kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

কঠিন পরিস্থিতিতে ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের পরামর্শ

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কঠিন পরিস্থিতিতে ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের পরামর্শ

৮০. যখন তারা (বিনিয়ামিনের মুক্তির ব্যাপারে) নিরাশ হয়ে গেল তখন পরামর্শের জন্য একান্তে বসল। তাদের জ্যেষ্ঠ ভাই বলল, তোমরা কি জানো না যে তোমাদের পিতা তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার নিয়েছেন? এর আগেও তোমরা ইউসুফের ব্যাপারে অন্যায় করেছ। তাই আমি কিছুতেই এ দেশ ত্যাগ করব না, যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন অথবা আল্লাহ আমার জন্য কোনো ব্যবস্থা করে দেন। তিনিই তো সর্বোত্তম ব্যবস্থাপক। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮০)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, হজরত ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা বিনিয়ামিনকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তারা আবেদন করেছিল, বিনিয়ামিনের স্থলে অন্য কোনো ভাইকে যেন আটকে রাখা হয়। কিন্তু হজরত ইউসুফ (আ.) তাতে সায় দেননি। বিনিয়ামিনের মুক্তির ব্যাপারে নিরাশ হয়ে তারা কর্মপন্থা স্থির করার জন্য নির্জনে পরামর্শ করে। তখন তাদের জ্যেষ্ঠ ভাই বাড়ি ফিরে যেতে রাজি হয়নি। সে বলল, ‘আমাদের অতীত কর্মকাণ্ড ভালো না। ইউসুফের ঘটনায় বাবা যথেষ্ট আঘাত পেয়েছেন।

বিনিয়ামিনকে আমাদের সঙ্গে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে আমরা আল্লাহর নাম নিয়ে শপথ করেছি। এই অবস্থায় আমি আর বাড়ি ফিরে যাব না, যতক্ষণ না বাবা বাড়ি ফেরার অনুমতি দেন বা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের অনুকূলে কোনো বিধান দেওয়া হয়। ’

এখানে লক্ষণীয় যে কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে পরামর্শের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে পরামর্শ করা ইবাদত। পরামর্শ করে কোনো কাজ করা হলে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব কাজ সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হয়। পরামর্শ করে কাজ করলে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। এ জন্য ইসলাম পরামর্শের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় পরামর্শ করে কাজ করতেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে পরামর্শ করে কাজ করতে বলতেন। একবার হজরত আলী (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যদি এমন কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হই, যা কোরআন ও হাদিসে নেই, তখন কী করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তখন সবাই মিলে পরামর্শ করে নেবে। ’

সামষ্টিক কাজে পরামর্শ করে কাজ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজে পরামর্শ করার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাষ্ট্রপ্রধানরা গণমানুষের প্রতিনিধি। তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সর্বসাধারণের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেওয়া, তাদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করা তাঁদের অন্যতম কর্তব্য। পরামর্শের তাগিদ দিয়ে, বিশ্বাসী মানুষের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের যাবতীয় কাজকর্ম নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক পরামর্শ নিয়ে সাধিত হয়। ’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৩৩)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘(গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো) কাজের বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করো। যদি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নাও, তাহলে আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের ভালোবাসেন। ’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

পরামর্শের নিয়ম হলো, অজু করে পরামর্শের বৈঠকে বসা। প্রথমে একজন দায়িত্ববান সিদ্ধান্তদাতা নির্ধারণ করে নেওয়া। ডান দিক থেকে মতামত নেওয়া শুরু করা। অন্যের মতের বিরোধিতা না করা। পক্ষপাতমুক্ত অভিমত ব্যক্ত করা। দোয়া-দরুদ পড়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত দেওয়া ইত্যাদি।

পরামর্শ করে কাজ করলে সমস্যাপূর্ণ বিষয়ের সহজ সমাধান হয়। এতে ভুল কম হয়। কাজ সুচারু ও সুনিপুণ হয়। মানুষের মধ্যে দলাদলির সৃষ্টি হয় না। কাজ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক হয় না।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য