kalerkantho


‘এই সফর ঐতিহাসিক যুগের সূচনা করল’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘এই সফর ঐতিহাসিক যুগের সূচনা করল’

আর্থসামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের মতো একটি মহাপরাক্রমশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক যুগের সূচনা করল। আগে থেকেই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে চীনা রাষ্ট্রপতির সফর দুই দেশের সুসম্পর্ক আরো এক ধাপ এগিয়ে নিল। এখন আমাদের কাজ হবে এই সুসম্পর্ক আরো এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো। ’

শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিক দীনেশ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, শুক্রবার বাংলাদেশ সফর করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। এই সফর ঘিরে এক মাস ধরে আমাদের প্রস্তুতির কমতি ছিল না। চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক স্বার্থে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে ঐকমত্যে পৌঁছেন।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনা পয়েন্টে রয়েছে এবং ক্রমেই তা সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চীন বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে আশফাকুর রহমান বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে অনেক বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধা বাড়াতে যৌথ সম্ভাব্য সমীক্ষা চালানো এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবকাঠামো, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিবহনে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে বড় প্রকল্পে সহযোগিতা প্রদানে চীন সম্মত হয়েছে। তারা বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক স্বার্থে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি করবে। আমাদের জনগণের জন্য এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নেও অবদান রাখবে চীন। একে অন্যের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ, ব্লু-ইকোনমি, বিসিআইএম-ইসি, সড়ক ও সেতু, রেলপথ, বিদ্যুৎ, সমুদ্র আইসিটি, শিল্পোৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতার এ চুক্তি সম্পাদন এবং প্রকল্পগুলোর উদ্বোধনের ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা উচ্চপর্যায়ে পৌঁছবে। ’ তিনি বলেন, “বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং সমুদ্রসীমা রক্ষায় ঢাকা-পেইচিং একযোগে কাজ করবে। বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার করবে। দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিমূলক সম্পর্ক এখন কৌশলগত সম্পর্কে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ বলে মনে করে চীন। দেশটিকে ‘এক চীন নীতি’তে বাংলাদেশ জোরালো সমর্থন দিয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এটি আমাদের দেশের জনগণের জন্য একটি ভালো খবর। আশা করছি, চীন আমাদের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সব সময় পাশে থাকবে। ”

আলোচনার এ পর্যায়ে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, চীনের রাষ্ট্রপতির সফর ঐতিহাসিক, দুই দেশের মধ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কে বহুমাত্রিকতা আরো বিস্তৃত ও গভীর হবে, ব্যাপ্তি বাড়বে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এখন কৌশলগত সম্পর্কে উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আমরা সম্পর্কের নতুন মাত্রা দেখব। তিনি বলেন, আগামীতে বিভিন্ন পর্যায়ে দুই দেশের সফর দেখা যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প ও পাটে বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে চীন। উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে যে উন্নয়ন করেছে, সেখান থেকে চীনের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। দুই নেতা জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে একসঙ্গে কাজ করতেও একমত হয়েছেন। এটি আমাদের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো শক্তিশালী করে তুলবে। আগে যেখানে বাংলাদেশকে একটি তলাবিহীন ঝুড়ি বলে দেখা হতো, সেখানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চীনের রাষ্ট্রপতির এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান আরো সুসংহত করবে। ’


মন্তব্য