kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিশেষ সাক্ষাৎকার ► মোহাম্মদ নাসিম

এবারের কাউন্সিলে প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে গতিশীল কমিটি গঠন করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এবারের কাউন্সিলে প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে গতিশীল কমিটি গঠন করা হবে

কালের কণ্ঠ : খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। কয়েক দিন পরেই আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল।

নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে...

মোহাম্মদ নাসিম : এবারে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের বড় লক্ষ্য হলো সামনে যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আসছে তার আগে দলকে সংগঠিত করা, প্রস্তুত করা। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হওয়া। কাউন্সিল নিয়ে আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন। এ দলের নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বারবার আওয়ামী লীগের সামনে বিপর্যয় এসেছে। প্রচণ্ড প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার আগেও হয়েছে, পরেও হয়েছে। ১৯৭৫ সাল-পরবর্তী সময়ে জাতির জনককে হারানোর পর আওয়ামী লীগ বলতে গেলে দিকভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর তাঁর নেতৃত্বেই কিন্তু সুকঠিন বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে, লড়াই-সংগ্রাম করে আমরা গণতন্ত্রকে যেমন ফিরিয়ে এনেছিলাম, তেমনি এই আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরপর তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। প্রতিটি যুগ সন্ধিক্ষণে আওয়ামী লীগ ভূমিকা রেখেছে।

জাতির জনককে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীকে জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি দুর্যোগই আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আমরা বিজয় অর্জন করেছি। স্বাধীনতাযুদ্ধ, গণতন্ত্র উদ্ধার, অর্থনৈতিক মুক্তি—সব সংগ্রামেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিয়ে সফলতা অর্জন করেছে। এই যে অর্জন, এই যে সফলতা, এই যে অর্থনৈতিক মুক্তির রোডম্যাপে দেশ ধাবিত হচ্ছে, এর পেছনে মূল শক্তি আমাদের সংগঠন। আওয়ামী লীগের মতো একটি শক্তিশালী ও তৃণমূল পর্যায়ে জনভিত্তি থাকা সংগঠন উপমহাদেশে কমই আছে। এই সংগঠনের কারণেই বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে পেরেছিলেন। পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আজ দেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। এর মূলে আছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বাংলার আপামর জনগণ। আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার শীর্ষে বসে অনেক চক্রান্ত হয়েছে, প্রাসাদচক্রান্ত হয়েছে, নির্মমভাবে, নির্দয়ভাবে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আমাদের নেতাকর্মীদের গুঁড়িয়ে দিয়ে দলের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের নেত্রীকে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু এ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই বারবার নেত্রীর পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সংগঠনকে বারবার বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে, জাতিকে মুক্তি দিয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : সামনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলতে কি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বোঝাতে চাইছেন? এবারে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মূল ফোকাস কি তাহলে নির্বাচন?

 

মোহাম্মদ নাসিম : আজ আমাদের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ—একটি বিএনপি-জামায়াতের যে অব্যাহত নৈরাজ্য, জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, তাকে প্রতিহত করে দেশে একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিস্থিতি যেকোনো মূল্যে বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা। দ্বিতীয়ত, ২০১৯ সালে আমাদের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করা। উন্নয়নে শেখ হাসিনার সফলতা অনেক। উন্নয়নে এমন সফলতার রেকর্ডের পরও কিন্তু একটি বিশাল সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী ছাড়া নির্বাচনে জয়লাভ করা যাবে না। অতীতে বিএনপি ভ্রান্ত নীতির কারণে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আমার ধারণা, বিএনপির নেতৃত্ব এখন তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। এখন আগামী নির্বাচনে আসা ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের অবশ্যই নির্বাচনে আসতে হবে। যেহেতু সব দলই এবারের নির্বাচনে অংশ নেবে, সুতরাং আমাদের ধারণা, এই নির্বাচনটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। সে ক্ষেত্রে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল উদ্যমী কর্মী বাহিনী ছাড়া আগামী নির্বাচনে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় সম্ভব হবে না। সে কারণেই আমরা এবারের জাতীয় সম্মেলনকে গুরুত্ব দিচ্ছি। জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে কর্মী বাহিনীর কাছে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এই বার্তাটিই দিতে চান যে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হও। আমাদের সফলতাকে শহরে-বন্দরে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আন্তরিকভাবে, যেকোনোভাবে কাজ করে নির্বাচনে বিজয়ের ফসল ঘরে তুলতে হবে। এখানে আমরা কোনো ফাঁকফোকর রাখতে চাই না, কোনো ধরনের শিথিলতা রাখতে চাই না। এ জন্য এবারের সম্মেলনে নতুন ঘোষণাপত্র আসবে, নতুন প্রত্যয় আসবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। আগামী নির্বাচনে জয়লাভের যে রোডম্যাপ সে ব্যাপারেও তিনি নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চাইবেন। এসব কারণে এবারের কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোকাবিলার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে?

