kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

আবুল হাশিম

উপমহাদেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ আবুল হাশিম পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাশিয়ারা গ্রামে ১৯০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আবুল কাসেম (১৮৭২-১৯৩৬) ছিলেন বর্ধমানের প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা।

আবুল হাশিম বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএল ডিগ্রি নিয়ে বর্ধমান জেলা কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বর্ধমান থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্ধমান মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি এলাহাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ সম্মেলন এবং ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর সম্মেলনে যোগ দেন। ১৯৪৩ সালে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বাংলায় মুসলিম লীগকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন ১৯৪৭ সালের ‘অবিভক্ত স্বাধীন বাংলা’ পরিকল্পনার অন্যতম রূপকার। ভারত বিভাগের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক আইনসভায় বিরোধী দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তাঁর। সমসাময়িক রাজনৈতিক দলগুলোর মতাদর্শের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে হাশিম ‘খিলাফত-ই-রব্বানী পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ দলের সভাপতি ছিলেন। পাকিস্তান সরকার আবুল হাশিমকে ‘ইসলামিক একাডেমি’র পরিচালক নিয়োগ করলেও তিনি পূর্ব বাংলার মানুষের পক্ষে সব আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—The Creed of Islam, In Retrospection, As I see it, Arabic Made Essay. ১৯৭৪ সালের ৪ অক্টোরব তিনি মারা যান।

 

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য