kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘সংবর্ধনা যেন যানজটের কারণ না হয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘সংবর্ধনা যেন যানজটের কারণ না হয়’

‘দেশের সরকারপ্রধান যখন দেশের বাইরে যান বা বাইরে থেকে দেশে ফেরেন তখন রাজকীয় সংবর্ধনার কারণে রাজধানীতে অনেক যানজট হয়। এমন হয় যে অনেকে জীবন নিয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন না।

কেউ বা বিমানের ফ্লাইট মিস করেন। যানজটে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তাঁকে সংবর্ধনা দিতে গিয়ে মানুষ রাজধানীতে যে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে, তা সামলাতে পুলিশ প্রশাসনকেও গলদঘর্ম হতে হয়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমি অনুরোধ করব, তিনি যেন হেলিকপ্টারে চলাচল করার বিষয়টি বিবেচনা করেন। ’ কথাগুলো বলেছেন নগর বিশ্লেষক স্থপতি মোবাশ্বির হোসেন। তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হলো সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা। সেই চলাচলে যদি বাধার সৃষ্টি হয়, তবে তাতে নানামুখী সমস্যা ও আর্থিক ক্ষতি হয়। এ জন্য সংবর্ধনার ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি আগে বিবেচনা করতে হবে। শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো জনতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সামিয়া রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, বাংলাদেশে রাস্তাঘাটে যানজট একটি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সভা-সমাবেশ ও সংবর্ধনা হলে তো কথাই নেই। জনগণের ভোগান্তির অন্ত থাকে না। এ বিষয়ে কিছু বলুন।

জবাবে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলার আগে সম্প্রতি ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের দুজন জেলা প্রশাসক যেভাবে ফেয়ারওয়েল নিয়েছেন, তা নিয়ে একটু বলতে চাই। একজন ডেপুটি সচিবের পদমর্যাদার হয়ে তাঁরা যেভাবে সংবর্ধনা নিয়েছেন, তা রাজকীয়র চেয়েও বেশি। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও তাঁর স্ত্রীর বিদায় সংবর্ধনার ছবি আমাদের অবাক করেছে। কোথাও ঘোড়ায় চড়ে, কখনো রাজার পোশাকে প্রায় ২০ দিন ধরে ছুটেছেন সংবর্ধনার নেশায় পাগল পোশাকি রাজা মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী। শহরের নানা প্রান্তে এ নিয়ে হাস্যরস ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাঁর বাবা ছিলেন জামালপুর জামায়াতের রোকন আর ভাই ছাত্রশিবিরে। অবশ্য ফারুকী ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। সেই সুবাদে ময়মনসিংহে ডিসি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর এখন বিদায় নিচ্ছেন। ময়মনসিংহ শহরের অনসাম্বল থিয়েটায়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ডিসি দম্পতিকে রাজা-রানির পোশাক পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে জেলা প্রশাসককে ঘোরানো হয় শহরের বিভিন্ন রাস্তায়। বিদায়ী জেলা প্রশাসক দুই হাত তুলে রাজকীয় কায়দায় হাত নেড়ে নগরবাসীকে অভিনন্দন জানান। ’

আলোচনার এ পর্যায়ে সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যারা প্রধানমন্ত্রী বা বড় কোনো রাজনৈতিক নেতাকে সংবর্ধনা দিতে যাই, তখন তো রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য উপযুক্ত করে রেখে দাঁড়াতে পারি। যানজটের কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে, এটা আমাদের বুঝতে হবে। ঢাকার এক কোটি সাত লাখ মানুষের দৈনিক কমপক্ষে দুই কোটি ৪০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে রাজধানীর যানজটে; যার আর্থিক ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকা। আর অঙ্কে হিসাব করা না গেলেও শারীরিক-মানসিক ক্ষতির অংশও কম নয়। দিন দিনই বাড়ছে এ সমস্যা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, রাজধানীবাসীর কাছে এখন সবচেয়ে আতঙ্কের নাম যানজট। রাস্তায় একবার গাড়ি থামলে আর যেন চলতেই চায় না। তাই পাবলিক বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে যাত্রীরা প্রথমে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে ঢাকার রাস্তাকে নরকযন্ত্রণার সঙ্গেও তুলনা করতে দ্বিধা করে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এভাবে যানজটে আটকা পড়ে একদিকে যেমন বাড়ে মানসিক চাপ, তেমনি ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ। এ বিষয়ে মনোবিজ্ঞানী ডা. মুহিত কামাল জানিয়েছেন, যানজটের ফলে আমাদের আবেগের ক্ষতি হয়, সেই সঙ্গে ভয় ও উত্কণ্ঠা জেগে ওঠে। এগুলো যদি প্রতিনিয়ত জাগতে থাকে, তবে আস্তে আস্তে যে কেউ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বে।


মন্তব্য