 

মোহাম্মদ নাসিম : দেখুন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও সভাপতি পদে নির্বাচিত হবেন। এ ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই এবং শেখ হাসিনার বিকল্পও কেউ নেই। তিনি আমাদের বারবার বিজয়ী করেছেন, আমাদের সাহসী করেছেন, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখিয়েছেন। এ রকম একজন নেত্রী যখন দলের সভাপতি তখন তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো কিছু চিন্তা করার সুযোগই নেই।

নেত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী কাউন্সিলরদের সম্মতির মাধ্যমে আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে আমার ধারণা, নেত্রী প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে একটি গতিশীল কমিটি করবেন। যে কমিটি আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলা, থানা, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে আমাদের দলকে নতুন করে গুছিয়ে ফেলতে সফল হবে। নির্বাচনের জন্য আমাদের মাঠ প্রস্তুত করতে হবে। জনগণের সামনে বিএনপি-জামায়াতের মুখোশ উন্মোচনের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নের প্রচার ঘরে ঘরে ব্যক্তি পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তার একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ এই কমিটিকে পালন করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনেরই একটি কমিটি নেত্রী দল ও দেশবাসীকে উপহার দেবেন।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি বলছেন শেখ হাসিনা আবার আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। গত ৩৫ বছর ধরে তিনি এই পদে আছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনার ওপর এমন আস্থার কারণ কী?

মোহাম্মদ নাসিম : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের কোটি কোটি কর্মী হতাশ হয়ে পড়েছিল, বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। সামনে তারা কোনো আলোকবর্তিকা দেখতে পাচ্ছিল না। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা একেবারে তরুণ বয়সে এসে আওয়ামী লীগের ভাঙা নৌকার হাল ধরেন। একটি বিভক্ত আওয়ামী লীগকে তিনি তাঁর পরিশ্রম দিয়ে, মেধা দিয়ে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি নিরন্তর মাঠে থেকে জিয়া, এরশাদ, খালেদার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি সুচিন্তিত ও সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে এই দলকে একবার নয় তিনবার ক্ষমতায় এনেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। অসম্ভব একটি কাজ সম্ভব করেছেন। আজকে তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের যে পথে নিয়ে গেছেন, তা তো কেউ কল্পনাই করতে পারত না। এ রকম একটি সফল নেতৃত্ব যিনি আওয়ামী লীগে শুধু প্রাণসঞ্চারই করেননি, দলকে উপমহাদেশের একটি শক্তিশালী দলে পরিণত করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বই আওয়ামী লীগকে আজ এ জায়গায় নিয়ে গেছে। তিনি শুধু আওয়ামী লীগ নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে তাঁর পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় চমক হলো, তিনি আজ বিশ্বের বৃহৎ শক্তি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাঁর পাশে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ভারত, ফ্রান্স, কানাডা, সৌদি আরব—পরস্পরবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও এই বড় শক্তিগুলোকে শেখ হাসিনা এ দেশের উন্নয়নে অংশীদার করতে সক্ষম হয়েছেন। এরা সবাই এখন বাংলাদেশে এসে উন্নয়নে সহযোগিতা করছে, বিনিয়োগ করছে। তিনি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নানা সমস্যার সমাধান করেছেন। ছিটমহল সমস্যা, সমুদ্রসীমা বিজয়—এগুলো কিন্তু অনেক বড় সাফল্য।

