kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

চার্লস রবাট ডারউইন

চার্লস রবার্ট ডারউইন জগদ্বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী। তিনিই প্রথম প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিবর্তনবাদের ধারণা দেন।

চার্লস ডারউইন ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দাদু ছিলেন চীনামাটির সামগ্রী প্রস্তুতকারক। দাদা ইরাসমাস ডারউইন ছিলেন ইংল্যান্ডের নেতৃস্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের একজন। প্রকৃতির প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে ডারউইন এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়নে মনোযোগী ছিলেন না। সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী নিয়ে গবেষণায় তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি। এরপর কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের প্রতি তাঁকে আরো আগ্রহী করে তোলে। ১৮৩১ সালে তিনি ‘হিজ ম্যাজেস্টিস সার্ভিস বিগল’ নামের জরিপ জাহাজে পাঁচ বছরের বৈজ্ঞানিক অভিযানে যোগ দেন। এই যাত্রা নিয়ে লেখেন ভ্রমণকাহিনি। এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশিত হলে তিনি লেখক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ভ্রমণকালে তাঁর সংগৃহীত বন্য প্রাণী ও ফসিলের ভৌগোলিক বণ্টন দেখে কৌতূহলী হয়ে ডারউইন প্রজাতির ট্রান্সমিউটেশন নিয়ে অনুসন্ধান করেন। তিনিই প্রথম অনুধাবন করেন যে সব প্রজাতিই কিছু সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত। তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণ, সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে তা প্রতিষ্ঠা করেন। বিবর্তনের এ বিন্যাসকে তিনি প্রাকৃতিক নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন। এ ছাড়া তিনি মানববিবর্তন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং মানুষের ক্রমোন্নয়ন, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর অনুভূতির প্রকাশ নিয়ে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। পরে বিবর্তনবাদের তত্ত্ব নিয়ে লেখেন পৃথিবী বিখ্যাত বই ‘অন দি অরিজিন অব স্পেসিস’। তাঁর জীবদ্দশায়ই ‘বিবর্তনবাদ’ একটি তত্ত্ব হিসেবে বিজ্ঞানী ও সমাজের বেশির ভাগ মানুষের কাছে স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি ১৮৮২ সালের ১৯ এপ্রিল মারা গেলে তাঁকে ওয়েস্ট মিনস্টার অ্যাবেতে বিজ্ঞানী জন হার্শেল ও আইজ্যাক নিউটনের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়। বিজ্ঞানী হিসেবে খ্যাতির কারণে তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডে উনিশ শতকের মাত্র পাঁচজন রাজপরিবার বহির্ভূত ব্যক্তির একজন, যাঁরা রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সম্মান লাভ করেন।

 

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য