kalerkantho

26th march banner

ব্যক্তিত্ব

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

গোবিন্দচন্দ্র দেব

বিশিষ্ট দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ গোবিন্দচন্দ্র দেবের পুরো নাম গোবিন্দচন্দ্র দেব পুরকায়স্থ। তিনি ১৯০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটের বিয়ানীবাজারের লাউতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের পূর্বপুরুষ ছিলেন ভারতের গুজরাটের বাসিন্দা। গোবিন্দচন্দ্র দেব দর্শনে কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে বিএ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এমএ পাস করেন। তিনি ‘রিজন, ইনটুইশন অ্যান্ড রিয়ালিটি’ নামের গবেষণা রচনা করে ১৯৪৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। কলকাতা ও দিনাজপুর—দুই স্থানের সুরেন্দ্রনাথ কলেজেই তিনি অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে যোগ দেন।

গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন চিন্তাচেতনায় সক্রেটিসের ভাবশিষ্য। দার্শনিক তত্ত্বের পাশাপাশি তিনি সমাজ, সাহিত্য, শিল্প, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনাও করতেন। অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক গোবিন্দচন্দ্র সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে। উপমহাদেশে সমন্বয়ী দার্শনিক ধারার সার্থক প্রবর্তক তিনি। ভাববাদকে তিনি প্রগতির ধারক ও বাহক বলে মনে করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯টি। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—‘আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস’, ‘আমার জীবনদর্শন’, ‘অ্যাসপিরেশন অব দ্য কমনম্যান’, ‘দ্য ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ম্যান’, ‘তত্ত্ববিদ্যাসাগর ও বুদ্ধ : দ্য হিউম্যানিস্ট’। ১৯৬৭ সালে দেবকে সম্মানসূচক ‘দর্শন সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মানবতাবাদী দর্শন প্রচারের জন্য তিনি আমেরিকায় ‘দ্য গোবিন্দ দেব ফাউন্ডেশন ফর ওয়ার্ল্ড ব্রাদারহুড’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের অসহযোগ আন্দোলনে তিনি রাজপথে নেমে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এরপর ২৬ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয় জগন্নাথ হলের গণকবরে। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ‘গোবিন্দ দেব দর্শন গবেষণাকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’ প্রদান করে।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

 


মন্তব্য