kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম

৮১. (বড় ভাই বলল) তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বলো, হে আমাদের পিতা, আপনার পুত্র চুরি করেছে। আমরা যা জানি, তারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম (সাক্ষ্য দিলাম), আর অজানা বিষয়ে আমরা সংরক্ষণকারী নই। [সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮১ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতের মূলকথা হলো, বিনিয়ামিন কথিত চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বড় ভাই দেশে ফেরেনি। তার শেখানো পরামর্শ অনুযায়ী ভাইয়েরা পিতা ইয়াকুব (আ.)-এর কাছে গিয়ে বলে, আপনার ছেলে চুরি করেছে। চুরির ঘটনা আমরা নিজেদের চোখে দেখেছি। আমাদের সামনেই তার আসবাবপত্র থেকে চোরাই মাল বের করা হয়েছে। তাই অনেক চেষ্টা করেও তাকে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। এ আয়াতের তাফসির করতে গিয়ে তাফসিরবিদরা ইসলামী শরিয়ত ও আদালত অনুযায়ী সাক্ষ্য ও সাক্ষীর স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে এখানে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম নিয়ে আলোচনা করা হলো—

ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া জঘন্যতম গুনাহর কাজ। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। এই অবস্থায় তিনি সাহাবাদের বলেন, কবিরা গুনাহ সম্পর্কে কি আমি তোমাদের বলব? সাহাবারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল, বলুন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, অন্যতম কবিরা গুনাহ হলো, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা (শিরক করা), মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া। এ কথা বলে নবী করিম (সা.) সোজা হয়ে বসেছেন এবং বলেছেন, মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া। এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৬৫৪)

মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে মুক্তি ও কল্যাণ লাভের সব পথ চিররুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এমন ব্যক্তির কোনো কাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করতে পারল না, তার রোজা রেখে পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৫৭)

কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য ও অপবাদ রটনার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির ওপর জুলুম করা হয়। আর জুলুমের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেয়। এ বিপর্যয় কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ওপর আসে না, বরং সবাই এর ভুক্তভোগী হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকার জন্য সতর্ক করেছেন। কেননা আল্লাহ তাআলা মজলুমের দোয়া কখনো ফেরত দেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা ভয় করো ফিতনাকে, যা তোমাদের মধ্য থেকে শুধু জালিমদের ওপরই আপতিত হবে না (সবার ওপর আসবে)। আর জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহ আজাব দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর। ’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৫)

কেউ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করলে তা অভিযোগকারীর জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করল, সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নিল। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৫০৮)

মানুষের জীবন দুনিয়ায়ই শেষ নয়। পরকালের অনন্ত জীবনই মানুষের প্রকৃত ও আসল জীবন। সেখানেই তাকে চিরকাল অবস্থান করতে হবে। সত্য চিরস্থায়ী। আর অপবাদ সব সময় ক্ষণস্থায়ী। এর স্থায়িত্ব একেবারে সাময়িক। এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দেখো, তারা কিভাবে মিথ্যা বলেছে নিজেদের সম্পর্কে, তারা যে মিথ্যা রটনা করত, (পরকালে) তা তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেল। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ২৪

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য