kalerkantho


রাজনীতিতে রাজনীতির খেলা

এ কে এম আতিকুর রহমান

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজনীতিতে রাজনীতির খেলা

রাজনীতি অর্থাৎ পলিটিকস গ্রিক শব্দ ‘পলিটিকা’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘শহরের বিষয়াবলি’। তাই ধারণা করা হয় যে শহরসভ্যতাকে কেন্দ্র করেই ‘রাজনীতি’ বিষয়টির ভিত্তি গড়ে ওঠে।

সময় এগিয়ে চলে; শহরের চেয়ে বড় আকারের ভূখণ্ড, যা রাষ্ট্র বা দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়, তা সংগঠিত করা ও পরিচালনার প্রশ্ন আসে। সীমিত পরিসর থেকে বেরিয়ে আসে রাজনীতির চর্চা। প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির প্রচলন ও প্রসারণ অবধারিত হয়ে ওঠে। পরিবারে, গ্রামে, শহরে—সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি শব্দটির পরিচিতি শুরু হয়ে যায়। উন্নত-অনুন্নত আর ছোট-বড় সব দেশই রাজনীতির গোলকধাঁধায় প্রতিনিয়ত ঘুরছে। বর্তমান বিশ্বে রাজনীতির কথা শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার।

বলা হয়ে থাকে যে রাজনীতি হচ্ছে ক্ষমতা। আর কে না ক্ষমতা পেতে চায়? কিন্তু ইচ্ছা করলেই কি ক্ষমতা পাওয়া যায়? এই ক্ষমতা অর্জন এবং তা প্রয়োগ করার জন্য প্রয়োজন হয় একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার। আর একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা হচ্ছে এমন একটি কাঠামো, যা একটি সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।

যেহেতু রাজনৈতিক চিন্তাধারার স্রোত কমবেশি প্রাচীন যুগ থেকেই চলে আসছে। তাই এর ইতিহাসটাও বেশ দীর্ঘ ও প্রাচীন। প্লেটোর ‘রিপাবলিক’, তার ছাত্র অ্যারিস্টটলের ‘পলিটিকস’ এবং কনফুসিয়াস কর্মযজ্ঞ আমাদের রাজনীতির আগামাথা চিনিয়ে দেয়।

প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের বিচারে রাজনীতি হতে পারে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক। আনুষ্ঠানিক রাজনীতি বলতে সরকারের সাংবিধানিক পদ্ধতি এবং সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ও আইন-কানুনের বাস্তবায়ন বোঝায়। রাজনৈতিক দল, সরকারি কর্মপন্থা অথবা যুদ্ধ ও বৈদেশিক বিষয়াবলি আনুষ্ঠানিক রাজনীতির আওতায় পড়ে। অনানুষ্ঠানিক রাজনীতি বলতে ঐক্যজোট গঠন, ক্ষমতাচর্চা, সুরক্ষা এবং সুনির্দিষ্ট চিন্তাচেতনা বা লক্ষ্যকে বোঝায়। সাধারণত এ ধরনের রাজনীতি ঘিরে থাকে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনধারা। যেমন—পরিবার বা কর্মক্ষেত্র পরিচালনাপদ্ধতি অথবা কিভাবে একজন আরেকজনের বা এক দল অন্য দলের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে ইত্যাদি। অর্থাৎ অনানুষ্ঠানিক রাজনীতির পদচারণ প্রথাগত দৈনন্দিন কূটকৌশলের ভেতরেই আবর্তিত। আমরা জনসাধারণ এই রাজনীতিকেই ‘রাজনীতি’ হিসেবে বুঝে থাকি। আর এ রাজনীতিই বিরাজ করে আমাদের ঘরে-বাইরে, সর্বত্র।

রাজনীতি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে সংগঠন। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই সংগঠনের আশ্রয় নিতে হবে। রাষ্ট্র, বেসরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন ধরনেরই রাজনৈতিক সংগঠন হতে পারে। সম্ভবত রাষ্ট্রই হচ্ছে রাজনৈতিক শাসনের মুখ্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। এখানে একটি কথা না বলে পারছি না যে রাজনীতির বিচরণ যেমন গণতান্ত্রিক দেশে রয়েছে, তেমনি রয়েছে সামরিক শাসিত বা রাজতান্ত্রিক দেশেও। তবে পার্থক্য শুধু রাজনৈতিক সংগঠনের অস্তিত্ব, কর্মকাণ্ড এবং দেশ শাসনের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ও দলপদ্ধতি—এই তিনটি হচ্ছে আধুনিক রাজনৈতিক কৌশলের মৌলিক উপাদান। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার উভয় ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। প্রশাসন হচ্ছে সরকারের সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি।    

