি। নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তারা বাবার সামনে সাক্ষী দাঁড় করায়। তারা বাবাকে মিসরে খোঁজখবর নিতে বলে এবং তাদের সঙ্গী কাফেলার লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করে।

এর আগে ইউসুফ (আ.)-এর বিষয়ে তারা মিথ্যা বলেছিল। তাই ইয়াকুব (আ.) এ ঘটনায়ও তাদের বিশ্বাস করতে পারেননি। এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘তোমরা মনগড়া কাহিনি সাজিয়ে নিয়েছ। যাক, আমি এখনো আল্লাহর ওপরই ধৈর্য ধারণ করছি। এ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম। ’

দৈনন্দিন জীবনে অনেক কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়, যেখানে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই প্রয়োজন। অনেক সমস্যার সমাধান হচ্ছে ধৈর্য ও সবর। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৪)

ঈমানদারের ধৈর্যের প্রয়োজন জীবনের সব ক্ষেত্রে, বিপদাপদে, মুসিবত, কষ্ট ও জটিলতায়। মুমিন ব্যক্তি বিশ্বাস করে, যত সংকটই আসুক না কেন, সব আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। ফলে সে বিপদে পড়েও ক্ষোভ, হতাশা ও অস্থিরতা প্রকাশ করে না। নিজের ভাষা ও আচরণ সংযত রাখে। কারণ সে আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী। সে তকদির বা ভাগ্যে বিশ্বাস করে। তকদিরে বিশ্বাস করা ঈমানের ছয়টি স্তম্ভের একটি স্তম্ভ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে সঠিক পথের সন্ধান দেন। ’ (সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ১১)

ঈমানদারের জন্য বিপদ-মুসিবত নিয়ামতস্বরূপ। কারণ এতে গুনাহ মাফ হয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়। ঈমানদার বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করে। আল্লাহর কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে। সৃষ্ট জীব থেকে বিমুখ হয়ে এক আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

 

সুখ-দুঃখ নিয়েই জীবন। সুন্দর এই পৃথিবীতে কেউ চিরসুখী নয়। সবার জীবনে কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে। এভাবেই জীবনচক্র সাজানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো মানুষ সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে। ’ (সুরা : বালাদ : আয়াত : ৪)

তাই বলে ভেঙে পড়লে চলবে না। বিপদে ধৈর্যহারা না হয়ে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে : ‘ঈমানদারের জীবন বড়ই আশ্চর্যজনক। সব কিছুই তার জন্য কল্যাণকর। ঈমানদার ছাড়া কেউ এমন হয় না। সুখ এলে সে শুকরিয়া আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। দুঃখ এলে সে ধৈর্য ধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর। ’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৯৯৯)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য