kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে পরিবর্তন আসেনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে পরিবর্তন আসেনি’

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘অল চুরি ইজ ব্যাড। ’ তিনি বলেন, ‘সারা দেশে তুণমৃল পর্যায়ে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আমরা কোনো অন্যায়কারীকে ক্ষমা করব না। এ জন্য আমাদের সরকার কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে। ’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ এসেছে, অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই তথ্য সঠিক নয়। আর অগ্রণী ব্যাংকের জন্য এই টাকা সামান্য। হয়তো অনেকে বলবেন, মাননীয় মন্ত্রী একবার বলেছেন, সোনালী ব্যাংকের যে চার হাজার কোটি টাকা চুরি হয়েছে, তা কোনো কিছু নয়। আমি সেভাবে বলতে চাই না। তবে এটা বলতে চাই যে এ ঘটনা আমরা খতিয়ে দেখেছি। অগ্রণী ব্যাংকের ওই ঘটনা সঠিক নয়। ’ মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল  টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘সেভেন হর্স সিমেন্ট মুক্তবাকে’ আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক ফারাবি হাফিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাসের বখতিয়ার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, ছয় বছরেও গতি ফেরেনি ব্যাংক খাতের। পুঁজিবাজারের প্রবণতা নেতিবাচক হলেও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে তা প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে মানুষের আস্থা থাকবে বলেও মনে করছেন তাঁরা। কিন্তু বিশ্লেষকদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিলেন বিনিয়োগকারীরা। দু-এক বছর নয়, প্রায় ছয় বছরেও বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠেননি। ফলে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ব্যাংকিং খাতের শেয়ার। এ খাতের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই ধস নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার নতুন ৯টি ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো সেভাবে বাজারে ভালো করতে পারছে না। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলোয় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে ঋণ দেওয়া, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, আয় কম, ব্যয় বৃদ্ধি ও নানা ধরনের পুকুরচুরি বেড়ে চলেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগে হতাশ। সেই হতাশা এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টরা কাটাতে পারেনি। ফলে ২০১০ সালের দরপতনের পর অনেক খাতের দর বাড়লেও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিনিয়োগকারীরা তাঁদের মূলধন হারানোর ভয়ে বিনিয়োগ করছেন না। তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ধরা হয় সর্বোচ্চ ১৫। এর নিচে পিই থাকা মানে বিনিয়োগ ঝুঁকি খুবই কম। তেমনি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর পিই অনুপাতে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। তার মানে বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এ খাত। এ খাতের পিই হচ্ছে ৭.৪৪। কিন্তু ব্যাংকের শেয়ার বিনিয়োগবান্ধব হলেও তা ক্রয়-বিক্রয়ে আগ্রহী নন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না। কিন্তু একসময় বিনিয়োগকারীদের বাজারে চাহিদার শীর্ষে ছিল ব্যাংকিং খাত। কিন্তু এ খাতে ধরা পড়া নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেই বিনিয়োগকারীদের চাহিদার তালিকায় নেই ব্যাংকিং খাতের শেয়ার।

আলোচনার এ পর্যায়ে আবু নাসের বখতিয়ার বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং চ্যানেলের অনেক নিয়মকানুন আছে। কিন্তু এসবের ফাঁকফোকর গলে অনেকেই অনিয়ম করে চলে। এসব বিষয়ে সরকারকে আরো সতর্ক হতে হবে। ’ তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে সরকারি ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মূল কাজ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। নানা আর্থিক অনিয়ম ঠেকানো না গেলে পুরো দেশই কঠিন সংকটে পড়বে। এখন অনিয়মের বিচার না হওয়ায় অনিয়ম আরো বাড়ছে। এই অনিয়ম ঠেকাতে দৃশ্যমান বিচার দরকার। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাব প্রকট

আকার ধারণ করেছে। সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন রাখতে পারছে না। তিনি বলেন, শুধু অনিয়ম দিয়ে সুশাসন ঘাটতি প্রমাণ নয়, সূচকগুলো দিয়েও তা প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাযথভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। স্বাধীনচেতাদের নিয়োগে প্রাধান্য দিতে হবে। বর্তমান সংকটের ফলে আইটি নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম বাধা। নিকট অতীতে পুঁজিবাজার, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার চুরির ঘটনা। ভবিষ্যতে এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।


মন্তব্য