kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

আল-কোরআনে ইউসুফ (আ.) প্রসঙ্গ

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আল-কোরআনে ইউসুফ (আ.) প্রসঙ্গ

১. আলিফ-লাম-রা। এগুলো সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত।

[সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : হজরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র। বনি ইসরাইলের ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ ছিলেন ইয়াকুব (আ.)। তাঁর আরেক নাম ছিল ইসরাইল। ওই নামের অনুসরণেই তাঁর বংশধররা বনি ইসরাইল বলে পরিচিত। ইয়াকুব (আ.)-এর চার স্ত্রী থেকে ১২ জন পুত্রসন্তান ছিল। বনি ইসরাইলের ১২টি দল সেই ১২ জনের মাধ্যমেই সূচনা হয়। ইয়াকুব (আ.) ছেলেদের নিয়ে ফিলিস্তিনে বাস করছিলেন। ইউসুফ (আ.) ও বিনয়ামিন একই মায়ের সন্তান ছিলেন। সত্ভাইয়েরা তাঁদের প্রতি খুবই ঈর্ষান্বিত ছিল। তারা চক্রান্ত করে ইউসুফ (আ.)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গভীর কূপে ফেলে দেয়। একটি কাফেলার লোকজন ওই পথ দিয়ে যাত্রা করছিল। তারা তাঁকে সেখানে থেকে উদ্ধার করে মিসরে নিয়ে এক সরদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর শুরুতে তিনি দাসত্ব করেছেন। একপর্যায়ে তাঁকে বন্দি করে জেলে পাঠানো হয়। জেলবন্দি ইউসুফ (আ.)-এর কাছে মিসরের বাদশাহ একটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলেন। তিনি ব্যাখ্যা জেনে খুবই চমত্কৃত হলেন। তাই তিনি জেল থেকে সম্মানজনক উপায়ে তাঁকে মুক্তি দিলেন। তাঁকে অর্থমন্ত্রী বানালেন। পরে দেশের পুরো শাসনক্ষমতাই ইউসুফ (আ.)-কে বুঝিয়ে দেন। তিনি বাদশাহ হওয়ার পর ফিলিস্তিন থেকে নিজের মা-বাবা ও ভাইদের মিসর নিয়ে গেলেন।

নবীদের মধ্যে হজরত ইউসুফ (আ.) একমাত্র নবী, যাঁর পুরো কাহিনী একটি মাত্র সুরায় ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুরা ইউসুফের ১১১টি আয়াতের মধ্যে তিন থেকে ১০১ আয়াত পর্যন্ত ৯৯টি আয়াতে ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনী বিবৃত হয়েছে। এ ছাড়া অন্যত্র কেবল সুরা আনআমের ৮৪ ও সুরা মুমিনের ৩৪ নম্বর আয়াতে তাঁর নাম এসেছে। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর আমলে মিসরে পঞ্চদশতম রাজপরিবারের শাসন চলছিল। মিসরের ইতিহাসে পরিবারটি রাখাল রাজন্যবর্গ নামে পরিচিত। এরা ছিল আরবীয় বংশজাত। খ্রিস্টপূর্ব দুই হাজার বছরের কাছাকাছি সময়ে এরা ফিলিস্তিন ও সিরিয়া থেকে মিসরে গিয়ে দেশের শাসন কর্তৃত্ব দখল করেছিল। দেশে গৃহবিবাদের কারণে তারা সেখানে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। এ কারণে তাদের রাজত্বে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর উত্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তারা বনি ইসরাইলকে সাদরে গ্রহণ করেছিল।

বর্তমান যুগের গবেষকরা এ অভিমত পোষণ করেন যে মিসরের ইতিহাসে রাখাল বাদশাহদের মধ্যে আপোফিস নামক বাদশাহই ছিলেন হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সমসাময়িক।

এ সময় মমফিস বা মনফ ছিল মিসরের রাজধানী। কায়রোর দক্ষিণে ১৪ মাইল দূরে এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। হজরত ইউসুফ (আ.) ১৭-১৮ বছর বয়সে সেখানে পৌঁছেন। দুই-তিন বছর আজিজে মিসরের বাড়িতে থাকেন। আট-নয় বছর কারাগারে বাস করেন। ৩০ বছর বয়সে দেশের শাসক নিযুক্ত হন। ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত একচ্ছত্রভাবে গোটা মিসর শাসন করতে থাকেন। তাঁর শাসনকালের নবম বা দশম বছরে তিনি হজরত ইয়াকুব (আ.)-কে তাঁর গোটা পরিবার-পরিজনসহ ফিলিস্তিন থেকে মিসরে নিয়ে আসেন। তাঁরা দিমিয়াত ও কায়রোর মাঝামাঝি এলাকায় আবাদ করেন। বাইবেলে এ এলাকার নাম জুশান বা গুশান বলা হয়েছে। হজরত মুসা (আ.)-এর আমল পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই বসবাস করতেন। বাইবেলের বর্ণনা মতে, হজরত ইউসুফ (আ.) ১১০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। বাইবেলে ও তালমুদে ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনার যে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে, কোরআনের বর্ণনা তা থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতর।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য