kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ দেশের খ্যাতিমান কবি। পুরো নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান। তাঁর বাবা আবদুল জব্বার খান ছিলেন বিচারপতি ও স্পিকার। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতার সূচনা হলেও এর বিকাশ স্বাধীনতা আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে জনমানুষের আশা-নিরাশা, স্বপ্ন-বাস্তবতায়। তাঁর জন্ম ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচরের ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে। তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু। ১৯৫৭ সালে যোগ দেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে। ১৯৮২ সালে তিনি কৃষি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ১৯৮৪ সালে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। ১৯৯১ সালে তিনি এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের এফএওর অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে অবসরগ্রহণের সময় মহাপরিচালক ছিলেন।

১৯৫৫ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাত নরী হার’ প্রকাশিত হয়। পরে লেখেন ‘কখনো রং কখনো সুর’ ও ‘কমলের চোখ’। এগুলো মূলত গীতধর্মী। পরবর্তী সময়ে তিনি মহাকাব্যিক কাব্যরীতিতে অভ্যস্ত হন এবং এই ভঙ্গিতেই লেখেন সর্বাধিক জননন্দিত কাব্যগ্রন্থ ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ (১৯৮১)। ‘সহিষ্ণু প্রতীক্ষা’, ‘বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থ দুটিতেও মহাকাব্যিকতা লক্ষণীয়। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—‘আমার সময়’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘আমার সকল কথা’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ ও ‘মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ’। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাধর্মী গ্রন্থ লিখেছেন। তিনি একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ‘পদাবলি’ নামে কবিদের নিয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সংগঠনটি আশির দশকে দর্শনীর বিনিময়ে কবিতাসন্ধ্যার আয়োজন করত। তিনি ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মারা যান।

 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য