kalerkantho


‘অপরাধের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘অপরাধের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না’

সহকর্মীকে রোগীর স্বজনরা আহত করার অভিযোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের তালা দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, চিকিৎসা পেশা একটি মহান পেশা। মানুষের জীবন চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে।

মানুষ অসুস্থ হলেই শুধু তাঁদের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকদের সহনীয় আচরণ করা উচিত। তিনি বলেন, একজন রোগী একজন চিকিৎসকের ভালো ব্যবহারে অনেকটাই সুস্থ হয়ে যেতে পারে। আর দুর্ব্যবহারে মানসিকভাবে ভেঙেও পড়তে পারে। রোগীর স্বজনরাও অনেক সময় অন্যায় আচরণ করতে পারে, সেটা সেভাবেই সামলানো দরকার। না হলে এভাবে প্রতিদিনই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। তবে রোগীর স্বজনদের উচিত চিকিৎসকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ভালো আচরণ করে সেবা নেওয়া। কারণ সব চিকিৎসক তো আর একরকম আচরণ করেন না। শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক মীর মাসরুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমসাময়িক বিভিন্ন সংবাদ নিয়ে আবুল কালাম আজাদ বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান মানুষ নিরুপায় হয়ে হাসপাতালে যায় সেবা নিতে। সেখানে যদি বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে, তবে মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়? তিনি জানতে চান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে এক ঘণ্টা জরুরি বিভাগে রোগীদের প্রবেশ বন্ধ ছিল। পরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গেট খুলে দেন বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা। কিন্তু ঘটনা হলো, হাসপাতাল তো আন্দোলনের জায়গা না। এর আগেও সাংবাদিকদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে আবুল কালাম আজাদ জানান, অন্য হাসপাতাল আর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এক না। সারা দেশের যেসব রোগীর চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে করা সম্ভব হয় না, তাদের ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। যেখানে শত শত মানুষের পদচারণ প্রতি মুহূর্তে, সেখানে একটু-আধটু সমস্যা হতেই পারে। তবে সব পক্ষকেই সহনশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজনরা শনিবার রাত ৮টার দিকে তাঁদের এক নারী সহকর্মীকে আহত করে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবিতেই তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

আলোচনার একপর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, শাহজাদপুরে সাংবাদিক শিমুল হত্যার ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি দলের এক নেতার বিরুদ্ধে জনগণ বিক্ষোভ করেছে। সরকারি দলের বলে কি তিনি এতটা সাহস দেখিয়েছেন। সরকার তো কোনো অন্যায় প্রশ্রয় দেয় না। একজন সাংবাদিককে কিভাবে একজন জনপ্রতিনিধি গুলি করে জনসমক্ষে হত্যা করতে পারেন। কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

জবাবে সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতরা যত বড়ই প্রভাবশালী আর যে দলেরই হোক না কেন, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে ছোটখাটো কোন্দল থাকা অস্বাভাবিক নয়, তবে সীমা লঙ্ঘনকারীদের অপরাধের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না।


মন্তব্য