kalerkantho


বিএনপি কি আবার ভুল করে কূল হারাবে?

কাজী সিরাজ

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিএনপি কি আবার ভুল করে কূল হারাবে?

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে। কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত সচিব কে এম নুরুল হুদা নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম ও শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। তাঁদের মধ্যে দুজন জনপ্রশাসন বিভাগ, একজন বিচার বিভাগ ও একজন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ইসি সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন সংক্ষিপ্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে। এর আগে সার্চ কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে তাঁদের প্রস্তাবিত ১০ জনের তালিকা পেশ করেন। তাঁদের দেওয়া তালিকা থেকেই রাষ্ট্রপতি পাঁচজনের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব প্রস্তাবিত ১০ জনের বাকিদের নামও পড়ে শোনান। তাঁরা হলেন আলী ইমাম মজুমদার, ড. তোফায়েল আহমদ, অধ্যাপক জারিনা রহমান খান ও অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। এর আগে সার্চ কমিটি গঠনের পর তা নিয়ে বিএনপির সমালোচনা মিথ্যা প্রমাণ করতে পেরেছেন কমিটির সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁরা যে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করেন তাতে তাঁরা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন বলেই মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। প্রথমত, একটি নাম ছাড়া (যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন) বাকি নাম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জমা দেওয়া নাম থেকেই বাছাই করেছেন এবং প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে প্রায় সমসংখ্যক নাম তাঁরা প্রস্তাব করেছেন। নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রধান দুই দলের পছন্দের লোকই আছেন। কথাটি মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমও সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে অভিযোগ ছিল তিনি জনতার মঞ্চের লোক। কিন্তু নবনিযুক্ত সিইসি সরাসরি তা অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি তখন কুমিল্লার ডিসি ছিলেন। জনতার মঞ্চের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতাই ছিল না। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দীর্ঘদিন তিনি ওএসডি থাকার পর ২০০৬ সালে অবসরে যান। পদমর্যাদার জন্য তাঁকে আইনি লড়াইয়ে যেতে হয়েছে। যুগ্ম সচিব হিসেবে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে ভূতাপেক্ষ সচিব হন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে।

জনমনে বিএনপি হয়তো এই ধারণা ছড়িয়ে দিতে চাইছে যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনকালীন সুবিধা দেওয়ার জন্যই বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ-বিরক্ত ‘জনতার মঞ্চে’র সাবেক কর্মকর্তাদের সিইসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আগের দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সুবিধা ভোগ করেছে নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করায় এবং প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচন ও বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শাসক দলের অনিয়ম দেখেও না দেখায়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এমন এক নজরদারির মধ্যে হতে যাচ্ছে যে তাতে নির্বাচন কমিশন আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের ঝুঁকি নেবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন না। তা ছাড়া একা সিইসিই নির্বাচন কমিশনের সব কিছু নন। আরো যে চারজন নির্বাচন কমিশনার আছেন তাঁরাও যথেষ্ট ক্ষমতার অধিকারী। তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ড দুর্বল নয়। বিএনপির প্রস্তাবিত লোকও সেখানে আছেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডে দলবাজি হলে যেকোনো একজন নির্বাচন কমিশনারই যথেষ্ট কোনো ধরনের অসাধু পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে। অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, শফি সামী ও অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল কিভাবে একটি নীলনকশা বানচাল করে দিয়েছিলেন সে কথা নিশ্চয়ই নতুন সিইসি, এমনকি ক্ষমতাসীন সরকারও মনে রাখবে। বিএনপিসহ তার মিত্রপক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনপ্রক্রিয়া, সার্চ কমিটি গঠন ইত্যাদি পরিপূর্ণ সংবিধানসম্মত নয় জেনেও সব প্রক্রিয়ায় উৎসাহের সঙ্গে সংযুক্ত থেকেছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সার্চ কমিটি নিয়ে আলোচনা শেষে বিএনপি নেতাদের বেশ উত্ফুল্লই দেখা গেছে। সার্চ কমিটি গঠনের পর দলের অতি উৎসাহী কিছু ‘পদধারী’ বিরূপ মন্তব্য করলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কমিটির ওপর আস্থাই ব্যক্ত করেছিলেন। সার্চ কমিটি তাদের ওপর সবার আস্থার মর্যাদাহানি করেছে, সে কথা কি বলা যাবে?

