kalerkantho


‘গ্রহণযোগ্যতাটাই বড় বিষয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘গ্রহণযোগ্যতাটাই বড় বিষয়’

নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্ভাব্য কমিশনারদের যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, যে যাই বলুক না কেন, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাটাই বড় বিষয়। সরকার হয়তো নিজেদের মতো করে কাউকে নির্বাচন কমিশনে বসাবে।

কিন্তু মানুষ তাঁদের সেভাবে মেনে নিল না—তাতে তো সেটি গ্রহণযোগ্য হলো না। নতুন সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশন নিয়োগের বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট ১২ নাগরিককে ডেকেছে। এর মধ্যে আমার নামও আছে। আমরা আশা করি, সবাই প্রভাবমুক্ত লোকদেরই এই কমিশনে নিয়োগের কথা বলবেন। একই সঙ্গে তাঁরা দেশের গণতন্ত্র সুসংহত করতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের পরামর্শ দেবেন।

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘একাত্তর সংযোগে’ আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়ের আমন্ত্রণ দেওয়া হয় দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের। নিশ্চয়ই এর উদ্দেশ্য নিরপেক্ষ ও সাহসী লোকজনকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া।

এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চয়ই ভালো পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া সার্বিকভাবে বিশিষ্টজনের সঙ্গে এ আলোচনাকে কিভাবে দেখেছেন?

জবাবে ড. সুলতানা কামাল বলেন, কথা একটাই—যাঁরাই নির্বাচন কমিশনে আসুক না কেন, তাঁরা যেন নিজেদের মতো করে সুষ্ঠুভাবে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন। নতুন ইসির সম্ভাব্য কমিশনারদের সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হতে হবে। যাঁরা অতীতে কখনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াননি ও দলবাজি করেননি, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, পেশাগত জীবনে ছিলেন আপসহীন, দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৎপর ছিলেন; যাঁরা আদর্শিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে—এমন ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনে গেলে জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে।

একপর্যায়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে শুধু আলোচনা করলেই তো আর হবে না, যদিও এটা একটা ভালো দিক। তার পরও বলতে চাই, সার্চ কমিটির সম্ভাব্য সুপারিশ দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার একটি পথ তৈরি করতে পারে। দেশবাসীর মতো আমরাও আগামী নির্বাচন ঘিরে আর কোনো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখতে চাই না। সবার একটাই চাওয়া, দেশ শান্তির পথে চলুক।

আলোচনার একপর্যায়ে সুলতানা কামাল বলেন, আমি মনে করি, যাঁদের দেশপ্রেম আছে, আদর্শিক অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ—এমন ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পাওয়া উচিত। কারণ তাঁরা কখনো জাতির স্বার্থবিরোধী কিছু করবেন না। এমনটাই আমরা চাই, চায় দেশের জনগণও। নির্বাচন কমিশনার যাঁরা হবেন, তাঁদের স্বাধীন ও স্বকীয়তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা কার্যকরের মতো দৃঢ়তা ও সাহসের প্রয়োজন।

আলোচনার একপর্যায়ে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য কমিশনারদের শুধু গুটিকয়েক গুণ থাকলেই হবে না, তাঁদের অতীত ইতিহাসও দেখতে হবে। এমন লোককে বাছাই করা উচিত, যাঁরা অতীতে বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিলেন। এ ধরনের গুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা গেলে তাঁরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সুন্দর ও ভালো নির্বাচন করতে পারবেন। আমাদের বিশ্বাস ও আস্থার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। তিনি বলেন, একটা ভালো সার্চ কমিটি হয়েছে। এর সদস্যরা পরিশীলিত ও ভালো মানুষ। তাঁরা নিশ্চয়ই ভালো মানুষ খুঁজে বের করবেন।


মন্তব্য