জঙ্গিবাদের কারণে দুনিয়ার অনেক শক্তিশালী দেশ আজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের এখানে জঙ্গিবাদের যে উত্থান হয়েছিল, তা শেখ হাসিনা সফলভাবে দমন করেছেন। সমগ্র বিশ্ব আজ শেখ হাসিনার প্রশংসা করে, কারণ তিনি জঙ্গি দমনে একজন সফল নেতা। আজ সৌদি আরবের মতো দেশও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। অনেকের সন্দেহ ছিল, সৌদি আরব বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে কি না। শেখ হাসিনা এমন অনেক দেশকেই বাংলাদেশের পাশে এনে দাঁড় করিয়েছেন। সে জন্য আওয়ামী লীগের কোটি কর্মী-সমর্থক মনে করে, শেখ হাসিনার বিকল্প কিছু হতে পারে না। বাংলাদেশের আজকের এই সফলতার একমাত্র দাবিদার হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব।

 

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কিছুদিন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। এবারের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ দেখার সম্ভাবনা কতটুকু?

মোহাম্মদ নাসিম : এটা মূলত নির্ভর করে নেত্রীর সিদ্ধান্ত ও কাউন্সিলরদের মতামতের ওপর। একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, আমাদের টিম লিডার হচ্ছেন শেখ হাসিনা। টিম লিডার কাকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, কাদের নিয়ে তিনি দল এগিয়ে নেবেন, পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন—এটি কিন্তু টিম লিডারের ওপর নির্ভর করে। যেকোনো ক্ষেত্রে বা পরিসরেই হোক টিম লিডারের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে হবে। টিম লিডারই যেকোনো যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। সেই যুদ্ধের নেতা যিনি থাকেন, তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কাকে নিয়ে তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তিনি কাকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন আর কাকে নিয়ে করবেন না—সেভাবেই তিনি টিম গঠন করবেন। অতীতেও তিনি এভাবেই টিম গঠন করেছেন, এবারও তিনি তাই করবেন।

 

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবারের সম্মেলনে রংপুর জেলা থেকে কাউন্সিলর হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে জয়ের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কানাঘুষা চলছে। জয়কে কি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দেখা যাবে?

মোহাম্মদ নাসিম : সজীব ওয়াজেদ জয় তারুণ্যে ভরপুর একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি উচ্চশিক্ষিত ও বিনয়ী। তিনি বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র। তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছেন। তাঁকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যোগ্যতাসম্পন্ন করে গড়ে তুলেছেন। তাঁর রাজনীতিতে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনে কাউন্সিলর হয়েছেন। তাঁর নিজস্ব মেধা, দক্ষতা দিয়ে তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলায় বিশাল অবদান রাখছেন। সে হিসেবে তিনি দেশের সম্পদ। তাঁকে যদি আমরা দলে কাজে লাগাতে পারি, দল যদি তাঁকে ব্যবহার করতে পারে, আমি মনে করি, দল যেমন উপকৃত হবে এই তারুণ্যের দ্বারা, তেমনি জয়ও ভবিষ্যতে নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আমাদের সভাপতির ওপর। কারণ তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবেই জয় দলে আসবেন। এ জন্য তাঁর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ ব্যাপারে দলের নেতাকর্মীরা আগামী কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমি মনে করি, দল যদি তাঁকে কাজে লাগায় তাহলে তিনি দলের সম্পদে পরিণত হবেন।

 

কালের কণ্ঠ : বঙ্গবন্ধুর আরেক দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে অবস্থান করে সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষে নানা গবেষণাকাজে যুক্ত আছেন। তাঁর কি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে?  

