kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

কামরুল হাসান

চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানের পুরো নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর শিক্ষাজীবন কাটে কলকাতায়। প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন কলকাতার মডেল এমই স্কুল ও কলকাতা মাদ্রাসায়। ১৯৩৮ সালে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে ভর্তি হন এবং ১৯৪৭ সালে চিত্রকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনে চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি তিনি বয়েজ স্কাউট, শরীরচর্চা, ব্রতচারী আন্দোলন, শিশুসংগঠন মণিমেলা, মুকুল ফৌজ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। দেশ বিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে ঢাকায় একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫০ সালে গড়ে তোলেন আর্ট গ্রুপ। ১৯৬০ সালে তিনি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের নকশাকেন্দ্রের প্রধান নকশাবিদ নিযুক্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে অবসরগ্রহণ করেন। কামরুল হাসান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও বেতার দপ্তরের শিল্প বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খানের রক্তপায়ী, হিংস্র মুখমণ্ডলসংবলিত ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ শীর্ষক পোস্টার এঁকে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেও তিনি একটি স্কেচ এঁকে গেছেন ‘দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে’ শিরোনামে।

চিত্রকলায় তিনি লৌকিক ও আধুনিক রীতির মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। তিনি ‘পটুয়া কামরুল হাসান’ নামেও পরিচিতি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চিত্রকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য কামরুল হাসান রাষ্ট্রপতি পুরস্কার, কুমিল্লা ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা, বাংলা একাডেমির ফেলো, কাজী মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পুরস্কারসহ অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর ‘তিনকন্যা’ ও ‘নাইওর’ চিত্রকর্ম অবলম্বনে প্রকাশিত হয়েছে দুটি স্মারক ডাকটিকিট।

 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

 


মন্তব্য