kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

কোরআন সর্বোত্তম ঘটনাবলি বর্ণনা করেছে

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কোরআন সর্বোত্তম ঘটনাবলি বর্ণনা করেছে

 ৩. আমি তোমার কাছে সর্বোত্তম ঘটনা বর্ণনা করছি, ওহির মাধ্যমে তোমার কাছে এ কোরআন প্রেরণ করে। এর আগে অবশ্য তুমি ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৩)

তাফসির : এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর রাসুলকে লক্ষ্য করে বলেছেন, আমি ওহির মাধ্যমে আপনার ওপর এ কোরআন অবতীর্ণ করেছি। এতে যেসব কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, তা পুরোপুরি সত্য। সত্যতার যেকোনো কষ্টিপাথরে তা উত্তীর্ণ। কল্পনানির্ভর বা রংচং মাখানো কোনো ঘটনা এখানে বর্ণনা করা হয়নি। ইতিহাসের হাজারো উপাদান থেকে বাছাই করে এখানে সীমিত কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

বিশ্ব ইতিহাস ও অতীত অভিজ্ঞতার মধ্যে মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শিক্ষা নিহিত আছে। মানুষের মন ও মস্তিষ্কে এসব শিক্ষার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সাধারণ শিক্ষার চেয়ে অনেক গভীর ও কার্যকর। এ কারণেই সর্বশেষ আসমানি নির্দেশনা হিসেবে পবিত্র কোরআনে বিশ্ব ইতিহাসের নির্বাচিত অধ্যায় সন্নিবেশিত করে দেওয়া হয়েছে। এটি মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংশোধনের জন্য অমোঘ ব্যবস্থাপত্র। কিন্তু কোরআন এ ক্ষেত্রেও তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে। বিশ্ব ইতিহাস কোরআন এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, এর পাঠকমাত্রই অনুভব করতে পারে যে এটি কোনো ইতিহাসের গ্রন্থ নয়, বরং ইতিহাস রচনায় সব ক্ষেত্রে উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেখানে যতটুকু শিক্ষা ও উপদেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় মনে করা হয়েছে, সেখানে ততটুকু উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ অংশের প্রয়োজন অনুভূত হলে আবার তা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এসব ঘটনার বর্ণনায় ধারাবাহিকতার প্রতি লক্ষ রাখা হয়নি।

আলোচ্য আয়াতের শেষ অংশে বলা হয়েছে, ‘এর আগে অবশ্য তুমি ছিলে অনবহিতদের (না-জানা লোকদের) অন্তর্ভুক্ত। ’ বাক্যটি বিশেষ অর্থবহ। অতি আবেগপ্রবণ এক শ্রেণির মানুষের ধারণা হলো, আমাদের মহানবী (সা.) গায়েব বা অদৃশ্যের যাবতীয় খবরাখবর জানতেন। অথচ এ ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য হলো, আল্লাহ ইচ্ছা করলে কখনো কখনো তাঁর প্রিয় বান্দা—নবী-রাসুল ও ওলি-আউলিয়ার কাছে কিছু কিছু অদৃশ্য বিষয় প্রকাশ করেন। পরিভাষায় সেসবকে ‘মৌলিক ও সত্তাগত ইলমে গায়েব’ বলা হয় না। এগুলোকে ‘ইলমে ই’তায়ি’ বা আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান বলা হয়। কোনো নবীকেই ‘ইলমে গায়েব’ দেওয়া হয়নি। মহানবী (সা.)-কেও  ‘ইলমে গায়েব’ বা অদৃশ্যের যাবতীয় জ্ঞান দেওয়া হয়নি। মহানবী (সা.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘বলো, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা না হয় ততক্ষণ আমি নিজেরও কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখি না। আমি যদি গায়েবের (অদৃশ্যের) খবর জানতাম, তবে বহু কল্যাণ অর্জন করতে পারতাম। কোনো রকম ক্ষতিই আমাকে স্পর্শ করতে পারত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮৮)

তবে হ্যাঁ, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে বহু গায়েবি বা অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞান দান করেছেন। এটা তাঁর অর্জিত বা আল্লাহর জ্ঞানের সমপরিমাণ নয়, বরং তা আল্লাহর জ্ঞানভাণ্ডার থেকে দেওয়া কিছু জ্ঞান। ইসলামের অন্যতম আকিদা ও বিশ্বাস হলো, আল্লাহর সমকক্ষ কোনো জ্ঞানী নেই। তাই দেখা যায়, বহু বিষয়ে মহানবী (সা.)-কে বিশেষ জ্ঞান দেওয়া হলেও কেয়ামত, মানুষের জন্ম-মৃত্যুসহ আরো অনেক বিষয় তাঁকে জানানো হয়নি। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে বহু অজানা বিষয়ে জানিয়েছেন, আবার অনেক বিষয় তাঁর কাছেও গোপন রেখেছেন।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 

[সংশোধনী : গত মঙ্গল ও বুধবার (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ২)-এর স্থলে (সুরা : হুদ, আয়াত : ২) ছাপা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত]


মন্তব্য