kalerkantho


বিমানের বাঁচার আকুতি

মো. জাকির হোসেন

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিমানের বাঁচার আকুতি

জন্মের সময় আমার নাম ছিল এয়ার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল। পরে আমার নাম পাল্টে রাখা হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। অবশ্য সংক্ষেপে সবাই আমাকে বিমান বলেই ডাকে। যা উড়তে পারে এমন যন্ত্র বোঝাতে প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত শব্দ ‘ভিমান’ থেকে আমার নামের উকাত্তি। আমার জন্ম ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম হয়নি আমার। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি ডগলাস ডিসি-৩ বিমান নিয়ে জাতির আকাশ বাহন হিসেবে আমার যাত্রা শুরু। দুর্ভাগ্যবশত এই ডিসি-৩ বিমানটি যাত্রীসেবার জন্য পাখা মেলার আগেই ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ দুটি ফকার এফ-২৭ বিমান সংগ্রহ করে। অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান পরিচালনার তিন দিন আগে ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ ব্রিটেন থেকে সংগৃহীত একটি বোয়িং ৭০৭ চার্টার্ড প্লেন দিয়ে লন্ডন থেকে ১৭৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় অবতরণের মাধ্যমে আমার আন্তর্জাতিক বিচরণ শুরু। ১৯৭২ সালের ৭ মার্চ ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের এবং ৯ মার্চ ঢাকার সঙ্গে যশোরের যোগাযোগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রুটে আমার যাত্রা শুরু।

সূচনালগ্ন থেকেই আমার পুরো মালিকানা ছিল বাংলাদেশ সরকারের। ১৯৭৭ সালে আমাকে একটি পাবলিক সেক্টর করপোরেশনে পরিণত করা হয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে ২৩ জুলাই ২০০৭ সালে আমাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ পাবলিক লিমিটেড কম্পানিতে পরিণত করা হয়। পাবলিক লিমিটেড করার পরও আমার অর্থ সংকট কাটেনি। আমার বহরে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যোগ করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৮০ কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৯১ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬০০ কোটি ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২১৪ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে আমার। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ লোকসানের পরিমাণ ১৯৮ কোটি ৮০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। গত দুই বছরে আমি লাভজনক অবস্থানে এলেও আমার পুঞ্জীভূত লোকসান এখনো ৮০৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর্থিক দৈন্যের কারণে আমার কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সারচার্জ বাবদ পাওনা এক হাজার ২৫১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মওকুফ চেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। এর আগেও ২০০৮ সালে আরেকবার বেবিচক কর্তৃক আরোপিত সারচার্জ এক হাজার ২১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা মওকুফ করা হয়।

