kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

কামিনী রায়

 

কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী। জন্ম ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার বাসণ্ডা গ্রামে।

বাবা চণ্ডীচরণ সেন পেশায় বিচারক হলেও ছিলেন উপন্যাস লেখক। কামিনী রায় আট বছর বয়স থেকে কবিতা লিখতে শুরু করেন। তিনি কলকাতার বেথুন ফিমেল স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, বেথুন কলেজ থেকে এফএ ও সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। একই বছর তিনি বেথুনে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে অধ্যাপক হন। সরকারি আমলা কেদারনাথ রায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় ১৮৯৪ সালে। তিনি সমাজ ও নারী কল্যাণেও কাজ করেছেন। নারী শ্রমিক তদন্ত কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’ ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয়। ভূমিকা লিখেছিলেন কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আরো আছে—‘নির্মাল্য’, ‘পৌরাণিকী’, ‘গুঞ্জন’ (শিশুকাব্য), ‘ধর্ম্মপুত্র’ (অনুবাদ), ‘মাল্য ও নির্মাল্য’, ‘অশোক-সংগীত’ (সনেট), ‘অম্বা’ (নাট্যকাব্য), ‘বালিকা শিক্ষার আদর্শ’, ‘ঠাকুরমার চিঠি’, ‘দীপ ও ধূপ’ এবং ‘জীবনপথে’ (সনেট)। তাঁর কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব স্পষ্ট। তিনি সংস্কৃতে পণ্ডিত ছিলেন বলে সংস্কৃত সাহিত্যের বিষয় অবলম্বনে রচিত কবিতাগুলো অপেক্ষাকৃত উত্কৃষ্ট মানের। ‘করিতে পারি না কাজ/সদা ভয় সদা লাজ/সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,/পাছে লোকে কিছু বলে’—তাঁর কবিতার এই লাইনগুলো এতটাই বিখ্যাত যে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কথাটি প্রবাদপ্রতিম হয়ে গেছে। বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী পদক’ লাভ করেন। ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য