kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

নিজে সৎ হওয়ার পাশাপাশি সমাজ সংস্কারে মনোযোগ দিতে হবে

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিজে সৎ হওয়ার পাশাপাশি সমাজ সংস্কারে মনোযোগ দিতে হবে

১১৭. তোমার প্রতিপালক এমন নন যে তিনি অন্যায়ভাবে জনপদগুলো ধ্বংস করে দেবেন, অথচ সেখানকার জনগণ সত্কর্মশীল (সমাজ সংস্কারে নিয়োজিত)। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৭ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, আগের যুগে অল্পসংখ্যক লোক অন্যায়-অবিচারে বাধা দিত।

বেশির ভাগ লোক অপরাধের প্রতিবাদ করত না। তাই আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাদের মধ্যে সব সময় সমাজসচেতন একদল লোক থাকে। যারা মানুষকে সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে বাধা দেবে। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যেন এমন একটি দল থাকে, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজে নিষেধ করবে। তারাই তো সফলকাম। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৪)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির কল্যাণে তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে। তোমরা ন্যায় কাজে আদেশ দেবে, অন্যায় কাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখবে। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

সৎকাজে আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ ও আল্লাহর দ্বীনের পথে আহ্বান করাই ছিল সব নবী ও রাসুলের দায়িত্ব। সব নবীই তাঁর উম্মতকে তাওহিদ ও ইবাদতের আদেশ দিয়েছেন। শিরক, কুফর ও পাপ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যারা অনুসরণ করে বার্তাবাহক উম্মি নবীর, যাঁর উল্লেখ তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিপিবদ্ধ পায়, যিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৫৭)

সমাজে যারা বসবাস করে, তাদের কর্তব্য হলো সমাজ উন্নয়নে কাজ করা। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করা। যারা সমাজে অন্যায়, জুলুম ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, তাদের প্রতিহত করা। যে সমাজে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, সে সমাজের ধ্বংস অনিবার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি সুন্দর উদাহরণের মাধ্যমে তা বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধিবিধান সংরক্ষণের জন্য সচেষ্ট এবং যে তা লঙ্ঘন করছে, উভয়ের উদাহরণ হলো এমন একদল মানুষের মতো, যারা সমুদ্রে একটি জাহাজ ভাড়া করে। লটারির মাধ্যমে তাদের কেউ ওপরে আর কেউ নিচের তলায় স্থান পায়। যারা নিচে অবস্থান করে, তাদের পানির জন্য ওপরে আসতে হয়। এতে ওপরের মানুষদের গায়ে পানি পড়তে থাকে। তখন ওপরের লোকেরা বলল, আমাদের এভাবে কষ্ট দিয়ে তোমাদের ওপরে উঠতে দেব না। তখন নিচের মানুষেরা বলল, আমরা আমাদের অংশে (জাহাজের নিচে) একটি গর্ত করব, তাহলে আমরা সহজেই পানি নিতে পারব। তখন ওপরের মানুষদের কষ্ট দিতে হবে না। এ অবস্থায় যদি ওপরের লোকেরা নিচের লোকদের এ কাজে বাধা দেয় ও নিষেধ করে, তাহলে তারা সবাই বেঁচে যাবে। আর যদি তারা তাদের এ কাজ করতে সুযোগ দেয়, তাহলে তারা সবাই ডুবে মরবে। ’ (বুখারি)

প্রকৃত মুমিন কেবল নিজে ইবাদত করেই ক্ষান্ত হয় না, সে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করতে থাকে। প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘তারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং ভালো কাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। আর তারা কল্যাণকর কাজে দ্রুত ধাবিত হয়। তারাই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১৪)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য