kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

ইসলামের দৃষ্টিতে সততা ও সত্যবাদিতার গুরুত্ব

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইসলামের দৃষ্টিতে সততা ও সত্যবাদিতার গুরুত্ব

৮২. (আমাদের কথা বিশ্বাস না হলে) যে জনপদে আমরা ছিলাম, তার অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করুন এবং যে যাত্রীদলের সঙ্গে আমরা এসেছি, তাদেরও জিজ্ঞেস করুন। আমরা অবশ্যই সত্য বলছি।

[সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮২ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা বিনিয়ামিনের ব্যাপারে সত্য কথা বলেছিল। তারা বলেছিল, বিনিয়ামিন চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা নিজেদের থেকে তার কোনো ক্ষতি করিনি। তারা সত্য কথা বললেও বাবা ইয়াকুব (আ.) তাদের কথা বিশ্বাস করেননি। কারণ তারা এর আগে ইউসুফ (আ.)-এর ব্যাপারে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিল। আর বিশ্বাস এমন একটি জিনিস, একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। প্রসঙ্গক্রমে এখানে ইসলামের দৃষ্টিতে সততা ও সত্যবাদিতার গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনা করা হলো :

ইসলামের দৃষ্টিতে যেকোনো পরিস্থিতিতে সততা ও সত্যবাদিতায় সমূহ কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যদি আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা তারা সত্যে পরিণত করত, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। ’ (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ২১)

সত্যবাদিতার পুরস্কার জান্নাত, আর মিথ্যার শাস্তি জাহান্নাম।

হজরত আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবনে আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে মুখস্থ করেছি, ‘যা তোমাকে সন্দেহে পতিত করে, তা ছেড়ে দিয়ে এমন বস্তুর দিকে যাও, যা তোমাকে সন্দেহে পতিত করে না। সততা ও সত্যবাদিতা নিশ্চয়ই প্রশান্তিদায়ক আর মিথ্যা সন্দেহ সৃষ্টিকারী। ’ (তিরমিজি শরিফ)

এ থেকে বোঝা যায়, মানুষ সত্য কথা বলে মনে প্রশান্তি লাভ করে, যদিও তা নিজেদের বিরুদ্ধে যায়। অন্যদিকে মানুষ মিথ্যা বলে মানসিকভাবে চিন্তিত থাকে। ভয় করে লোকসমাজে আমার মিথ্যা ধরা পড়ে যায় কি না।

সত্যের বিপরীত বস্তু হলো মিথ্যা। মিথ্যা শয়তানের অন্যতম ধারালো অস্ত্র। মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহ। মিথ্যাবাদী মানবসমাজের বড় শত্রু। মিথ্যাবাদীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয় তারাই মিথ্যা আরোপ করে যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে না। প্রকৃতপক্ষে তারাই হলো মিথ্যাবাদী। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৫)

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘এটি একটি বড় বিশ্বাসঘাতকতা যে তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছ এবং সে তোমাকে বিশ্বাস করে, অথচ তুমি তাকে মিথ্যা বলছ। ’ (আততারগিব, তৃতীয় খণ্ড, পৃ. ৫৯৬)

মিথ্যা বলার কারণে সমাজে কপটতার প্রসার হয়। কেননা সব ধরনের কপটতার উৎস হলো মিথ্যাবাদিতা। বহু অপরাধের সঙ্গে মিথ্যাবাদিতা জড়িত। যেমন—খেয়ানত, গুজব ছড়ানো, মাপে কম দেওয়া, চুক্তি ভঙ্গ করা ইত্যাদি। একটি মিথ্যা অনেক মিথ্যার জন্ম দেয়। একটি মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করতে আরো অনেক মিথ্যা কথা বলতে হয়। যারা মিথ্যা কথা বলে তারা অন্যদেরও মিথ্যাবাদী মনে করে। ফলে সমাজে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়। এমনকি মিথ্যাবাদীরা নিজেদের ওপর থেকেও আস্থা হারিয়ে ফেলে। মিথ্যাবাদীরা সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে। মিথ্যাবাদীদের দায়িত্বজ্ঞান লোপ পায়। মিথ্যাবাদীদের সমাজে কোনো সম্মান থাকে না। তাই তারা নির্লজ্জের মতো যেকোনো ধরনের কাজে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সর্বোপরি মিথ্যাবাদীরা আল্লাহর রহমত ও হেদায়েত থেকে বঞ্চিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মিথ্যাবাদী, অবিশ্বাসীকে সত্পথে পরিচালিত করেন না। ’ (সুরা : যুমার, আয়াত : ৩)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য