kalerkantho


ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ জরুরি

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ জরুরি

এ মুহূর্তে ৪৫ বছর বয়সী বাংলাদেশ অর্থনীতির শনাক্তযোগ্য বৈশিষ্ট্য—কৃষিনির্ভরতা থেকে শিল্প স্বপ্ন দর্শন, পল্লীপরায়ণতা থেকে নগরযাত্রা, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে বেকারত্বের বেড়াজাল থেকে বের করে আনার অনায়াসলব্ধ প্রয়াস, অসম্ভব কেন্দ্রমুখী এবং নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, ব্যষ্টিবিহীন সামষ্টিকতা, পুষ্টি ধৈর্য ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা-অক্ষমতার দোলাচলে দোদুল্যমান। স্বকল্প স্ববিরোধিতা বিদ্যমান গণতান্ত্রিক বোধ ও বিশ্বাসে এবং আচার ও আচরণে, নগর ও গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের, কৃষিভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের, ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধানে আর কথা ও কাজের গরমিলে।

যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনো দরিদ্র, যে দেশের সব আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো বহিরাগত নানা নীতি-নির্দেশ নিয়ন্ত্রণের নিগড়ে, পরশ্রীকাতরতায় পুষ্ট আর আত্মসমালোচনায় রুষ্ট, সে অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসা-বাণিজ্য বা শিল্প উদ্যোগকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে এবং সার্বিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে উদ্যোগ বা প্রয়াসগুলোর সুরতহাল সুখকর নয়, এ কথা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের জনমিতি বিভাজনে দেখা যায় ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী দরিদ্র বা নিম্নবিত্তের বলয়ে, প্রায় সমসংখ্যক ৪৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি (মধ্যবিত্ত) পর্যায়ের অর্থনৈতিক অবস্থানে, আর উচ্চ ও অতি উচ্চবিত্তে বাকি ১০ শতাংশ। দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের মধ্যকার সমীকরণ সতত পরিবর্তনশীল। দরিদ্র বা নিম্নবিত্তকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণের ধারা আপেক্ষিকতায় আকীর্ণ—যদিও অত্যন্ত মন্থরগতিতে ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু মধ্যবিত্ত যতটা না উচ্চবিত্তে ঊর্ধ্বগামী তার চেয়ে নিম্নবিত্তে নিম্নগামিতার প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর ও জনবহুলতার ভারে ন্যুব্জমান অর্থনীতিতে গ্রামীণ জনস্রোতের দ্রুত নগরাভিমুখিতা গ্রামীণ অর্থনীতিকে তো বটেই, সার্বিক সামাজিক সংহতিকে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।  

নিম্নবিত্তকে মধ্যবিত্তের বলয়ে আনতেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশ ভাবনা। এসএমই সেক্টরের প্রধান কাজই হচ্ছে দরিদ্রদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আনার প্রয়াস। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিকভাবে কর্ম-উদ্যোগী ও সৃজনশীল তৎপরতায় শামিল করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগে তাদের অন্তর্ভুক্তকরণের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল সব দেশেই সনাতন ব্যাংকিং পদ্ধতি এখনো ‘যার টাকা আছে তাকেই টাকা দেওয়া’র নীতিতে পরিচালিত হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের ধ্রুপদী লক্ষ্যমাত্রাই হচ্ছে যেন যার দরকার নেই তাকে টাকা কর্জ দাও। বেশির ভাগ দরিদ্রের টাকার বা পুঁজির প্রয়োজন অথচ তাকে সহজ শর্তে টাকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। সাম্প্রতিককালে inclusive growth বা ‘অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উন্নয়ন’ একটি নতুন ধারণা হিসেবে এলেও এটা যে অর্থায়ন বা ব্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে করা হবে সেটা অত্যন্ত পুরনো। পুঁজি ও ভোগবাদী আদর্শের দ্বারা লালিত বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুপরিকল্পিতভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে নয়, ‘উচ্চবিত্তকে অর্থায়নের ব্যাপারেই’ আগ্রহী। এমতাবস্থায় এই অর্থনীতির স্বতঃসিদ্ধ স্বভাব আর অশুভ সংঘবদ্ধতার (সিন্ডিকেট) বলয় থেকে নিম্নবিত্তকে মধ্যবিত্তে বিচরণ বিহারের সুযোগকে কিভাবে বাঙ্ময় করা যাবে তা ভাবার বিষয় বৈকি।   