বাংলার অন্য ১০টি প্রতিষ্ঠানের মতো আমি নই। আমি দেশের পতাকা বহন করি। বাংলা ও বাঙালির মর্যাদা ও অহংকারের প্রতীক আমি। আমি রাষ্ট্রের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী তুলে ধরি। সাদা বলাকা আমার পরিচয়ের প্রতীক হলেও আমার সঙ্গে যারা কাজ করছে তাদের অনেকেরই হৃদয়ের ভেতরটা বড় বেশি কালো। কালো হৃদয়ের এ দুর্বৃত্তরা দশকের পর দশক ধরে খুবলে খেয়েছে আমাকে। ৪৪ বছর ধরে আমার সমুদয় সম্ভাবনা বিনষ্ট করতে করতে এখন আমাকে একেবারে শূন্যের কোটায় নিয়ে এসেছে। আমার সুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বেশির ভাগই আত্মসাৎ করা হয়ে থাকে। বল্গাহীন দুর্নীতির কারণে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বলেও আমি পরিচিতি পেয়েছি। নানা রকম কারসাজি ও ফন্দিফিকিরের মাধ্যমে সিন্ডিকেট গঠন করে কমিশন বাণিজ্যসহ বড় ধরনের নিয়োগ দুর্নীতি, লোকদেখানো জিনিসপত্র ক্রয়, বিমানের টিকিট বিক্রয় প্রতিনিধিদের (সেলস এজেন্ট) কাছে পাওনা কোটি কোটি টাকা আদায় না করে উপরন্তু টিকিট বিক্রয় প্রতিনিধিদের অতিরিক্ত প্রণোদনামূলক অর্থ প্রদান ও ভুয়া মেরামত বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ আমাকে বিপর্যস্ত করেছে। ব্যাপক দুর্নীতির পাশাপাশি অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক কারণে অলাভজনক রুটে বিমান চালনা ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবল নিয়োগে বড় অপুষ্টির শিকার আমি। ১৯৯৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিমানে পাঁচ হাজার ২৫৩ জন কর্মকর্তা ছিলেন, যেখানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস প্রায় সমানসংখ্যক দাপ্তরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে বিমান বাংলাদেশের চেয়ে ১০ গুণ বেশি বিমান পরিচালনা করতে সক্ষম ছিল। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাই সাবেক ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার শামীম এস্কান্দারকে গ্রেপ্তার করে। শামীম এস্কান্দারের গ্রেপ্তারের আগে তাঁর সহযোগী আরো প্রায় ৩৫ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। অন্যদিকে অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের নিরীক্ষায় ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৪টি খাতে ৪২২ কোটি ৭২ লাখ টাকার অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুসরণ না করা, দরপত্রে অনিয়ম, চুক্তি মোতাবেক কাজ সম্পাদন না করার কারণে এসব আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে নতুন আতঙ্ক যুক্ত হয়েছে আমাকে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে। গত তিন বছরে এক হাজার ৫৮ কেজি সোনা আটক করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চোরাচালানের তুলনায় আটকের পরিমাণ নগণ্য। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক সোনা চোরাচালানের ঘটনায় আমার কাজের সঙ্গে যুক্ত ৭৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে ১০ জন পাইলট ও ৩০ জনেরও বেশি কেবিন ক্রু রয়েছেন। কিছু ফ্লাইটে অত্যন্ত কৌশলে স্পর্শকাতর অংশে সোনাসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য বহন করায় আমার নিরাপত্তায়ও হুমকির নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

দুর্নীতি, অদক্ষতা আর অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে আমি শুধু আস্থা আর সম্মানই হারাইনি, আমার নামে ব্যবহৃত ট্যাগলাইন বা স্লোগান ‘আকাশে শান্তির নীড়’ এখন ভয়ানক অশান্তি আর নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো উড়ন্ত আমার ডানা খুলে পড়ছে, কখনো রানওয়েতে নামতে গিয়ে চাকা খুলছে না, উড্ডয়নের পর আবার জরুরি অবতরণ করতে হচ্ছে হামেশাই, আবার কখনো বা রানওয়েতে ধাতববস্তু পড়ে থাকায় অবতরণে বিলম্ব হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে সম্প্রতি সংঘটিত একটি ঘটনায়। গত ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশের আশা-ভরসার প্রতিভূতে পরিণত হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাঙ্গেরি সফরকালে আমার নাট ঢিলা হয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করতে হয়। আমার পরিচর্যাকারী কর্মকর্তাদের ইচ্ছাকৃত আর অবহেলা, যে কারণেই নাট ঢিলা হয়ে থাকুক না কেন, এটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ। নাট ঢিলা ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে খুনের চেষ্টা, আর অনিচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে দণ্ডার্হ হত্যাচেষ্টার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে লোকজন আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের নাট-বল্টু যদি ঢিলা থাকে তাহলে আমজনতাকে বহনকারী বিমানের তো নাট-বল্টুই থাকার কথা নয়।

