kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ট্রাম্পকে নিয়ে যত ভয়

করুণাময় গোস্বামী

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ট্রাম্পকে নিয়ে যত ভয়

আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। হিলারি ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রথম বিতর্কটি হয় নিউ ইয়র্ক শহরের লং আইল্যান্ড অঞ্চলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তা দেখে কেউ কেউ বলছেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আরো বড়সড় খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত ছিল। কেউ কেউ বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় বড়-ছোটতে কিছু আসে-যায় না, হলে গিয়ে আর কজন বিতর্কে যোগ দেন, সবাই তো দেখেন পর্দায়, সে ঘরে বসে হোক, অফিসে হোক, খেতে খেতে বা চলতে চলতে হোক। কত লোক বিতর্ক দেখল, কত লোক বিতর্ক উপভোগ করল, কত লোক বিতর্ক থেকে মতামত গঠন করল—সেটাই বড় বিবেচ্য। আসলেই তাই। বিতর্ক জনমত সংগঠনের ব্যাপারটি কতখানি প্রভাবিত করল, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখে আমার মনে হয়েছে, আয়োজকরা আরো একটু প্রস্তুত থাকতে পারতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মুখবন্ধ হিসেবে যা বলা হয়েছে তা আরো ভালোভাবে বলা যেত, বলা উচিত ছিল।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কোনো সামান্য ঘটনা নয়। সেটি হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট শুধু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মাত্র নন, তিনি এক নম্বর বিশ্বনেতা, পৃথিবীর মঙ্গলামঙ্গলের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা গ্রহণের সম্পর্ক রয়েছে। সে জন্য এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী জনগণের গভীর আগ্রহ রয়েছে। ঠিক কতজন প্রথম নির্বাচনী বিতর্কটি দেখেছেন তেমন হিসাব দেখিনি কোথাও, তবে অনেক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে যে অনেক বছরের মধ্যে বর্তমান বছরের বিতর্কে বিশ্ব-কৌতূহল সর্বোচ্চ। এর কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা মন্তব্য। হিলারি আগে পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ছিলেন,  ডেমোক্র্যাটরাই এখন নেতৃত্বে রয়েছেন, হিলারি ওবামার পথ ধরে এগোবেন, কিন্তু ট্রাম্প বিজয়ী হলে তিনি যে কী করবেন, কী করবেন না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু ভাবা যাচ্ছে না। বোঝা যাচ্ছে, তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ চলতি ধারণার পক্ষে নন, কখনো কখনো এদের বিরুদ্ধে কঠোর কড়া কথা বলেন, দু-এক দিনের মধ্যেই সংশোধনী দেন, বলেন, আমি অতটা কড়া ভূমিকা নেব তা তো বলিনি, সাংবাদিকরা একটু বাড়িয়ে বলেন। এই সূত্রেই ডেমোক্র্যাটরা বলেন, ট্রাম্প যেমন গরম কথা বলেন, তেমন গরম তাঁর চিন্তাভাবনা, তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না, হলে আমেরিকার মুখ পুড়িয়ে দেবেন, দেশের মুখ পুড়ুক সে আমরা চাই না। ট্রাম্প সমর্থকরা বলেন, এখানেই আমরা ট্রাম্পকে পাচ্ছি। তিনি পেশাদার রাজনৈতিক নেতা নন যে ভোটারদের মুখ চেয়ে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবেন, কাজের বেলায় করবেন না কিছুই। বছর বছর ধরে পলিটিশিয়ান প্রেসিডেন্টরা তেমনই তো করছেন। ট্রাম্প যেমন বলবেন তেমন করবেন। নিজের চেষ্টায় বিশাল ব্যবসা তালুক গড়ে তুলেছেন। নিজের চেষ্টায় আমেরিকাকে এখনকার সংকটের আবর্ত থেকে টেনে তুলবেন তিনি। ট্রাম্পকে ট্রাই করা দরকার। তিনি রাজনীতির এলাকার বাইরের লোক। হিলারি সম্পর্কে মানুষের আস্থা বেশি, ট্রাম্পকে নিয়ে বেশি হয় কথা। হিলারি কী করবেন, কী করতে পারেন তা সবাই বোঝেন, ট্রাম্পকে ভরসা যত, ভয় তার কম নয়।

