kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

ইতিহাস পথ চলতে প্রেরণা দেয়

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইতিহাস পথ চলতে প্রেরণা দেয়

১২০. আমি রাসুলদের সব বৃত্তান্তই তোমাকে বলছি, যা দ্বারা আমি তোমার অন্তরকে দৃঢ় করি। এর মাধ্যমে তোমার কাছে এসেছে সত্য, ইমানদারদের কাছে এসেছে উপদেশ ও সাবধানবাণী।

(সুরা : হুদ, আয়াত : ১২০)

তাফসির : এ আয়াত থেকে সুরা হুদের উপসংহার টানা হচ্ছে। সুরা হুদে বেশ কয়েকজন নবীর জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনা করা হয়েছে। এ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, মহানবী (সা.)-এর মনোবল সুদৃঢ় করার জন্যই অতীতের অনেক নবীর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। সব নবী-রাসুল সমাজে প্রবল বিরোধিতা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাই কেউ ইমান না আনলে মহানবী (সা.)-এরও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। এসব ঘটনা থেকে ইমানদাররাও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে যে আল্লাহর অবাধ্য হলে, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করলে অতীতের অভিশপ্ত জাতিগুলোর মতো তাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।

 

কোরআনে বর্ণিত সব ঘটনাই সত্য ও শিক্ষণীয়। মানবজাতিকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সব সময় অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। কেননা ইতিহাস সম্মুখে পথ চলতে প্রেরণা দেয়। অতীতকে অবজ্ঞা করে তারাই, যারা নির্বোধ। পবিত্র কোরআনে আগের বহু জাতির ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। সেসব জাতির কেউ শক্তিমত্তায়, কেউ দাম্ভিক আচরণে, কেউ শৈল্পিক জ্ঞানে আত্মম্ভরিতাবশে আর কেউ ক্ষমতার বড়াইয়ে আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। কুফরিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। তারপর তাদের করুণ পরিণতির বিবরণ দিয়ে কোরআন তার পাঠককে হেদায়েতের পথে আহ্বান করেছে। পবিত্র কোরআন কোনো ইতিহাস বা কল্পকাহিনীর গ্রন্থ নয়। মানুষ যাতে অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সে জন্যই কোরআনে পুরনো দিনের অনেক কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনে আলোচিত হয়েছে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ইতিহাস। আলোচিত হয়েছে প্রাচীন জাতি, সভ্যতা ও রাজা-বাদশাহদের ইতিহাস। আলোচিত হয়েছে প্রকৃতির নানা উত্থান-পতন ও ভাঙা-গড়ার ইতিহাস। তবে কোরআন যেহেতু নিছক ইতিহাসগ্রন্থ নয়, তাই এতে ঐতিহাসিক বিষয়গুলো ছকে বেঁধে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে দেখা গেছে, একই বিষয় খণ্ড খণ্ড আকারে একাধিক স্থানে আলোচিত হয়েছে। মানব-ইতিহাসে সংঘটিত সব ঘটনাই মানুষের জন্য শিক্ষণীয়। মানুষের উচিত অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। কোরআনে বিভিন্ন নবী ও আগের অনেক জাতির ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর উদ্দেশ্যও হলো মানুষকে ইতিহাসের সত্য ও শিক্ষার দিকে ধাবিত করা। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের ঘটনায় বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আছে শিক্ষা। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১১১)

পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। কিন্তু প্রচলিত ধারার ইতিহাসে হাজারো দুর্বলতা আছে। ইতিহাসবিদরা নিজেদের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তা লেখার ক্ষেত্রে প্রভাবিত হয়ে পড়েন। ফলে একই ঘটনার বর্ণনায় লেখকদের লেখায় বৈপরীত্য দেখা যায়। আসলে ইতিহাসের অবিকৃত রচনা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে কোরআন শরিফ পুরোপুরি ব্যতিক্রম। অভিনব পদ্ধতিতে কোরআনের আয়াতে শুধু পৃথিবীর অতীত ইতিহাসই উল্লেখ করা হয়নি, এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাস্তবতার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কোরআনে উল্লিখিত ইতিহাস সম্পূর্ণ সত্য। এটা শুধুই দাবি নয়, হাজার বছরের পরীক্ষিত সত্য। কোরআনের কোনো কাহিনী অসত্য—এমন অভিযোগ এখনো কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। কোরআন নিজেকে ‘চির সত্য’ বলে চ্যালেঞ্জ তো দিয়েই রেখেছে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য