kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণ কী?

ড. এম শামসুল আলম

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণ কী?

পরিবহন ভাড়াসহ বিদ্যুৎ, সার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম আরেক দফা যেন না বাড়ে সে জন্য গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি না করার দাবি জানাতে গত ১ অক্টোবর নাগরিক সমাজের পক্ষে রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এখানে উল্লেখ করতে হয়, গত আগস্টে একনাগাড়ে সাত দিন বিইআরসি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করেছে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে শুনানিপরবর্তী মতামত চেয়েছে। এর মধ্যেই পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গ্যাসের দাম বাড়ছেই এবং বাড়ানোর হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করেছে বিইআরসি।

শুনানিপরবর্তী প্রদত্ত মতামতে গত আগস্ট মাসের ১১ তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ১৮ তারিখে কৃষি মন্ত্রণালয় যথাক্রমে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধি না করার জন্য বিইআরসিকে অনুরোধ জানিয়েছে। তা ছাড়া সরকার শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধি না করার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেছে। ভোক্তাদের পক্ষে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ কম্পানিগুলোর মধ্যে অনেকেরই চাহিদার তুলনায় রাজস্ব উদ্বৃত্ত। যে কটি কম্পানির রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে, তা সমন্বয়ের জন্য মূল্যহার বৃদ্ধি না করে ওই উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যবহার করা সঠিক ও যৌক্তিক।

গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে গ্যাস উৎপাদনে নিয়োজিত জাতীয় কম্পানিগুলোর সক্ষমতা উন্নয়ন পরিকল্পনা বিইআরসি কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত ওই সব কম্পানির মুনাফা-মার্জিন স্থগিত রাখা সঠিক ও যৌক্তিক বলেই প্রতীয়মান হয়।

লক্ষণীয়, পেট্রোবাংলা কম্পানিগুলোর কাছ থেকে তার প্রাপ্য সার্ভিস চার্জ নিজেই বৃদ্ধি করেছে, যা গণশুনানির ভিত্তিতে বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত হবে। তাতে পেট্রোবাংলার ভিন্নমত রয়েছে। তাই বিষয়টি আইনানুগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই চার্জ বৃদ্ধির কার্যকারিতা স্থগিত রাখা সঠিক ও যৌক্তিক।

