kalerkantho


‘সাংবাদিক কি সত্য খবর লিখবেন না?’

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘সাংবাদিক কি সত্য খবর লিখবেন না?’

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মীরুর ছোড়া গুলিতে আহত সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল নিহত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অনেকে বলছেন, সাংবাদিক শিমুল গোলাগুলির সময় কেন এত ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেন।

এমন মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে বলতে হয়, তাহলে কি সাংবাদিকরা সত্য খবর লিখবেন না? তাঁরা সংবাদ সংগ্রহে রিস্ক নেবেন না? আরো দুঃখজনক হলো, শিমুলের জন্য তাঁর নানিও মারা গেছেন। ছোট থেকেই মাদলা গ্রামে নানির কাছে থাকতেন শিমুল। এ কথা বলেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক রোববারের উপদেষ্টা সম্পাদক সাংবাদিক কাজী সিরাজ। শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো একাত্তর জার্নাল অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক কাওসার আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক মানব কণ্ঠের সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব পুলক ঘটক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এর আগে সেদিন রাজধানীর শাহবাগে থানার পুলিশের হাতে সাংবাদিকরা লাঞ্ছিত হন। এর আগেও এ রকম বহু ঘটনা ঘটেছে।

কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে আনিস আলমগীর বলেন, ‘এটা সত্য যে সাংবাদিকদের পেশাগত কারণে অনেক সময় জীবনও দিতে হচ্ছে। আমরা শিমুলের মৃত্যুতে শোকাহত। তবে সার্বিকভাবে বলতে চাই যে আমাদেরও তো দেখেশুনে পথচলা উচিত। আমাদের দেশে এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত। কোনো হরতাল, পিকেটিং বা মারামারি নেই। দেশে কোনো যুদ্ধংদেহি অবস্থা সৃষ্টি হয়নি যে গোলাগুলিতে পড়ে সাংবাদিককে মারা যেতে হবে। তবে যারা সাংবাদিক হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। ’ তিনি বলেন, শিমুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহজাদপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পৌর শহরে দাঙ্গা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরই মধ্যে বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। বিক্ষোভ হয়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরসহ কয়েক স্থানেও। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ ঘটনায় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে আরো যারা জড়িত, তাদেরও অনুসন্ধান করে বের করতে হবে।

আলোচনার এ পর্যায়ে সাংবাদিক পুলক ঘটক বলেন, ‘আনিস ভাই যেটা বলেছেন—দেশে এমন কোনো যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়নি যে সাংবাদিকরা চরম ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করবেন। আমি এ কথার সঙ্গে একমত হতে পারছি না। কারণ ঘটনার শুরুতে সাংবাদিকরা কিছুই বুঝে উঠতে পারেন না। কারণ ঘটনার শুরুতে বলা যাবে না যে কোন সংবাদ আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘটনার শুরুতেই সাংবাদিকরা তাঁদের কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। ’

জবাবে সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন, ‘না, আমি সেভাবে বলতে চাইনি। কারণ আমি নিজেও একজন সাংবাদিক। বিভিন্ন দেশে গিয়ে যুদ্ধের সময়ও আমার সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে আমার কথা হলো, প্রয়োজনটা আগে, না জীবন আগে—সেটাই দেখতে হবে। তবে ওই পৌর মেয়রের সঙ্গে সাংবাদিকের নিশ্চয়ই কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। ঘটনার পর এখন পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চয়ই সব উদ্ঘাটন করবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যত দূর জেনেছি, শাহজাদপুর থানার ওসি মো. রেজাউল হক বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতেই পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরু, তাঁর ছোট ভাই হাকিমুল হক পিন্টু, হাবিবুল হক মিন্টুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় মামলা হয়েছে। শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদের চাচা এরশাদ আলী ওই মামলা করেন। শুক্রবার ভোরে মেয়রের ছোট ভাই মিন্টুকে এরই মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। এর আগে গ্রেপ্তার করা হয় পিন্টুকে। অন্যদের ধরতেও অভিযান চলছে। এ ছাড়া শিমুলের স্ত্রী নূরুন নাহার বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে আসামি হিসেবে মেয়র মীরু, তাঁর ভাই পিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ছাড়া ২০-২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাই আমরা আশা করব, সাংবাদিক শিমুল হত্যার বিচার হবেই। তবে সাংবাদিকদের আরো সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। ’


মন্তব্য