kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

কাজী মোতাহার হোসেন

শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন ১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের পৈতৃক নিবাস ফরিদপুরের পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।

মোতাহার হোসেন কুষ্টিয়া হাই স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স, রাজশাহী কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট, ঢাকা কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে পরিসংখ্যানে ডিপ্লোমা এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ‘পরীক্ষণ প্রকল্প’ গবেষণা কাজের জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এই গবেষণায় তিনি এক নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করেন, যা ‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’ নামে পরিচিত। ছাত্র অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ডেমোনস্ট্রেটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু। ১৯২৩ সালে তিনি সহকারী প্রভাষক ও পরে অধ্যাপক হন। ১৯৪৮ সালে তিনি নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সংখ্যাতত্ত্ব ও তথ্যগণিত’ বিষয়ে এমএ কোর্স চালু করেন। তিনি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৬১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিলেও তিন বছর তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের ‘সুপারনিউমেরারি প্রফেসর’ ছিলেন। পরিসংখ্যান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে প্রথম পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ‘ইমেরিটাস প্রফেসর’ এবং ১৯৭৫ সালে ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে সম্মানিত হন। তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং কিছুদিন এর মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তিনি বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ে অনেক প্রবন্ধ ও বই লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘সঞ্চয়ন’, ‘নজরুল কাব্য পরিচিতি’, ‘সে পথ লক্ষ্য করে’, ‘সিম্পোজিয়াম’ ও ‘গণিতশাস্ত্রের ইতিহাস’। ১৯৬৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৭৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। মুক্তচিন্তা, সংস্কৃতিমনস্ক মোতাহার হোসেন খ্যাতিমান দাবাড়ু এবং দাবা সংগঠকও ছিলেন। তিনি ১৯৮১ সালের ৯ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য