kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

বিনিয়ামিনকে মিসরে রেখে ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের প্রস্থান

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিনিয়ামিনকে মিসরে রেখে ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের প্রস্থান

৮১. (বড় ভাই বলল) তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বলো, হে আমাদের পিতা! আপনার পুত্র চুরি করেছে। আমরা যা জানি, তারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম (সাক্ষ্য দিলাম), আর অজানা বিষয়ে আমরা সংরক্ষণকারী নই।

[সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮১ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, বিনিয়ামিনের মুক্তির ব্যাপারে ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা নিরাশ হয়ে যায়। তারা কর্মপন্থা স্থির করার জন্য নির্জনে পরামর্শ করে। তখন তাদের জ্যেষ্ঠ ভাই বাড়ি ফিরে যেতে রাজি হয়নি। সে বলল, আমি মিসরেই থেকে যাব। তোমরা বাড়ি ফিরে যাও এবং বাবাকে যা প্রত্যক্ষ করেছ, তার বিবরণ দাও। গিয়ে বলো, বিনিয়ামিন চুরির অপরাধে আটক হয়েছে।

মূল কথা হলো, ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা তাঁর স্পষ্ট জবাব শুনে সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়ে। তারা বিনিয়ামিনকে ফেরত নিয়ে যেতে না পারায় মারাত্মক দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। এ অবস্থায় নিজেদের করণীয় নির্ধারণে তারা একটি নির্জন জায়গায় একত্রে বসে পরামর্শ করে।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভাই বলে উঠল, তোমরা পিতার কাছে বিনিয়ামিনকে নিরাপদে ফেরত পৌঁছানের বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম করেছ। এর আগে ইউসুফের সঙ্গে যে অন্যায় আচরণ করেছ, তা-ও স্মরণ করে দেখো। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফেরত গেলে আমি পিতার কাছে মুখ দেখাতে পারব না। তাই আমি দেশে ফেরত যাচ্ছি না। এটাই আমার সিদ্ধান্ত।

এখানে ‘বড় ভাই’ বলে ‘ইয়াহুদা’কে বোঝানো হয়েছে। তিনিই ছিলেন তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড়। ইউসুফ (আ.)-কে শৈশবে হত্যা না করার বিষয়ে তিনিই অন্য ভাইদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে কেউ কেউ বলেছেন, বড় ভাইয়ের নাম শামউন। তিনি প্রভাব-প্রতিপত্তি, বুদ্ধিমত্তা ও মর্যাদার দিক থেকে সবার মধ্যে বড় বলে গণ্য হতেন। তিনিই গোপনে অন্ধকূপে ইউসুফ (আ.)-এর জন্য খাদ্য সরবরাহ করেছিলেন এবং সারাক্ষণ ইউসুফ (আ.)-এর তদারকি করতেন। এ বিষয়টি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়াতের মধ্যভাগে বলা হয়েছে : ‘আমরা যা জানি, তারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম। ’ আয়াতের এ অংশের ব্যাখ্যায় তাফসিরে মা’আরেফুল কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, মানুষ যখন কারো সঙ্গে কোনো বিষয়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তখন তা বাহ্যিক অবস্থার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। অজানা বিষয়ের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয় না। ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা তাঁদের পিতার সঙ্গে যে অঙ্গীকার করেছিল, তা ছিল তাদের আয়ত্তাধীন বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিনিয়ামিন কথিত চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ায় তাদের অঙ্গীকারে কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। এ বিষয়টিই একবাক্যে তারা বলেছে, ‘আমরা যা জানি, তারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম। ’ (মা’আরেফুল কোরআন)

আল্লামা ইবনুল জাওজি (রহ.) লিখেছেন, আয়াতের এ অংশের দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে। এক. আমরা বিনিয়ামিনের চুরির বিষয়ে যা দেখেছি, তা-ই বলেছি। বানিয়ে কিছু বলিনি। আমরা দেখেছি, চুরি করা পেয়ালাটি তার সামানপত্রে পাওয়া গেছে। কাজেই বাহ্যিকভাবে আমরা যা দেখেছি, তারই প্রত্যক্ষ বিবরণ তুলে ধরেছি।

দুই. আমরা রাজার দরবারে সেটাই সাক্ষ্য দিয়েছি, যা আপনার ধর্ম ও শিক্ষা থেকে জেনেছি। আমরা রাজাকে বলেছি, আমাদের ধর্ম মতে, চোরকে কৃতদাস হিসেবে রেখে দেওয়া হয়। তাই পারিবারিক জ্ঞান ও শিক্ষার বাইরে আমরা কোনো কাজ করিনি। (জাদুল মাসির : ২/৪৬২)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য