kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘স্মার্ট কার্ড জাতি হিসেবে মর্যাদা বাড়াবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘স্মার্ট কার্ড জাতি হিসেবে মর্যাদা বাড়াবে’

সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্ট কার্ড জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা বাড়াবে। তবে লক্ষ রাখতে হবে, আগের জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো এখানে-সেখানে, দোকানে যেন এ কার্ড না পাওয়া যায়।

আমরা কষ্ট করে অনেক সম্পদ অর্জন করি, কিন্তু তার সঠিক সংরক্ষণ করতে পারি না। ফলে আমাদের অনেক অর্জনই বেশিদিন টেকে না। তাই জাতীয় স্মার্ট কার্ডের বেলায় যেন এমনটা না হয়, এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে।

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো চব্বিশ ঘণ্টা অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিক শারমিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্র দিচ্ছে স্মার্ট কার্ড আদলে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই কার্ডের সুবাদে নাগরিকরা ২৫টির মতো সেবা পাবে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন।

জবাবে মাহফুজ উল্লাহ বলেন, দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ৬২ লাখ। সে অনুযায়ী সবার স্মার্ট কার্ড ছাপাতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তার পরও এটা আমাদের জন্য সম্মানের। এই স্মার্ট কার্ড দিয়ে নাগরিকরা অন্তত ২৫ ধরনের ই-সেবা নিতে পারবে ঠিক আছে, এটাকে জনগণের কাছে আরো সহজ করে পৌঁছাতে হবে। নির্বাচন কমিশন যেভাবে বলল, তাতে ২০১৪ সালে যাঁরা ভোটার হয়েছেন তাঁদেরও এ স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। কারণ তাঁদের কোনো পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। সে অনুযায়ী ২০১৪ সালের ভোটারদের কার্ড ছাপানো হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, যন্ত্রে পাঠযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্রই হচ্ছে স্মার্ট কার্ড। বর্তমানে যে পরিচয়পত্র বা কার্ড চালু রয়েছে, তা সাধারণ পাতলা কাগজে প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করা। যার প্রথম পৃষ্ঠায় নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ ও আইডি নম্বর এবং অপর পৃষ্ঠায় ঠিকানা দেওয়া থাকে। এ কারণে কার্ডটি সহজেই নকল করা সম্ভব। অসাধু ব্যক্তিরা এ কার্ড সহজেই নকল করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। ফলে নাগরিক  ভোগান্তি ও হয়রানি বাড়ছে। এটি রোধ করতেই স্মার্ট কার্ড তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইসি। এটি যন্ত্রে পাঠযোগ্য। অসাধু ব্যক্তিরা সহজেই নকল করতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, আগে তিনবার ঘোষণা দিয়েও স্মার্ট কার্ড বিতরণ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তাই এবার পুরো প্রস্তুতি নিয়েই তারা মাঠে নেমেছে মনে হচ্ছে। দেশের সব নাগরিকের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দিতে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি চালাচ্ছে। আশা করি, কার্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবার কাছে পৌঁছে যাবে।

এ পর্যায়ে সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ভোটারের বা পরিচয়পত্রধারীর আইডি নম্বর ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য এই আইডিতে সংরক্ষিত থাকবে। শুধু যন্ত্রের সাহায্যে এসব তথ্য পাঠ করা যাবে। টেকসই ও সুন্দর অবয়বে এ কার্ড বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা সাধারণভাবে স্মার্ট কার্ড হিসেবেই বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, স্মার্ট কার্ড হবে মেশিন রিডেবল, যা কার্ড জালিয়াতির হাত থেকে বাড়তি নিরাপত্তা প্রদান করবে। পর পর দুবার হারালেই কার্ড সংগ্রহে ভোটারকে জরিমানা দিতে হবে দুই থেকে চার হাজার টাকা। বর্তমানে  ভোটারদের কাছে বিদ্যমান লেমিনেটেড ন্যাশনাল আইডি কার্ড ফেরত নিয়ে প্রথমবারের মতো বিনা মূল্যেই স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এরপর আবার মেশিনে পাঠযোগ্য এই কার্ড পেতে চাইলে একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। বিভিন্ন পাবলিক সার্ভিস নিতে এই আইডি কার্ড প্রদর্শন আবশ্যক করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। তিনি বলেন, এরই মধ্যে  ভোটারদের উন্নতমানের স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আগে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য