প্রথম বিতর্কের কয়েক দিন আগে থেকে আমি ধারাবাহিকভাবে কয়েক সপ্তাহ নিউ ইয়র্কে ছিলাম। নির্বাচন নিয়ে নানাজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে, হিন্দুর সঙ্গে কথা হয়েছে, মুসলমানের সঙ্গে কথা হয়েছে, অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক সেসব কথাবার্তা। ভাবতেও উদ্বুদ্ধ করে। ট্রাম্প ব্যাপারটাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন যে হিন্দু ও মুসলমানের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলা চলে, বলার একটা পরিপ্রেক্ষিত আছে। ভারতীয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, পাকিস্তানির সঙ্গে কথা হয়েছে, আমেরিকান ও কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ ইউরোপিয়ানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সব হয়তো ছোট্ট লেখায় বলা সম্ভব নয়। তবে প্রধান বিষয়গুলো স্পর্শ করার চেষ্টা করব।

প্রথম বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান প্রসঙ্গ। ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প যদি নির্বাচনে জিতে আসেন তাহলে অভিবাসীদের মধ্যে যারা এখনো বৈধতা পাননি, তাঁরা আর বৈধতা পাবেন না। বাংলাদেশের অনেক অভিবাসী আছেন, যাঁরা বৈধতা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। ওবামা চাইছেন কোনো একটা শর্ত শিথিল করার মাপ দাঁড় করিয়ে অভিবাসীদের বৈধতা দান করা হোক। ব্যাপারটা এখনো আটকে আছে। ট্রাম্প যেহেতু মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করছেন কখনো কখনো, তখন হিন্দুদের কেউ কেউ মনে করেন, ট্রাম্প যেহেতু অনেক সময় হিন্দুদের প্রশংসা করেন, তখন অবৈধ হিন্দু অভিবাসীরা হয়তো বৈধতা পেয়ে যাবেন। সে জন্য ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার ব্যাপারে হিন্দুদের একাংশকে উৎসাহ দেখাতে দেখা যায়। উৎসাহ দেখায় না, এমন অনেক আছেন। উৎসাহ যাঁরা দেখান তাঁরা বোঝেন কম, ভাবেনও কম, ঢেউয়ের ধাক্কায় চলেন। যাঁরা একটু চিন্তাশীল প্রকৃতির মানুষ, তাঁরা এই হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদকে গ্রাহ্য করেন না। তাঁরা বলেন, অভিবাসন নিয়ে এমন সাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুসলমানকে যে তাড়াতে জানে, সে হিন্দুকেও তাড়াতে জানবে। এখানে তাড়ানোটা হবে কিছু শর্তের ব্যাপার। সে সব শর্ত যার ওপর বর্তাবে, তাকেই বের করে দেওয়া হবে। একটা বিধি তৈরি করা হলে সে বিধি ধর্ম বিচার করবে না, দেশ বিচার করবে না। সে জন্য অভিবাসীদের উচিত একত্র থাকা। স্বেচ্ছাকল্পিত সুযোগের আশায় বিভক্ত হওয়া নয়। আমার দীর্ঘকাল আগের পরিচিত এক পাকিস্তানির সঙ্গে নতুন করে পরিচয় হয় নিউ ইয়র্কে। তিনি চাকরি করতেন ভালো। রিটায়ার করেছেন কয়েক বছর আগে। তাঁর ছেলেমেয়েরা এখন কাজ করছে, ভালো আছেন। তাঁর ভাবনা পাকিস্তানিদের জন্য। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প পাস করলে সবচেয়ে বিপদে পড়বে পাকিস্তানিরা। দেশটি এরই মধ্যে উগ্রবাদের কারখানা নামে খ্যাত হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর নানা শহরে যে আকস্মিক উগ্রবাদী আক্রমণ হচ্ছে তার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষ যোগাযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্প পাকিস্তানিদের ঢুকতেই দেবেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ব্যক্তিগতভাবে এমন ভাবছেন, না সব পাকিস্তানির এমন আশঙ্কা। তিনি বললেন, সব পাকিস্তানির এমন আশঙ্কা। পাকিস্তান পৃথিবীর সব মানুষের কাছে একটি অগ্রহণযোগ্য নামে পরিচিত হচ্ছে। আপনি যদি দুবাই বা বাহরাইন বিমানবন্দরে যান, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশের এয়ারপোর্ট, সেখানেও দেখবেন অন্য যেকোনো দেশের মানুষের চেয়ে পাকিস্তানিদের বেশি সার্চ করতে, সার্চ একেবারে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। ট্রাম্প তো এখনো প্রেসিডেন্ট হননি, হাঁকডাক যা দিচ্ছেন, তাতেই কেনেডি বিমানবন্দরে যা শুরু হয়েছে তা বলার মতো নয়। আমার ছোট মেয়ে পারভিন করাচি গিয়েছিল বেড়াতে। কয়েক দিন আগে ফিরে এলো। বিমানবন্দরে যা-তা সার্চ করেছে। অপমানিত বোধ করে সে এয়ারলাইনসের লোকের কাছে অভিযোগ করলে ওরা সাফ জবাব দিল, এলে কেন? তোমাকে কি নিমন্ত্রণপত্র দিয়ে আনা হয়েছে? চলে যাও যেকোনো দেশে। আমেরিকা এমন ছিল না, বদলে যাচ্ছে, ট্রাম্প বদলে দিচ্ছেন, ক্ষমতায় এসে আরো বদলে দেবেন। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর আগে এ সম্পর্ক কখনো এত খারাপ ছিল না। ভারতীয়দের উদ্বেগ অন্য রকম। তাঁদের অনেকে বলেন, ট্রাম্প ভারতীয়দের খাতির করবেন এ ধারণা সত্যি নয়। হয়তো ভারতীয়দের ওপর উগ্রবাদের দোষ চাপাবেন না তিনি, তবে যে দায়টা তাঁদের ওপর চাপবে, সেটা মোটেই লঘু নয়। সে হচ্ছে কর্মবাদের দায়। ভারতীয়রা এখানে এসে যেমন কাজ করছে এবং ভারতে থেকে সাইটসোর্সিংয়ের যে কাজ করছে তার সঙ্গে খোদ আমেরিকানদের কর্মসংস্থানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে হিন্দুরা তীর্থস্থানে বসে যাগযজ্ঞ যতই করুক ট্রাম্পের সাফল্যের জন্য, কোপ যখন পড়বে তখন তাদের ঘাড়েও শক্ত হয়েই লাগবে। তাদের সমস্যাটা আমেরিকার মূলধারার প্রধান সমস্যার সঙ্গে জড়িত। সে হচ্ছে কর্মসংস্থান সংকট।

