kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

অতুলপ্রসাদ সেন

অতুলপ্রসাদ সেন গীতিকার, গায়ক, কবি। ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় মামার বাড়িতে জন্ম। পৈতৃক বাড়ি ছিল ফরিদপুর জেলার দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের কাছে বেড়ে ওঠেন। মাতামহ ছিলেন ভগবদ্ভক্ত, গায়ক ও ভক্তিগীতি রচয়িতা। এসব গুণ অতুলপ্রসাদের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। অতুলপ্রসাদ প্রবেশিকা পাস করে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হলেও বিলেত চলে যান এবং ব্যারিস্টারি করে ফেরেন। দেশে ফিরে কলকাতা ও রংপুরে কিছুদিন আইন ব্যবসা করে লক্ষেৗ চলে যান। সেখানেই আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি পান। কিশোর বয়সে তাঁর সংগীত সাধনা শুরু। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্তরঙ্গ সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। বাংলা গানে ঠুমরির প্রচলন যাঁরা ঘটান তিনি তাঁদের পথিকৃৎ। তাঁর তৈরি সুরে কীর্তন ও বাউল ঢঙের প্রভাব দেখা যায়। তিনি ভৈরবী, খাম্বাজ, পিলু, বেহাগ, কাফিসহ বিভিন্ন রাগের ওপর সংগীত রচনা করেছেন। তাঁর লেখা গানে প্রকৃতি এসেছে ঘুরেফিরে। স্নিগ্ধ, কোমল শব্দ চয়ন করে তার সঙ্গে মিল রেখে সুর সৃষ্টিতে তিনি দক্ষ ছিলেন। তাঁর রচিত গানগুলো তিন ভাগে ভাগ করা যায়—স্বদেশি সংগীত, ভক্তিগীতি ও প্রেমের গান। তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’—স্বদেশি ঘরানার গানটি ষাটের দশকে পূর্ববঙ্গের বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের কর্মীদের উদ্দীপ্ত করত। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০। তাঁর গান নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘কয়েকটি গান’ ও ‘গীতিগুঞ্জ’ (১৯৩১) নামে দুটি সংকলন। ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট লক্ষেৗ শহরে তাঁর মৃত্যু হয়। সেখানে  তাঁর নামে সড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় হলের নামকরণ হয়েছে। অর্জিত অর্থের বড় অংশই তিনি জনকল্যাণে ব্যয় করেছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দান করে গেছেন।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য