প্রাচীন যুগে রাষ্ট্র ছিল মূলত একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান। একজন রাজা একটি ভূখণ্ড শাসন করতেন। রাজাকে ঘিরে থাকত অভিজাত শ্রেণির একটি ছোট্ট দল। বলতে গেলে, ওই ছোট্ট দলটিই জোর করে জনসংখ্যার বৃহৎ অংশকে শাসন করত। যাহোক, ধীরে ধীরে জনগণ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেল। প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের ক্ষমতা ছিল খুবই সীমিত। তবে সেই শুরু থেকেই কিন্তু আজকের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিকাশ ঘটেছে।

মানুষের মধ্যে ক্ষমতা আর সম্পদের বণ্টন কিভাবে হবে, তা বোঝার আরেক নাম হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতির অনুশীলন প্রাথমিকভাবে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা লাভের জন্য শুরু হলেও পরবর্তীকালে অনেক সময়ই নিজের স্বার্থসিদ্ধির প্রয়াসেই ব্যবহৃত হতে থাকে। রাজনীতির সুদীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে এ কথার সত্যতা পেতে বেগ পেতে হবে না। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশের কল্যাণে রাজনীতির অস্তিত্ব পাওয়া যাক বা না যাক, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনীতির অস্তিত্ব হরহামেশাই দেখা যায়।

আমরা জানি, জনগণের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক চিন্তাচেতনার প্রচার বা প্রয়োগ, অন্য রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, আইন প্রণয়ন, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা ইত্যাদি পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো একটি দলের রাজনীতি পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও আমরা সে ধারাটিই দেখতে পাই। সাধারণত যে দল জনগণের সবচেয়ে বেশি কাছে (বাহ্যিকভাবে হলেও) যেতে পারে, সে দলের সফলতা তত বেশি। দেশ চালানোর সুযোগ তারাই পেয়ে থাকে। তাই সব দলেরই ওই লক্ষ্য থাকে। তবে অনেক সময় যে তার ব্যতিক্রম ঘটতে পারে, এমন উদাহরণও আমাদের জানা আছে।  

বাংলাদেশের এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানকার মানুষ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই বা রাজনীতির খোঁজখবর রাখে না। যাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে থাকেন। যাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন, তাঁদের কেউ হয়তো সমর্থক, কেউ বা শুধুই ভোটের সময় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে থাকেন। তাঁদের সংখ্যাই হয়তো সবচেয়ে বেশি।

একটি রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যেমন নেতা থাকেন, তেমনি দলের কাজ করার জন্য থাকে অসংখ্য কর্মী। কর্মীদের যেমন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হয়, তেমনি কর্মীদের প্রতি নেতাদের আস্থা ও বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন। দলে ভালো নেতা থাকলেও যদি ভালো কর্মী না থাকে, তাহলে ওই রাজনৈতিক দলটি কোনো দিনও দেশের নেতৃত্বে আসতে সক্ষম হয় না। আবার নিবেদিত কর্মী থাকা সত্ত্বেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দল টিকে থাকতে পারে না। অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দলে নেতা ও কর্মী একে অন্যের পরিপূরক। কিন্তু আরেকটি সত্যও এখানে স্পষ্ট হয়ে আমাদের কাছে ধরা দিয়ে থাকে। সেটি হলো, দলীয় রাজনীতিতে চলা কুৎসিত রাজনীতি।

দলীয় রাজনীতিতে রাজনীতির ধারা দুইভাবে প্রবাহিত—আন্তর্দলীয় ও অভ্যন্তরীণ। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আন্তর্দলীয় রাজনীতি থাকবেই। কৌশলগত কারণেই এটি হয়ে থাকে বা করতে হয়। রাজনৈতিকভাবে দলকে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এটি থাকতেই হবে। এ ক্ষেত্রে যে দল যত সময়োপযোগী রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়ন করতে পারবে সে দল রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ততই লাভবান হবে। রাজনীতিতে এটি দোষের কিছু নয়। তবে দলীয় কর্মকাণ্ড বা নেতাকর্মীদের আচার-আচরণ যেন কোনোভাবেই শিষ্টাচারের বেড়াজাল ছিন্ন না করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক। সব কিছুই হবে রাজনৈতিক দলগুলোর সুন্দর সহাবস্থান পরিবেশের মধ্যে। একটি দলের কৌশল যাতে কোনোক্রমেই অন্য দলের সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, রাজনৈতিক পরিবেশ কলুষিত না করে।

দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বা গ্রুপিং এবং অন্তঃকলহ একটি রাজনৈতিক দলের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। অনেক সময় এটি এক ভয়াবহ রূপ গ্রহণ করে দলের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। বাংলাদেশে ছোট দল-বড় দল-নির্বিশেষে এমন অনেক উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে। এসবের পেছনে রয়েছে নেতৃত্বের বা কর্তৃত্বের লোভ। এই খেলা চলছে তৃণমূল রাজনৈতিক স্তর থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত। তবে যে দলের অভ্যন্তরে কঠোর শৃঙ্খলা রয়েছে অর্থাৎ দলীয় নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে পালিত হয়, সে দলের রাজনীতিতে রাজনীতির খেলা এতটা খোলামেলা চলতে পারে না, অনেকটাই সীমিত থাকে। দলের অভ্যন্তরের শৃঙ্খলা বা নেতৃত্বের প্রতি আস্থা সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা পাওয়া যায় ইদানীং হয়ে যাওয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল বা জেলা পরিষদের নির্বাচন থেকে। জাতীয় নির্বাচনেও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি হয়েছে কি না তা রাজনৈতিক দলগুলোই বলতে পারবে। একটি দলের নেতা ও কর্মী যে-ই হোক না কেন, যদি দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটে, তার সেই দলে থাকার কোনো অর্থ হয় না। বরং এতে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচন যাতে সঠিকভাবে হয়, যোগ্য ব্যক্তিই যাতে দলের মনোনয়ন পান সেদিকে লক্ষ রাখা দরকার।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে রাজনীতির খেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তৃণমূল আর মধ্যপর্যায়ের কর্মী বা নেতারা। প্রায়ই দেখা যায়, একই দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলি। দু-একজন মারা যায়, বেশ কয়েকজন আহত হয়। মামলা আর পুলিশের ধরপাকড় চলে। কর্মীরা গাঢাকা দিতে বাধ্য হয়। নেতারা কিন্তু বহাল তবিয়তে থাকেন। এ ক্ষেত্রেও দলীয় গ্রুপিং কাজ করছে। সবাই যদি একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে থাকবেন, তাহলে তো এমনটি হওয়ার কথা নয়। এখানে আদর্শ নয়, নেতৃত্ব, প্রতিপত্তি আর প্রভাব বিস্তারের জন্য চলে এসব খেলা। এসব বিষয় কারো অজানা নয়। অথচ এভাবেই চলছে রাজনীতির চাকা।   

লেখাটি শেষ করতে চাই একটি ঘটনার কথা বলে। একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতার (তিনি তখন একজন মন্ত্রী) কাছে একদিন ওই দলের এক উপজেলা কমিটির সেক্রেটারি দেখা করতে এলেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি মন্ত্রীর একান্ত সচিবকে নিজের পরিচয় দিয়ে সাক্ষাতের বিষয়টি জানালেন। একান্ত সচিব যথারীতি ওই ব্যক্তির নামধাম লিখে একটি স্লিপ মন্ত্রীকে দিয়ে এলেন। মন্ত্রী ডাকলেই তিনি মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করবেন। তাই একান্ত সচিবের কক্ষেই তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন। এরই মধ্যে তাঁকে চা-বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়নও করা হয়েছে। ঘণ্টা দুয়েক পর ভদ্রলোক একান্ত সচিবকে স্মরণ করিয়ে দিতেই একান্ত সচিব মন্ত্রীর কক্ষে গিয়ে মন্ত্রীকে বললেন। মন্ত্রী সময় হলেই তাঁকে ডাকবেন বলে জানালেন। আবার অপেক্ষা। প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর মন্ত্রীর কক্ষে তাঁর ডাক পড়ল। কিন্তু ততক্ষণে মন্ত্রীর আরেকটি প্রগ্রামে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। কী আর করা? কুশল বিনিময়ের দু-একটি কথা বলেই সাক্ষাৎ শেষ করতে হলো। মন্ত্রী তাঁরই সামনে একান্ত সচিবকে ধমকালেন এত বিলম্বে তাঁর আগমনের সংবাদটি জানানোর জন্য। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী রাজনীতি করলেন নিজের দলের কর্মীর সঙ্গে। এত কষ্ট করে দূর প্রান্ত থেকে আসা কর্মীর কথা শোনার সময় হলো না তাঁর দলেরই নেতার। আসলে ওই কর্মী ছিলেন মন্ত্রীর বিরোধী গ্রুপের লোক। অর্থাৎ দলের ভেতর যে বিভাজন, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল, ভেঙে যাচ্ছে নেতাদের ওপর কর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাস। দেশ বঞ্চিত হচ্ছে সঠিক দিকনির্দেশনা বা সেবা থেকে। রাজনীতিতে রাজনীতির খেলা অতীতে থাকলেও বর্তমানে তার ব্যাপকতা যে প্রকট আকার ধারণ করেছে, তা দলের জন্য যেমন কাম্য নয়, তেমনি শুভ নয় দেশের জন্য।   

 

লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত

 


মন্তব্য