প্রথম ডিবেটে তো বটেই, ধারাবাহিক আলোচনায় প্রধান সমস্যা যেগুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে প্রথম দিকে কর্মসংস্থান। আমেরিকায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও বাইরে চলে গেছে যেসব কাজ, বিশেষ করে চীনে ও ভারতে, সেগুলো ফিরিয়ে আনা। অনেকের ধারণা, ট্রাম্প যেমন বলছেন, সত্যি সত্যি যদি সে সবের অর্ধেকও ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমেরিকার বেকারত্ব অনেক মিটবে। কিন্তু কাজ চলে যাচ্ছে কেন, বিনিয়োগ হচ্ছে না কেন, দোষ পড়ছে গিয়ে ট্যাক্স ব্যবস্থাপনার ওপর। বলা হচ্ছে, ট্যাক্স ব্যবস্থা এমন করে সাজাতে হবে যেন বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ পায়। সে জন্য অনেক কিছু করা দরকার। অভিবাসন সীমিত করা এক প্রধান সমস্যা। বাইরের কালো আর বাদামি মানুষ এত ঢুকেছে, এত ঢুকছে যে মনে হচ্ছে কয়েক দশক পরে শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। বড় বড় শহরের জনস্রোতের দিকে চাইলে এমন একটা বর্ণমিশ্রণ চোখে পড়ে যে শ্বেতকায় চোখেই পড়তে চায় না। এখনই যদি রোধ করা না যায় আমেরিকায় আমেরিকানরা সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। উগ্রবাদ মোকাবিলা অনেক বড় সমস্যা। ট্রাম্প এর জন্য ঢালাওভাবে মুসলমানদের দোষারোপ করছেন ও তাদের অভিবাসনদানে অতিমাত্রায় কড়াকড়ি আরোপ করতে বলছেন। থেকে থেকে স্থানে স্থানে উগ্রবাদী আক্রমণ ট্রাম্পের অবস্থানকে শক্তি জোগাচ্ছে। ট্রাম্প বলছেন, আমেরিকার আয় বাড়ানো দরকার, সে জন্য অযথা ব্যয় কমানোও দরকার। তিনি বলছেন, পৃথিবীর নানা দেশে যেমন জাপানে, দক্ষিণ কোরিয়ায়, সৌদি আরবে আমেরিকান সেনাদল অবস্থান করছে সেসব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সে জন্য সেসব দেশ যথেষ্ট ফি দিচ্ছে না। কেন দেবে না, আমরা কি জগতের পুলিশ নাকি, কেন পুলিশি করব? যার যা খুশি তা হোক, আমরা আমাদের এনগেজমেন্ট কমিয়ে আনি, ডলার বাঁচাই, সুখে থাকি।

