kalerkantho


‘প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন ষড়যন্ত্র’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন ষড়যন্ত্র’

‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ যে ভিত্তিহীন ছিল তা এত দিন পর প্রমাণিত হলো। অথচ ছয় বছর আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছিলেন। ’ মন্তব্যটি করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আগেই বলেছিলেন, এটা ষড়যন্ত্র। যাঁরা বলেছিলেন পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে, তাঁদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাফ চাওয়া উচিত। যেমনটি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও বলেছেন। জয় বলেছেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর বাংলাদেশে যাঁরা এই অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। কানাডার আদালতে এসংক্রান্ত মামলার রায়ের পর ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শনিবার এ মন্তব্য করে জয় বলেন, এটা ছিল বাংলাদেশ ও এ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। জয় বলেন, এ মিথ্যা তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক। পুরো উপাখ্যান চলাকালে আমি তাদের এসব প্রমাণ দেখেছি। এতে সুনির্দিষ্ট-বিস্তারিত কিছু নেই, যা সুস্পষ্টভাবেই বানানো।

’ শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক মীর মাসরুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধনমন্ত্রীর সাবেক এই প্রেস সেক্রেটারি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, এত বছর পর এবার বিদেশের একটি আদালত প্রমাণ করলেন বাংলাদেশে পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। একটি গুজবের ওপর নির্ভর করে একজন মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়াসহ খামোখা সারা দেশে এ নিয়ে হৈচৈ পড়েছিল। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে কানাডার আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন। মামলাটি গুজবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করেছেন দেশটির সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারক আয়ান নর ডেইমার। রায়ে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক কোনো প্রমাণ কানাডার সরকারপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে মামলাটির কোনো কার্যকারিতা নেই। শুধু গুজব বা গসিপের ওপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের করায় কানাডার পুলিশকেও তিরস্কার করেছেন আদালত। ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলা দায়ের করার ব্যাপারে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিচারক।

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, দুর্নীতি হয়নি ঠিক আছে। কিন্তু এই অভিযোগে যাঁদের মানের হানি হলো তাঁরা কি সম্মান ফিরে পাবেন? দুদকও তো অনেক দিন ধরে কাজ করেছে। তারাও তো এ বিষয়ে সুরাহা করতে পারেনি।

জবাবে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণের আগেই বিশ্বব্যাংক কেন পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করল তার জবাব সরকারকে চাইতে হবে। সংক্ষুব্ধ পার্টি হিসেবে সরকারের এ জবাব চাওয়া উচিত। আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেখানে কয়েকটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। জল্পনা, গুজব, রটনার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল। যুক্তিগুলো আদালতের কাছে আমলযোগ্য হয়নি। সে কারণে মামলা খারিজ করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হলো, বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছিল সেগুলো যুক্তিহীন। এই অভিযোগের মাধ্যমে সরকার ও দেশের জনগণের ওপর একটা কলঙ্কের কালিমা লেপন করা হয়েছিল। এ রায়ের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে স্বস্তি পেয়েছি। ’

দেশের সবচেয়ে বড় এ সেতু প্রকল্পে ঋণ দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে। বৃহৎ এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ও জাপানি সহযোগী সংস্থা জাইকাও অর্থায়নে রাজি হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রত্যাহারের ফলে তারাও সরে আসে। পরে নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে বাংলাদেশ সরকার।


মন্তব্য