kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

সুরা ইউসুফের বিষয়বস্তু

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সুরা ইউসুফের বিষয়বস্তু

১. আলিফ-লাম-রা। এগুলো সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত।

[সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : সুরা ইউসুফ অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট হলো, মহানবী (সা.)-কে শেষ নবী জেনেও অবিশ্বাসী ও ইহুদিরা তাঁকে পদে পদে কষ্ট দিত। অহেতুক পরীক্ষা করার চেষ্টা করত। তাদের সমাজনেতা ও ধর্মনেতাদের কাজই ছিল সব সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা। তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা। মহানবী (সা.)-এর সময়ে মক্কায় কোনো আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) বসবাস করত না। মক্কার লোকেরা ইউসুফ (আ.) বা অন্য নবীদের সম্পর্কে কিছু জানতও না। কিন্তু আগের আসমানি কিতাবগুলোতে বিষয়গুলোর উল্লেখ ছিল। মদিনার ইহুদিদের একটি দল একবার মক্কায় আসে। মক্কার কাফিরদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে  প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার ফন্দি করে। তারা প্রশ্ন করে যে বলুন তো দেখি, কোন নবী শামে (সিরিয়ায়) ছিলেন। এ কথার জবাবে গোটা সুরা ইউসুফ একত্রে অবতীর্ণ হয়। তাওরাত-জবুর-ইনজিল সবই ছিল হিব্রু ভাষায় রচিত। মহানবী (সা.) জাগতিক লেখাপড়া জানতেন না। ইহুদি নেতারা মনে করেছিল, এ বিষয়ে মহানবী (সা.)-এর পক্ষে জবাব দেওয়া আদৌ সম্ভব হবে না। ফলে লোকদের মধ্যে তাঁর নবী হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হবে। এতে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার জোরদার করা যাবে। কিন্তু আল্লাহ কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ করে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন। মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে সত্যের বাণী ছড়িয়ে দেন।

সুরা ইউসুফ বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত সুরা। এ সুরাটি এমন এক সময়ে নাজিল করা হয় যখন মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামকে মক্কার কাফির-মুশরিকদের হাতে চরম নির্যাতন ও লাঞ্ছনা ভোগ করতে হচ্ছিল। তাঁদের ওপর জুলুমের মাত্রা এতটাই সীমা লঙ্ঘন করেছিল, তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন কখন আল্লাহ তাআলা আসমানি সাহায্য নাজিল করবেন। এমনকি অসহ্য হয়ে অনেকে মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করার প্রাথমিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে সুরা ইউসুফ অবতীর্ণ হয়। এখানে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বিস্ময়কর জীবনী ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল ও সাহাবায়ে কেরামকে সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন, জুলুম যতই তীব্র হোক, আল্লাহর রহমত খুব নিকটে। হতাশ ও ধৈর্যহারা হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সুরা ইউসুফ নাজিলের উদ্দেশ্য

সুরা ইউসুফের বিষয়বস্তুর তাত্পর্য বিষয়ে তাফসিরবিদরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এ সুরা নাজিল হওয়ার বিশেষ দুটি উদ্দেশ্য হলো—এক. এ সুরা নাজিল করার মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর নবুয়তের প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। কেননা এখানে তাঁর বিরোধীদের চাহিদা অনুযায়ী অত্যন্ত সুন্দরভাবে তাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে এ কথার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে যে মহানবী (সা.) শোনা কথা বলেন না। বরং তিনি ওহির অনুসরণ করেন। ওহির মাধ্যমে যথার্থ জ্ঞান লাভ করে মানুষের কাছে তা প্রচার করেন। দুই. এ ঘটনা উল্লেখ করে মহানবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। এখানে কোরাইশদের এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তোমরা নিজেদের ভাই মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে যেমন আচরণ করছ, তেমন আচরণ ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে করেছিল। কিন্তু তারা আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে লড়াই করে সফল হয়নি। তারা যাকে চরম নির্দয়ভাবে কুয়ার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল, পরে সেই ভাইয়ের পদতলেই নিজেদের সঁপে দিতে হয়েছিল। ঠিক তেমনি আল্লাহর কৌশল ও ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তোমাদের শক্তি প্রয়োগ সফল হতে পারবে না। একদিন তোমাদেরও নিজেদের এ ভাই [মহানবী (সা.)]-এর কাছে দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করতে হবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য