হিলারি ভালো বলেন। মেজাজ ঠাণ্ডা রাখেন। ভালো তথ্য সরবরাহের মধ্যে আছেন বলে মনে হয়। ট্রাম্প বলেন ভালো, তবে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেন না, ফোঁস করে ওঠেন, কার বিরুদ্ধে বলছেন, বলা ঠিক হচ্ছে কি না, ঠাহর করেন না। অনেকে বলেন, এটা ঠিক নয়। হিলারি তো কয়েকবার বলেছেন, ট্রাম্প মেজাজ গরম মানুষ, আমেরিকার সর্বনাশ করে দেবেন প্রেসিডেন্ট হলে। ট্রাম্পের সমর্থকরা বলেন, এই তো স্বাভাবিক মানুষ, চারদিকে যা ঘটছে তাতে কার মেজাজ ঠিক থাকে বলুন, ফোঁস করে তো উঠবেই। হিলারি ফোঁস করেন না, তিনি রাজনীতির কলে তৈরি বস্তু, তাঁর মেজাজ থাকতে নেই, মুখে হাসি থাকতেই হবে। মনে মনে স্থির করে রাখতেই হবে তিনি যা বলবেন তা করবেন না, বা করতে পারবেন না। যেমন ওবামা করতে পারছেন না। এর জন্য লজ্জার নেই কিছু, শাস্ত্র বলে লাজলজ্জা, ভয় এসব থাকতে নয়।

নিউ ইয়র্কে থাকতে যা সাক্ষাত্ভাবে বুঝেছিলাম, তাতে মনে হচ্ছিল এবারের নির্বাচন ব্যাপারটা অনেক কঠিন ও কঠোর। যিনিই জিতুন, কঠোর সিদ্ধান্ত কিছু নিতেই হবে। হিলারি যদি জেতেনও, ট্রাম্প যে বিষয়গুলো কঠোরভাবে সামনে নিয়ে আসছেন, তাদের মোকাবিলা তাঁকে করতেই হবে। কেননা ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের প্রতিনিধি। আমি প্রথম বিতর্ক শুনছিলাম টরন্টোতে বসে। বিতর্ক শেষ হওয়ার পরপরই নিউ ইয়র্ক থেকে ফোন করেন আইরিশ আমেরিকান অধ্যাপক এডওয়ার্ড। তিনি রবীন্দ্রনাথ পড়বেন বলে বাংলা শিখেছেন। শান্তিনিকেতন দর্শন করেছেন একাধিকবার। ফোনে বাংলায় জিজ্ঞেস করলেন, কেমন লাগল বিতর্ক ড. গোস্বামী? আমি বললাম, এখানে মণ মানে ওজন তো? এডওয়ার্ড বললেন, ধরুন ওজন। আমি বললাম, মণ তো নয়ই, সের বা কেজি বলুন। এরা পাড়ার দোকানে বসে বিক্রি করার জন্য কয়েক কেজি মাল নিয়ে বসেছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন পৃথিবীর নেতা, পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন থাকবে তাঁর চোখে। হতাশা-জর্জরিত মানুষকে একটু আশার কথা শোনাবেন না? ভূমধ্যসাগরে মানুষ ঝাঁকে ঝাঁকে ডুবে মরবে, তিনি থামাবেন না? সিরিয়া-ইরাক বাঁচবে না, পাকিস্তান উগ্রবাদে তলিয়ে যাবে, টেনে তুলবেন না? শুধু নাই-নাই-পাই-পাই-তাড়াই-তাড়াই, এ কী কথা?

 

লেখক : শিক্ষাবিদ


মন্তব্য