kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

নলিনীকান্ত ভট্টশালী

ইতিহাসবেত্তা, প্রত্নতত্ত্ববিদ, মুদ্রাবিজ্ঞানী, লিপিবিশারদ ও প্রাচীন বিষয়াবলির পণ্ডিত ব্যক্তি নলিনীকান্ত ভট্টশালী। তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির বহু অস্পষ্টতা অপসারণে অবদান রেখেছেন।

নলিনীকান্ত বিক্রমপুরের এক সংস্কৃতিমান পরিবারে ১৮৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। সোনারগাঁর জিআর ইনস্টিটিউশন থেকে এন্ট্রান্স পাস করে তিনি ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট, এফএ ও বিএ এবং ১৯১২ সালে ইতিহাসে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। এ সময় তিনি ‘আ ফরগটেন কিংডম অব ইস্টার্ন বেঙ্গল’ নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধটি  সে সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি প্রবন্ধটি পাঠে মুগ্ধ হন। পরে ১৯১৪ সালে ঢাকায় জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হলে এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নলিনীকান্ত যোগ দেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ বছর এ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের পুরাকীর্তি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাহিত্য বিষয়ে গবেষণায় অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করেন তিনি। তিনি ‘Coins and Chronology of the Early Independent Sultans of Bengal’ (১৯২২) গ্রন্থের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রিফিথ পুরস্কার লাভ করেন। মুদ্রাতত্ত্ব ও মূর্তিতত্ত্বে গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

‘Iconography of Buddhist and Brahmanical Sculptures in the Dacca Museum’ (1929), ‘Catalogue of Coins of Syed A. S. M. Taifoor’ (1936), ‘Catalogue of Coins of Hakim Habibur Rahman Khan’ (১৯৩৬) ইত্যাদি তাঁর গবেষণাগ্রন্থ। এ ছাড়া সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে শুকুর মোহাম্মদ বিরচিত ‘গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস’, কৃত্তিবাস বিরচিত রামায়ণের ‘আদিকাণ্ড’, কবি ভবানীদাস বিরচিত ‘ময়নামতীর গান’ ও ‘মীনচেতন’। এ ছাড়া তিনি কবিতা, গল্প ও নাটক লিখেছেন। তিনি প্রাচীন বাংলা হস্তলিপি বিজ্ঞানের একজন বিশেষজ্ঞ। তাঁর প্রচেষ্টায়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের একটি কেন্দ্র সৃষ্টি হয়েছিল। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। তিনি বহু বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য, প্রাচীন হস্তলিপিবিজ্ঞান ও ইতিহাস পড়িয়েছেন। ১৯৪৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]

 

 


মন্তব্য