গত শতকের সত্তর ও আশির দশক থেকে সহজ শর্তে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তকে ঋণ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা চলছে। বিশেষ করে কিভাবে বিনা বাধাবিপত্তিতে ঋণ দেওয়া যায় এসব নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা আর পরীক্ষা-পর্যালোচনা। এর ভেতরেই একসময়ে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল কৃষিঋণ। সহজ শর্তে এ-জাতীয় ঋণ প্রদানের প্রথা সাধারণত ভোটের আগে বেশিসংখ্যক ভোটারকে (যেহেতু কৃষিপ্রধান দেশে তখনো ৬০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল) তুষ্ট করার জন্য প্রবর্তিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গিয়ে স্বয়ং রাষ্ট্রচালিত বাণিজ্যিক ব্যাংককে (বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক) নিজেই বিপাকে পড়তে হয়।   কেননা দেখা যায় প্রদত্ত এ ঋণের প্রায় ২০ শতাংশ বেহাত হয়ে মধ্যস্বত্বভোগী বিত্তবান মানুষের হাতে চলে গেছে। এত সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কাজে স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা ঢালতে হয়েছে; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষিঋণ অধিশাখার ব্যস্ততার বিবর দেখলে তা বোঝা যায়। কিন্তু সমুদয় ছাড়কৃত অর্থ প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছেনি এবং বেশির ভাগ অর্থ সেচ, উপায়-উপকরণ সংগ্রহ কিংবা সার ও বীজের ব্যবসা বিপণনে নানাভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রকৃত প্রাপকের কাছে টাকা প্রয়োজনীয় পরিমাণে যায়নি। এর ফলে কৃষিব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নকল্পে প্রদত্ত কৃষিঋণ কর্মসূচি প্রায়ই মাঠে মারা গেছে। এই অভিজ্ঞতা আজকের নয়। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির টাকা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ দরিদ্র কৃষককে ঋণ দেওয়ার জন্য নওগাঁর পতিসরে যে কৃষি ব্যাংক চালু করেছিলেন, সেখানে তাঁর বহু টাকা মাঠে মারা গিয়েছিল। এ সূত্রে ‘মাঠে মারা যাওয়া’র বাগিবধিটি রবীন্দ্রনাথের হাতে বেশি ব্যবহৃত হয়। কৃষিঋণের টাকা বেহাত হয়ে মাঠে মার খেয়ে সীমিত থাকলেই অর্থনীতির তেমন কোনো ক্ষতি হতো না। কিন্তু এ টাকা একটি মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি-চরিত্রের দুর্নীতি ও একটি ভুঁইফোঁড় শ্রেণির দুর্বৃত্তায়নের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় সমাজে বরং একটি বৈষম্যই সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সমাজে অন্তর্ভুক্তকরণ না হয়ে বিচ্যুতকরণই বাড়ছে।