বাজে গ্রাহকসেবার জন্য দেশ-বিদেশে আমি ব্যাপকভাবে নিন্দিত। অনিয়ন্ত্রিত সময়সূচির জন্য ২০০৭ সালে আমি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর ও দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টসহ অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো থেকে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হই। ২০০৭ সালে হিথরো বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা (বিএএ) আমাকে একটি চিঠি দেয়, যাতে উল্লেখ ছিল যে আমার নিয়ন্ত্রণাধীন বিমান ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বরাদ্দকৃত সময়সূচিতে হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করেনি, যা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) নিয়মানুযায়ী বাধ্যতামূলক। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, যদি বিমান লন্ডনে পরিষেবা চালু রাখতে চায় তাহলে হিথরো বিমানবন্দরের পরিবর্তে স্ট্যান্সড বা গেটউইক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। পরে বিএএর সঙ্গে অলোচনায় বরাদ্দকৃত অবতরণ সময়সূচির অন্ততপক্ষে ৮০ শতাংশ মেনে চলার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পাই। কিন্তু অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে আমার একটি ফ্লাইট হিথরো বিমানবন্দরে তার নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর পৌঁছলে তাকে হিথরোতে অবতরণ করার অনুমতি না দিয়ে জ্বালানি ভরার জন্য গেটউইক বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমাকে হিথরো বিমানবন্দরের সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিমান সংস্থা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। একই সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সময়সূচি না মানার কারণে এর কর্মীদের আমার বিমানবহরে ভ্রমণ না করার সতর্কতা জারি করে। নতুন প্রজন্মের সম্পূর্ণ নতুন ছয়টি বিমান আমার বহরে যুক্ত হওয়ার পরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আর তাই গত বছরের ২৭ নভেম্বরে ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে বিশ্বের নিকৃষ্টতম যে ২১টি বিমান সংস্থার নাম প্রকাশ করেছে তাতে আমার নামটিও জ্বলজ্বল করছে। ফ্লাইট পরিচালনায় সময়সূচি না মানার ক্ষেত্রে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ডিসেম্বর মাসে ঢাকা-কাঠমাণ্ডু-ঢাকা রুটের এক ঘণ্টার ফ্লাইটের জন্য যাত্রীদের প্রায়ই চার থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘ অসহনীয় বিলম্বে অতিষ্ঠ হয়ে বিদেশের বিমানবন্দরে বিদেশিরা যখন বাংলাদেশ নিয়ে তির্যক মন্তব্য করে, তখন আমার কাজের সঙ্গে যুক্ত ভদ্রবেশী দুর্বৃত্তরা, যারা বাংলাদেশের মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করছে, তাদের ওপর আমার প্রচণ্ড রাগ ও ঘৃণা হয়। আমার ভয় হয় সময়সূচির ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত আমার অবস্থাও না আফ্রিকার ওই কুখ্যাত বিমান সংস্থার মতো হয়ে যায় যে বিমান সংস্থার সব বিমানই ছয়-সাত ঘণ্টা বিলম্বে যাত্রা করত। যাত্রীরাও বিলম্বে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। ফলে টিকিটে উল্লিখিত যাত্রার নির্ধারিত সময়ের দুই-তিন ঘণ্টা পর যাত্রীরা বিমান ধরতে আসত। কোনো এক কারণে সংস্থাটিকে একদিন নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়, কিন্তু অধিকাংশ যাত্রী অনুপস্থিত থাকায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বারবার ঘোষণা দিতে থাকে নির্ধারিত সময়ে আমাদের বিমানের যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে বলে আমার দুঃখিত।

একই আকাশ, একই অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো যখন ক্রমাগতই ফুলেফেঁপে উঠছে, তখন বল্গাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হয়ে বাংলা ও বাঙালির মর্যাদা আর অহংকারের প্রতীক হয়েও আমি মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছি। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে হাবুডুবু খাচ্ছি। জাতির জন্য আমি আজ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছি। এ অবস্থা থেকে আমি বাঁচতে চাই। মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। বাংলাদেশের পতাকাবাহী হওয়ায় আমাকে দুর্বৃত্তদের রাহুমুক্ত করতে সরকার বাহাদুর সম্ভব সব কিছুই করবে বলে আশা করি।

 

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

zhossain@justice.com


মন্তব্য