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলে ও মহলে চাঞ্চল্যের উপলক্ষ হচ্ছে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সরকারি ও বিরোধী—সব পক্ষই চাচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি সব দলের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হোক। বাইরে উদ্বেগ ছিল, গোটা নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি কী বলে ও পরিস্থিতিটা তখন কী দাঁড়ায়। কমিশন ঘোষণার পরপরই আওয়ামী লীগ সন্তোষ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করলেও পুরো নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি নাকচ করবে না, যেহেতু ঘোষিত কমিশনে তাদের পছন্দের লোকও আছেন। হ্যাঁ, আপাতত তারা চরমপন্থায় যায়নি। কমিশন নিয়ে তারা হতাশার কথা বলেছে; কিন্তু এই কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেনি, এই কমিশন দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না সংশয় প্রকাশ করেছে; কিন্তু নির্বাচন বর্জন করবে তেমন কোনো কথা বলেনি। কিন্তু ‘যদি’ বলে একটা বিষয় আছে। শেষ পর্যন্ত নতুন নির্বাচন কমিশন যদি বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, তারা যদি এই কমিশনকেও ‘প্রত্যাখ্যান’ করে, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে? যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানবহির্ভূত একটি প্রক্রিয়া (সার্চ কমিটির কোনো বিধান সংবিধানে নেই, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের কোনো বিধান নেই) নিয়ে এত উৎসাহ-উদ্দীপনা, নির্বাচন কমিশন নিয়েই কি সেই ‘স্বপ্নের অবিতর্কিত’ নির্বাচন প্রশ্নে দেশে নতুন কোনো সংকট তৈরি হবে? মানুষের দৃষ্টি এ ব্যাপারে বিএনপির দিকে। শেষটায় কী করবে বিএনপি? একটি বিপদের খড়্গও বিএনপির মাথার ওপর ঝুলছে। জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা খালেদা জিয়াকে বেশ পেরেশানিতে ফেলেছে। মামলা দুটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক নির্দল আইনজীবীও বলছেন, মামলার গতি-প্রকৃতি খুব খারাপ। সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা দুটি প্রত্যাহার করার চিন্তা না করলে রায় কী হবে বলা মুশকিল। যদি মামলায় খালেদা জিয়ার দুই বছরের বেশি জেলদণ্ড হয়ে যায় এবং তা উচ্চ আদালতেও বহাল থাকে, তাহলে তিনি দণ্ড শেষ হওয়ার পরও পাঁচ বছর যেকোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য ঘোষিত হবেন। একদিকে নতুন নির্বাচন কমিশন যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি না মানে এবং অন্যদিকে পার্টি চেয়ারপারসন নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হন, তাহলে বিএনপি কী করবে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কোনোটাই বিএনপির জন্য একেবারে অপ্রত্যাশিত বা হঠাৎ ‘বজ্রাঘাত’ বলে ভাবার কোনো কারণ নেই।

নির্বাচন কমিশন বিএনপির শতভাগ পছন্দের হবে অথবা বিএনপিকে সন্তুষ্ট করার জন্য সেভাবে তা গঠিত হবে, আমাদের চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটা প্রত্যাশা করা যায় না। কমিশন গঠনে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাব গ্রহণ এবং তাদের প্রস্তাবিত একজনকে কমিশনে অন্তর্ভুক্তকরণকে এক ধরনের অগ্রগতিই বলতে হবে। তাদের পার্টি চেয়ারপারসনের মামলার গতি-প্রকৃতি দেখে ফলাফল কী হতে পারে তা বোঝার মতো আইনজীবীর অভাব নেই বিএনপিতে। তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও এ ব্যাপারে একটা ধারণা এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে। যদি তারা মনে করে যে দুটি বিষয়ই তাদের প্রতিকূলে গেছে, তাহলে বিএনপি কি আবার হার্ডলাইনে যাবে? তারা কি নির্বাচনী সড়ক থেকে নেমে ফের সরকারের সঙ্গে মুখোমুখি বোঝাপড়ার বেপরোয়া লাইনে চলে যাবে তিন মাসের লাগাতার অবরোধ আন্দোলনের মতো? এখানেই প্রয়োজন বিএনপির ঠাণ্ডা মাথায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। দলে কে বা কারা নেবেন সেই সিদ্ধান্ত? অলআউট লড়াই বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ—যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিএনপির এটাই উপযুক্ত সময়।

রাজনীতিতে চড়াই-উতরাই আছে, আছে উত্থান-পতন। বিএনপির সময় এখন ভালো যাচ্ছে না। প্রবল সরকারি চাপ, বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে তাদের এগোতে হচ্ছে। মামলা-মোকদ্দমা, জেল-জুলুমে তারা কাবু। রাজনীতিবিদদের জীবনে এসব নির্যাতন-নিপীড়ন নতুন নয়। বিএনপি অথবা বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সুখে ছিল না। তবে মামলার এমন আধিক্য, গুম-খুন এতটা ব্যাপক ছিল না, তা স্বীকার করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি কিছু বড় ভুলও করেছে। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একবার বড় কোনো ভুল করলে তা পুষিয়ে নিতে অনেক সময় লাগে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে। অন্যদিকে দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনের ব্যাপারে লীগ সরকার অনড় ছিল। কিন্তু অবস্থার চাপে যখন সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল, বিএনপির তাত্ক্ষণিক তাতে সম্মতি জানানো উচিত ছিল। জনগণের মধ্যে তখন বিএনপির অবস্থান এতটাই সুদৃঢ় ছিল যে ফলাফলটা ‘অ্যানিবডিজ গেইম’ হওয়ার মতোই ছিল। শক্তিশালী একটি বিরোধী দল তো অন্তত হতে পারত। সে ভুলের মাসুল এখনো দিচ্ছে দলটি। এরপর ২০১৫ সালে তিন মাস লাগাতার অবরোধের কর্মসূচিও ভুল ছিল বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। অগ্নিসংযোগ, মানুষ হত্যা, জাতীয় সম্পদ নষ্ট ইত্যাদি অভিযোগে তারা অভিযুক্ত। তারা সহিংসতায় জড়িত ছিল না বা সরকার সুচতুরভাবে তাদের (বিএনপিকে) ডিফেইম করার জন্য নানা ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিএনপি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও সরকারি প্রচারের মুখে তা হালে পানি পায়নি। একটা শক্ত যুক্তি তো আছেই যে যদি আপনারা বুঝেই থাকেন, সরকার আপনাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিপদে ফেলার জন্য সহিংসতা ছড়াচ্ছে বিভিন্ন বাহিনী দিয়ে, কর্মসূচি সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করলেন না কেন?

