kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

মেঘনাদ সাহা

বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ মেঘনাদ সাহা ১৮৯৩ সালের ৬ অক্টোবর বিক্রমপুর জেলার সাওড়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা জগন্নাথ সাহা ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

অভাব-অনটনের মধ্যেই মেঘনাদ ছাত্রজীবন অতিবাহিত করেন। ১৯০৫ সালে তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। তবে বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫-১৯১১) প্রতিবাদ সভায় যোগ দেওয়ায় স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর ঢাকা জুবিলী স্কুলে ভর্তি হন। ১৯০৯ সালে তিনি পূর্ববঙ্গের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান পেয়ে এন্ট্রান্স পাস করেন। পরে ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসিতে তৃতীয় এবং কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিতে অনার্সসহ বিএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৫ সালে ফলিত গণিতে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ১৯১৮ সালে তিনি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগ দেন। আলোর চাপের ওপর গবেষণা করে তিনি ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ‘অ্যাস্ট্রাফিজিকস’-এর ওপর গবেষণা করে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি পান ১৯২০ সালে। ১৯২৩ সালে তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। একই বছর তিনি কলকাতা বিজ্ঞান কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।

অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তাপের প্রভাবে কিভাবে বৈদ্যুতিক শক্তিসম্পন্ন অণু গঠিত হয় তত্ত্বটি তাঁর। পরমাণুবিজ্ঞান, আয়নমণ্ডল, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যার প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনাসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘সায়েন্স অ্যান্ড কালচার’ নামক বিজ্ঞানবিষয়ক মাসিক পত্রিকার অন্যতম প্রকাশক। কলকাতায় ‘ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিকস’ (১৯৪৮) তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর এটির নামকরণ হয় ‘সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিকস’। তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘The Principle of Relativity’, ‘Treatise on Heat’, ‘Treatise on Modern Physics’, ‘Junior Textbook of Heat With Meteorology’ ইত্যাদি। ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে পরিকল্পনা কমিশনের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য