পুঁজিপ্রবাহ প্রকৃত বিনিয়োগে না গিয়ে বেহাত হলে একই পুঁজি বিপরীত বা বিরূপ ফলাফল উপস্থাপন করতে পারে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয় অর্থনীতিতে পাবলিক সেক্টরের বিনিয়োগ; কিন্তু এডিপির অর্থ ব্যয় যদি প্রকৃত অর্থে সমষ্টির উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় না হয়ে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা গোত্রের স্বার্থ উদ্ধারে বেহাত হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগ মুদ্রাস্ফীতিসহ দুর্বৃত্তায়নের পৃষ্ঠপোষকতায় নিবেদিত হয়। প্রকৃত কৃষক স্বল্প সুদের কৃষিঋণের সমুদয় টাকা নিজ হাতে না পেয়ে মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল, ফড়িয়া ও ব্যাংকের লোন ডিসবার্সকারীর দুর্নীতির দুর্বিপাকে পড়ে নানা বাধাবিপত্তি মেটাতে গিয়ে যথাসময়ে টাকা না পেয়ে এ টাকা তার প্রকৃত উৎপাদনের কাজে লাগাতে পারেনি। উপরন্তু নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বীজ ও সারের অপ্রতুলতার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তার ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে বকেয়া পড়ে গেছে। এমনও দেখা গেছে, সাত হাজার ৫০০ টাকা কৃষিঋণ নেওয়া হয়েছে ১৯৮৮ সালে। খাতক ১৯৯৯ সালে মারা গেছেন। ২০১১ সালে কৃষি ব্যাংক থেকে খাতকের ঠিকানায় প্রায় ৯৮ হাজার টাকা বকেয়া (সুদ-আসলসহ) দাবি করে নোটিশ জারি করা হয়েছে। খাতকের বিধবা স্ত্রী ও বেকার সন্তানরা এ নোটিশ পেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে, এ ঋণ অবলোপন কিংবা মাপ করার পদ্ধতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনেক নীতি-নির্দেশনার আলোকে সহজসাধ্য নয়। যত দূর জানা যায়, ১৯৮৮ সালে খাতক এ টাকা নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত ও বিশেষ কাজের জন্য। তা ছাড়া সে টাকা পেতে খাতককে কিছু বাড়তি খরচও করতে হয়েছিল। এমনকি সে টাকা তার কৃষি উন্নয়নে বীজ ও সার সংগ্রহে ব্যবহার হয়েছিল কি না মরহুমের পরিবারের সদস্যরা তা জানতে পারেনি।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তা পুঁজি ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মতো কর্মপরিকল্পনা ও ভাবনায় বিগত তিন দশকে বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গৃহীত হলেও সেটি সাফল্যের মুখ দেখতে পায়নি। এসব কর্ম-উদ্যোগের বাস্তবায়নের অগ্রগতিও অত্যন্ত মন্থর। এত দিন বা এ পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তার সংজ্ঞা ও এর আওতা নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের বস্তুগত উন্নয়ন সাধন সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের স্বার্থ এবং এর বিকাশ ভাবনায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশন গঠিত হয়েছে। কিন্তু নীতিনির্ধারণ, পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের ক্ষেত্রে এ ফাউন্ডেশনের পক্ষে বশংবদ সীমাবদ্ধতার দেয়াল টপকানো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। সনাতন ব্যাংকিং পদ্ধতি, অপর্যাপ্ত পুঁজির প্রবাহ এবং নীতিনির্ধারণগত যূথবদ্ধতার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা প্রাণ পেয়েও হালে পানি পাননি। দেশে বহু বিলাসবহুল বিত্তশালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবং এখনো হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো সবই শহরকেন্দ্রিক ও বৃহৎ উদ্যোক্তার হাতে বন্দি। ফলে দেখা যায় ব্যাংকগুলোতে পল্লী এলাকার উৎস থেকে টাকা জমা হলেও সে টাকা থেকে অর্ধেকেরও কম টাকা গ্রামাঞ্চলে বিনিয়োগ হয়েছে। বাকি সবই শহরকেন্দ্রিক ব্যাংকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে। নগরবন্দি ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ শাখা খোলার তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায় না এবং বড় অনেক আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটেছে শহরের বড় ব্যাংকে। ফলে প্রকারান্তরে গ্রামীণ পুঁজিতে টান পড়েছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রায় ৬৭.২২ শতাংশ এসএমই লোন গেছে টুকটাক ব্যবসায়। উৎপাদন খাতে গেছে ২৭.৫৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে মাত্র ৫.২৫ শতাংশ। এ থেকে বোঝা যায়, এখনো এসএমই ঋণ উদ্দেশ্য অভিমুখী হতে পারেনি। বরং হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, ডেসটিনির মতো বড় ধরনের অনিয়ম কেলেঙ্কারির শিকার হয়েছে গ্রামীণ অর্থ খাত। গ্রামীণ সরল মানুষেরা যে টাকা পায় না সে টাকা এমএলএম ব্যবসায়ী বা হঠকারী কিছু লোক তাদের অধিক লোভের বশবর্তী করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। সামাজিক অর্থনীতিতে এটা একটা দুষ্ট খাত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এখনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা পৃষ্ঠপোষকতা, প্রণোদনা, শুল্ক কর রেয়াত পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও ফল তাদের অনুকূল হয় না। অন্যদিকে ঘাটে ঘাটে চাঁদা ও মাসোয়ারা প্রদানে মাঝেমধ্যে তাদের মূল পুঁজিতেই টান পড়ে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রারম্ভিক পুঁজি ও কাঁচামাল থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি তথা বিপণন পর্যায়ে একটি সক্ষমতা সৃষ্টিকারী পরিবেশ (enabling environment) প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবস্থান সার্বিক শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের মতো শিল্পোন্নত দেশের প্রাণবায়ু হচ্ছে সে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। টয়োটা ও সনির মতো বড় কংগ্লোমারেট আসলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সমাহারের সমবায়ী ব্যবস্থা।     

বেশি বেকারত্বের ভারে ন্যুব্জ নগরাভিমুখী দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের বাঞ্ছিত পুনর্বাসনের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নই একটি কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিভাত ও পরিগণিত হতে পারত; কিন্তু এখানেও উচ্চবিত্তের কারসাজিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সর্বনাশই সাধিত হয়েছে। ফলে দ্রুত সমাজ ভাঙছে। অস্থিরতা বাড়ছে, নীতি ও নৈতিকতার সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাকে প্রকৃত পুঁজি প্রণোদনা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান ব্যতিরেকে এই অধোগামিতাকে থামানো অসম্ভব ব্যাপার বলে প্রতীয়মান হয়।

 

লেখক : উন্নয়ন অর্থনীতির বিশ্লেষক

 


মন্তব্য