মোহাম্মদ নাসিম : ববির ব্যাপারেও একই কথা। তিনিও মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত ও একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি একটি পরিসরে দলের জন্য কাজ করছেন। এখন আমাদের দল ও নেত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে তাঁকে কী কাজে লাগানো হবে।

 

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের বিগত দুই সম্মেলনের আগে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় দলীয় নেতাদের কার কী ভূমিকা ছিল সে বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বেশ আলোচনা দেখা গেছে। সর্বশেষ দুই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনেও এর প্রভাব লক্ষণীয়। এবারও নেতাকর্মীদের মধ্যে এক-এগারোর সময়ের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বেশ আলোচনা দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে কি এর প্রভাব পড়বে?

মোহাম্মদ নাসিম : ওই সময় বিভিন্ন ঘটনায় যাদের নাম এসেছিল পরবর্তী সময়ে নেত্রী তাদের মূল্যায়ন করেছেন। তিনি সরকার ও দলে অনেককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। এটি আসলে নেত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

একটি ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। একেকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এসব নিয়ে আলোচনা চলে আসে। তবে আমার মনে হয়, আমাদের দলের জন্য সবাইকে প্রয়োজন পড়ে। নেত্রী এমনটিই মনে করেন। এ কারণে তিনি অনেক কিছু উদার দৃষ্টিতে দেখে থাকেন।

 

কালের কণ্ঠ : কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে এবারে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে?

মোহাম্মদ নাসিম : যাঁদের ত্যাগ, তিতিক্ষা আছে। যাঁরা দলের জন্য শ্রম দিচ্ছেন। যাঁরা দুর্যোগকালে দলের সঙ্গে, নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন। যাঁদের সাহস দুর্যোগকালে আমাদের সাহায্য করেছে, তাঁদের দল মূল্যায়ন করেছে এবং তাঁদেরই মূল্যায়ন করা হবে। একটি কথা অত্যন্ত পরিষ্কার, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছি, এ ক্ষমতার স্বাদ নেওয়ার জন্য, সুবিধা নেওয়ার জন্য অনেকেই কিন্তু দলে আসে বা এসেছে। এটি নতুন কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু তাদের দলের কমিটিতে জায়গা দিলে দেখা যাবে বিপদ-আপদের সময় হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ ধরনের নেতাকর্মীদেরও কিন্তু আওয়ামী লীগে আনাগোনা আছে। তারা তোষামোদ, চাটুকারিতার মাধ্যমে অনেক সময় অনেক জায়গায় স্থান করে নেয়। তাদের সম্পর্কে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকা উচিত। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়াই ভালো।

 

কালের কণ্ঠ : কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

মোহাম্মদ নাসিম : নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনা অনেক অবদান রেখেছেন। আমার ধারণা, তিনি এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও নারীদের খানিকটা প্রাধান্য দেবেন। যোগ্য ও ত্যাগ বিবেচনা করে বেশ কয়েকজন নারীকে কমিটিতে রাখবেন।

 

কালের কণ্ঠ : সম্মেলনের ব্যয় পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে শোনা গেছে। এ বিপুল অর্থ কিভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে?

মোহাম্মদ নাসিম : সম্মেলন সামনে রেখে চাঁদাবাজি যেন না হয় সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের দলের একটি তহবিল রয়েছে। শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দলের তহবিল থেকেই সম্মেলনের অর্থ জোগান দেওয়া হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : সম্মেলনে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি কেমন হবে বলে আশা করছেন?

মোহাম্মদ নাসিম : বিদেশি অতিথি কতজন আসবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা ১৪টি দেশের অতিথিদের দাওয়াত দিয়েছি। তাঁরা এখনো সবাই নিশ্চিত করেননি। তবে আশা করছি বেশ কয়েকটি দেশের নেতা আমাদের সম্মেলনে যোগদান করবেন। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নেতারা বেশি উপস্থিত হবেন।

 

কালের কণ্ঠ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ নাসিম : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

 


মন্তব্য