kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।

তিনি কুড়িগ্রাম হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে ডিস্টিংকশনসহ ১৯৪৩ সালে বিএ পাস করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে ভর্তি হলেও শেষ করেননি।

ফেনী হাই স্কুলে পড়ার সময়ই ওয়ালীউল্লাহর লেখালেখি শুরু। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ‘ভোরের আলো’ সম্পাদনা করেন। তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষায়ই তাঁর দক্ষতা ছিল। তিনি ‘কন্টেম্পোরারি’ নামে একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সাব-এডিটর ছিলেন। এ সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। দেশভাগের পর তিনি ঢাকা বেতার কেন্দ্রের সহকারী বার্তা সম্পাদক ও পরে করাচি কেন্দ্রের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্যারিসে পাকিস্তান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ইউনেসকোর প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ছিলেন। তিনি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচার চালান এবং বিশ্ব জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তিনি ফরাসি নাগরিক অ্যান মেরিকে বিয়ে করেন। স্ত্রী মেরি তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮) ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন। পরে এটি ‘Tree Without Roots’ (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়। ‘লালসালু’ ছাড়া তাঁর আরো দুটি উপন্যাস ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪) ও ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ (১৯৬৮)। চেতনাপ্রবাহ রীতি ও অস্তিত্ববাদ ধারণাকে তিনি উপন্যাসগুলোতে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ ছাড়া দুটি গল্পগ্রন্থ ‘নয়নচারা’, ‘দুই তীর’ ও অন্যান্য গল্প এবং তিনটি নাটক ‘বহিপীর’, ‘তরঙ্গভঙ্গ’ ও ‘সুড়ঙ্গ’ বাংলা সাহিত্যের অনন্য সম্পদ। দেশ-বিদেশের নানা পুরস্কারের পাশাপাশি ১৯৮৩ সালে সরকার ওয়ালীউল্লাহকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে। ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয় এবং সেখানে মদোঁ-স্যুর বেল্ভুতে তিনি সমাহিত হন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য