kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব

২. নিশ্চয়ই আমি এটাকে কোরআনরূপে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো। [সুরা : হুদ, আয়াত : ২ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতের মূল কথা হলো, কোরআনের প্রথম সম্বোধিত ব্যক্তিরা আরবিভাষী হওয়ায় কোরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে তারা কোরআনের বক্তব্য ও বিধানাবলি অনুধাবন করতে পারে।

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন : আরবি ভাষা একটি পরিপূর্ণ ও প্রশস্ত ভাষা। সমৃদ্ধ এ ভাষা বক্তার উদ্দেশ্য পুরোপুরি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম। তাই সর্বাধিক উত্তম গ্রন্থ কোরআন সর্বোত্তম ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.)-এর মাধ্যমে এ ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। এটি অবতীর্ণ হয়েছে সর্বোত্তম স্থান মক্কায়, সর্বোত্তম মাস রমজানে। সর্বোপরি এটি অবতীর্ণ হয়েছে সর্বোত্তম নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর। (ইবনে কাসির ও তাফসিরে মুনির)

মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব

মাতৃভাষা মানে মায়ের ভাষা। দুনিয়ার সব দেশের নিজ নিজ ভাষা রয়েছে। এ ভাষা তাদের মুখের ভাষা, মায়ের ভাষা, স্বপ্নের ভাষা ও জীবনযাপনের ভাষা। মায়ের কাছ থেকে এ ভাষা শেখে বিধায় এর নাম হয়েছে মাতৃভাষা।

আল্লাহ তাআলা মানুষের হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর আসমানি কিতাব নাজিল হয়। তাঁরা নিজ জাতির ভাষায় আল্লাহর বাণী প্রচার করতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি সব রাসুলকে তাদের জাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে তারা পরিষ্কার করে বোঝাতে পারে। ’ (সুরা : ইব্রাহিম, আয়াত : ৪)

হজরত মুসা (আ.)-এর জাতির ভাষা ছিল ইবরানি। তাই তাওরাত নাজিল হয়েছে ইবরানি ভাষায়। হজরত দাউদ (আ.)-এর জাতির ভাষা ছিল ইউনানি। তাই জাবুর কিতাব নাজিল হয়েছে ইউনানি ভাষায়। হজরত ঈসা (আ.)-এর গোত্রের ভাষা ছিল সুরিয়ানি। তাই এ ভাষায় ইনজিল কিতাব নাজিল হয়। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের ভাষা ছিল আরবি। তাই আরবি ভাষায় কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটা (কোরআন) রুহুল আমিনের (জিব্রাইল) মাধ্যমে তোমার [মুহাম্মদ (সা.)] অন্তঃকরণে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। যাতে তুমি ভয় প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো। ’ (সুরা শুয়ারা, আয়াত : ১১৩-১১৫)

মাতৃভাষা গর্ব করার বিষয়। নিজ মাতৃভাষা সম্পর্কে গর্ব করে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আরবদের মধ্যে আমার ভাষা সর্বাধিক সুললিত। তোমাদের চেয়েও আমার ভাষা অধিকতর মার্জিত ও সুললিত। ’ (আল-মুজাম : হাদিস : ২৩৪৫)

এর কারণ তিনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে—‘আরবের সবচেয়ে মার্জিত ভাষার অধিকারী সাদিয়া গোত্রে আমি প্রতিপালিত হয়েছি। তাঁদেরই কোলে আমার মুখ ফুটেছে। তাই আমি সর্বাধিক সুললিত ভাষা আত্মস্থ করেছি। ’ (আল-বদরুল মুনির ফি তাখরিজিল আহাদিস : খ. ৮, পৃ . ২৮১)

আল-কোরআন কোরাইশদের ভাষা ও উচ্চারণরীতি অনুসারে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু ইসলাম ভাষাগত আঞ্চলিকতা তথা মাতৃভাষার প্রতি এতই গুরুত্ব দিয়েছে যে আরবের বিভিন্ন পঠনরীতিতে কোরআন পাঠ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কোরআন পাঠে ‘সাত কিরাত’ (পঠনরীতি) প্রচলিত আছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসের বর্ণনায় এসেছে : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোরআন সাত হরফে বা সাত উপভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং এসব ভাষার মধ্যে যে ভাষাটি (তোমাদের কাছে) সহজ হয়, সে ভাষায়ই তোমরা তা পাঠ করো। ’ (বুখারি : হাদিস : ৪৭৫৪)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য