মহাত্মা গান্ধী তাঁর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনকালে তিনজন মানুষ নিহত হওয়ার পর তাঁর কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সে শিক্ষা কাজে লাগালেন না কেন? কী জবাব আছে বিএনপির? যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি তাদের জন্য সহসাই তৈরি হতে পারে, তা মোকাবিলার জন্য আবারও কোনো হঠকারী পথ অনুসরণ করা মোটেই উচিত হবে না বিএনপির। তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অগোছালো ও খুবই দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো গুছিয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান নির্মাণ করা। নেতাকর্মীদের নতুন করে আরো মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানোর পথ পরিহার করা, ঘরছাড়া নেতাকর্মীদের ঘরে ফেরার সুযোগ কাজে লাগানো। প্রয়োজন কর্মীদের মনে সাহস সঞ্চার করা। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের দৃঢ় সিদ্ধান্তই তেমন একটি অনুকূল পরিবেশ তাদের জন্য সৃষ্টি করতে পারে। তাদের এখন থেকেই চিন্তা করা উচিত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী অভিযানে সামনে থেকে কারা নেতৃত্ব দেবেন। একক কোনো নেতা বিএনপিতে নেই বেগম জিয়ার পর। তারেক রহমান ক্লিন থাকলে হয়তো কিছুটা পারতেন। সে আশাও শেষ। এখন একটি যৌথ-নেতৃত্ব কাঠামোই বিএনপিকে এগিয়ে নেওয়ার পথ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমন একটি কাঠামোতেও যদি ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদরা স্থান না পেয়ে ‘ইয়োর ওবিডিয়েন্ট’রাই স্থান পান, তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি। প্রার্থী বাছাইয়ের বেলায়ও সৎ ও যোগ্যদের প্রাধান্য দিতে হবে। মনোনয়ন বেচাকেনা বন্ধ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের মতো তেমন লোক বিএনপিতে নেই তা নয়। দলকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগও কাজে লাগতে পারে। মান্নান ভূঁইয়ার অনুসারী সংস্কারবাদীদের মধ্যে অনেক যোগ্য ও সৎ ব্যক্তি আছেন। তাঁদের সসম্মানে দলে ফিরিয়ে এনে যথাযথ মূল্যায়ন করলে বিএনপি লাভবান হবে—যেমন আমু, রাজ্জাক, তোফায়েল, সুরঞ্জিতদের মর্যাদা দিয়ে আওয়ামী লীগ লাভবান হয়েছে। বিএনপির সব কিছু এখনো শেষ হয়ে যায়নি। নারায়ণগঞ্জ বলেছে, জনগণ এখনো আছে তাদের সঙ্গে। কিন্তু বারবার ভুল করলে কি থাকবে?

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধীদের আন্দোলন আমাদের দেশে নতুন নয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলই তা করেছে। রকিব কমিশন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১২টি নির্বাচন কমিশন হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার গঠনের পর এর আগের আজিজ কমিশন ও একটি উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিইসি আবু হেনার স্বেছায় পদত্যাগ ছাড়া আর কোনো সিইসি বা নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে লেজ গুটিয়েছে তেমন নজির কোথায়? বিএনপির ভাবনায় থাকা উচিত যে আগামী পাঁচ বছরের সব নির্বাচন নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনকে চাপের মুখে রাখা বিরোধী দলের একটা কৌশল হতে পারে। কিন্তু কর্মপরিবেশবিনাশী শত্রুভাবাপন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যে তিক্ততা সৃষ্টি করবে, তাতে বিএনপি কতটা লাভবান হবে ভাবতে হবে। সে অনুযায়ীই বিএনপিকে কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। কোনো কোনো পদধারীর অর্বাচীনের মতো কথাবার্তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে ভালো করবে দলটি।

 

লেখক : সাংবাদিক


মন্তব্য