kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘দারিদ্র্য কমলেও দুর্নীতি কমেনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘দারিদ্র্য কমলেও দুর্নীতি কমেনি’

চীনের রাষ্ট্রপতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে গেলেও বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে দেখা করেননি। আসলে দেশে গণতন্ত্র সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এ কারণেই একটি সরকারের বিরোধীদলীয় প্রধানের সঙ্গে চীনের মতো একটি বড় রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেখা করা হয়ে ওঠে না। সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো মুক্তবাক অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে এ কথা বলেন। তাঁর এ মন্তব্যের জবাবে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সরকারের সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, রওশন এরশাদের দলের তিন-তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এখন সরকারে আছেন। তাঁরা যদি সরকারে থাকেন আর চীনের প্রেসিডেন্ট যদি সরকারের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে রওশনের সঙ্গে আলাদা কথা না বললে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক রাহুল রাহা বলেন, ক্ষুধা ও অপুষ্টির হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আট বছরে ধারাবাহিক উন্নতি অব্যাহত থাকলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখনো অনেকটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট গত সপ্তাহে যে ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক’ প্রকাশ করেছে, তাতে ১১৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯০তম, যদিও স্কোরের দিক দিয়ে উন্নতি হয়েছে। এ সংস্থার ২০০৮ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্কোর যেখানে ছিল ৩২ দশমিক ৪, এবার তা কমে ২৭ দশমিক ১ হয়েছে। আগে যেখানে শতরকরা ৭৬ জন দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল, এখন সেটা মাত্র ২২-এর কোঠায় নেমে এসেছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে ড. শামসুল আলম বলেন, যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শিশুর প্রতিদিনের গ্রহণ করা খাদ্যের পুষ্টিমান গড়ে ১৮০০ কিলোক্যালরির কম হলে বিষয়টিকে ক্ষুধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, গত ১৬ বছরে বিশ্বে ক্ষুধার সূচকে ভয়াবহতা ২৯ শতাংশ কমেছে, আর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কমেছে ২৭ শতাংশ। তার পরও বিশ্বের ৫২টি দেশে ক্ষুধার্তের সংখ্যা রয়েছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সূচকে ভারত (৯৭), পাকিস্তান (১০৭) ও আফগানিস্তানের (১১১) চেয়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে আছে নেপাল (৭২), মিয়ানমার (৭৫) ও শ্রীলঙ্কার (৮৪) চেয়ে। অপুষ্টি, শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা এবং শিশুমৃত্যুর হার—এই পরিস্থিতি বিচার করে ১০০ পয়েন্টের এই সূচক তৈরি হয়। বাংলাদেশে  যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে তা বলা বাহুল্য। এখন আর কেউ আগের মতো মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভাতের ফেনের জন্য অপেক্ষা করবে না। এখন এমন হয়েছে যে গ্রামের বাড়িতেও দোকান থেকে পরোটা নিয়ে বাসায় গিয়ে খায়।

আলোচনার এ পর্যায়ে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশের দারিদ্র্য অনেক কমেছে ঠিকই, কিন্তু এখনো দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। কারণ দুর্নীতি কমিশন এখন প্রতিদিন কাউকে না কাউকে গ্রেপ্তার করছে। যদি দুর্নীতি কমেই যেত তাহলে এদের কথায় কথায় গ্রেপ্তার করা যেত না। তিনি বলেন, দেশকে একেবারে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে আগে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, কে না জানে যে ঘুষ-দুর্নীতিতে আজ ছেয়ে গেছে দেশ। এ বিষয়ে প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। সরকারের একটি অন্যতম দায়িত্ব হলো দেশকে ঘুষ-দুর্নীতি থেকে মুক্ত করা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর একটি আক্ষেপ ছিল যে তিনি ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে পারছেন না। কিন্তু ঘুষ-দুর্নীতি যে খারাপ ও অগ্রহণযোগ্য, সে কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টার কোনো কার্পণ্য তিনি করেননি। বহু জনসভায় তিনি ‘চাটার দল’, ‘চোরের খনি’, ‘গাজী আমার কম্বল গেল কই?’ ‘দুর্নীতি আমার কৃষক-শ্রমিকরা করে না, করেন আপনারা, শিক্ষিত লোকেরা’ ইত্যাদি কড়া কড়া কথা বলতে কসুর করেননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দলেরই একজন নেতা বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রী বোধ হয় বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও দেশপ্রেমিক! তা না হলে তিনি বঙ্গবন্ধুর উল্টো সুরে কথা বলা শুরু করলেন কেন? তিনি বলেছেন, ঘুষ খাওয়াটা নাকি আসলে ঘুষ খাওয়া নয়। এটা নাকি ‘কাজ দ্রুত করে দেওয়ার জন্য উপহার’ মাত্র। সব দেশেই নাকি ‘স্পিড মানি’ নামে এর প্রচলন আছে। ঘুষ-দুর্নীতির পক্ষে কোনো সরকারের মন্ত্রীর এরূপ নির্লজ্জ সাফাই চরম ধৃষ্টতা বই কিছু নয়।


মন্তব্য