kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

ফররুখ আহমদ

 

ফররুখ আহমদ কবি, শিশুসাহিত্যিক। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝআইল গ্রামে জন্ম।

তাঁর বাবা সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। ফররুখ আহমদ খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। এরপর প্রথমে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও পরে সেন্ট পল কলেজে ইংরেজি নিয়ে অনার্স পড়েন। কলেজজীবনে তিনি বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে ‘র‌্যাডিক্যাল হিউম্যানিজম’ আন্দোলনের নেতা এম এন রায়ের অনুসারী হয়েছিলেন। কর্মজীবনে পুলিশের এআইজি হিসেবে কারা দপ্তর, পরের বছর সিভিল সাপ্লাই দপ্তর ও তার পরের তিন বছর জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকরি করেন। এরপর তিনি কাজ নেন ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তিনি কলকাতা থেকে এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের ‘স্টাফ রাইটার’ পদে চাকরি করেন। আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহারে তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন। ব্যঙ্গ কবিতা ও সনেট রচনায়ও তিনি বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—‘সাত সাগরের মাঝি’, ‘সিরাজাম্ মুনীরা’, ‘নৌফেল ও হাতেম’, ‘মুহূর্তের কবিতা’ (সনেট সংকলন)। শিশুতোষ রচনার মধ্যে আছে—‘পাখির বাসা’, ‘হরফের ছড়া’ প্রভৃতি। তাঁর বইয়ের মধ্যে আরো আছে ‘হাতেমতায়ী’, ‘হে বন্য স্বপ্নেরা’, ‘হাবেদা মরুর কাহিনী’ প্রভৃতি। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’, ‘আদমজী পুরস্কার’ ও ‘ইউনেসকো’ পুরস্কারসহ অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ফররুখ আহমদ ঢাকায় মারা যান। ১৯৭৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক এবং ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়।

[বাংলা একাডেমির ‘চরিতাভিধান’ অবলম্বনে]


মন্তব্য