kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

কবীর চৌধুরী

কবীর চৌধুরী জাতীয় অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ, লেখক, সংস্কৃতি ও সমাজকর্মী। ১৯২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম। পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলার চাটখিলের গোপাইরবাগ গ্রামে। বাবা খানবাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ও মা উম্মে কবীর আফিয়া চৌধুরী। কবীর চৌধুরী ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুটিতেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। আরো পরে ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন সাহিত্য এবং সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনের ওপর উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন শুরু শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক সম্মানে ভূষিত করা হয়। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

কবীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম বহুমুখী ও বস্তুনিষ্ঠ। তাঁর রচিত, সম্পাদিত ও অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। তিনি ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষায় রচনা ও অনুবাদ করেছেন। বাঙালি পাঠকদের বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা, অন্যদিকে বাংলা সাহিত্যকে ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে বিদেশি পাঠকদের সামনে তুলে ধরা ছিল কবীর চৌধুরীর অনুবাদকর্মের অনন্য সাফল্য। প্রগতিশীল, সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে তিনি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিষয়াবলিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর বইয়ের মধ্যে আছে ‘অ্যাবসার্ড নাটক’, ‘মার্কিন উপন্যাস ও তার ঐতিহ্য’, ‘ইউরোপের দশ নাট্যকার’, ‘শেকসপিয়ার ও তাঁর মানুষেরা’, ‘শেকসপিয়ার ও গ্লোব থিয়েটার’, ‘অভিব্যক্তিবাদী নাটক’ প্রভৃতি। তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, একুশে পদকসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য