আইওসি গ্যাসের ওপর এসডি-ভ্যাট নেওয়া, আবার তা এনবিআরকে দেওয়া আইনি দৃষ্টিতে এর কোনোটিই সঠিক ও যৌক্তিক নয়। তাতে ভোক্তাদের আপত্তি রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাবগুলোর ওপর আদেশ প্রদান স্থগিত রাখা সঠিক ও যৌক্তিক।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বলছে, বিতরণ কম্পানির পক্ষ থেকে আবাসিকে ব্যবহৃত গ্যাস ও পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজির মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাবের পক্ষে গণশুনানিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় এসব খাতে গ্যাস ও সিএনজির ব্যবহার অনুৎসাহিত করা দরকার। সে জন্য মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব। কিন্তু ভোক্তারা বলেছে, গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধি এ সমস্যা সমাধানের একটি ব্যর্থ প্রয়াস। বরং গ্যাস ও সিএনজির বিকল্প জ্বালানি এলএনজি ও ফার্নেস অয়েলের আন্তর্জাতিক মূল্য পতন সমন্বয় করে বিদ্যমান মূল্যহার কমানোর পাশাপাশি বাজার অসাধু ব্যবসামুক্ত করে প্রতিযোগিতামূলক করা হলে গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি ক্যাপটিভ, শিল্প, আবাসিক ও পরিবহনে এবং ফার্নেস অয়েল বিদ্যুৎ ও শিল্পে ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। জ্বালানি মিশ্রণে এলপিজি ও ফার্নেস অয়েলের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি হবে এবং গ্যাসের চাহিদা হ্রাস পাবে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিতে ঘাটতি বাড়ার কারণে জ্বালানির দাম বাড়ে। তাতে বিদ্যুতের দামও বাড়ে। ঘাটতিতে না থাকলেও সমতা রক্ষায় বিকল্প জ্বালানির দামও বাড়ে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে। আবার আমদানি ব্যয় হ্রাসে যে মুনাফা হয়, তা সমন্বয় করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার যৌক্তিক করায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমে। এটাই নীতি ও ন্যায্যতা। অথচ রাজস্ব (শুল্ক-ভ্যাট, কর ও লভ্যাংশ) বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে একদিকে জ্বালানির মূল্য পতন সমন্বয় যৌক্তিক না করে বিদ্যুতে কৃত্রিম ঘাটতি বজায় রেখে সরকার জ্বালানি তেলে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা আহরণ অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে বেশি বেশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সিএনজির দাম ঘন ঘন বেশি বেশি বাড়ানো হচ্ছে। নিজস্ব কয়লার দামও বাড়ছে। অতীতে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় উচ্চ মূল্যের জ্বালানি তেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয় বাড়ে। ফলে বিদ্যুতের মূল্যহারও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তখন সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, ২০১৪ সাল নাগাদ উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে বিদ্যুতের মূল্যহার কমানো হবে। সে ব্যাপারে সরকারের একটি রোডম্যাপও ছিল। এখন বিদ্যুতের দাম কমানোর মতো পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলেও সে প্রতিশ্রুতি প্রতিপালিত হয়নি। সরকার সে রোডম্যাপ ধরে অগ্রসর হয়নি। অগ্রসর হয়েছে মুনাফা ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে লাভ ও লোভের রোডম্যাপ ধরে। সরকারের অর্থ উপার্জনের এমন কৌশল অন্যায় ও অনৈতিক। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের হিসাবে দেখা যায়, বিদ্যমান মূল্যহারে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস বিক্রি বাবদ আয় হয় ১৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। এ অর্থ থেকে সরকার পায় এসডি-ভ্যাট ৫৫ শতাংশ, লভ্যাংশ ২ শতাংশ, আগাম করপোরেট কর ৩ শতাংশ, সম্পদমূল্য মার্জিন ১৫.৯৬ শতাংশ ও জিডিএফ মার্জিন ৫.১৪ শতাংশ। মোট ৮১.১০ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারের হাতে আসে ১৩ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। কম্পানির নিট মুনাফা থাকে প্রায় ৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৩১ কোটি টাকা। এই অর্থই পুঞ্জীভূত হয়ে ব্যাংকে ১৭ হাজার ২২৩ কোটি টাকা এফডিআর হিসাবে জমা হয়। প্রস্তাব মতে, গ্যাসের দাম ৬৫ শতাংশ আবারও বাড়ানো হলে বর্ধিত অর্থের পরিমাণ হবে ১০ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। তা থেকে ৮১.১০ শতাংশ অর্থাৎ আট হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা যাবে সরকারি কোষাগারে এবং কম্পানির মুনাফায় যোগ হবে ৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৫৪০ কোটি টাকা। এ তথ্য মতে বলা যায়, কম্পানির মুনাফা ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে ওই বর্ধিত অর্থের সিংহভাগ সমন্বয় হবে; জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নয়। দেশে আবাসিক চুলার সংখ্যা ৩৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৩। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট গ্যাস খরচের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৭৬ মিলিয়ন ঘনমিটার। আবাসিকে গ্যাস খরচ ধরা হয়েছে ১৪.৩১ শতাংশ। এ হিসাবে গ্যাস খরচ হবে চার হাজার ১১৮ মিলিয়ন ঘনমিটার। প্রতি মাসে চুলাপ্রতি গ্যাস খরচ ধরা হয়েছে ৯২ ঘনমিটার। তাতে বছরে খরচ হবে তিন হাজার ৭৭২ মিলিয়ন ঘনমিটার। হিসাবে ৯.১৭ শতাংশ বেশি দেখানো হয়েছে। আবার গণশুনানিতে বলা হয়েছে, চুলাপ্রতি মাসিক গ্যাস খরচ ৪২ ঘনমিটার। ৯২ ঘনমিটার নয়। এ হিসাবে বছরে খরচ এক হাজার ৭২২ মিলিয়ন ঘনমিটার। অর্থাৎ এ খাতে দুই হাজার ৩৯৬ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস খরচ (৬৩.৫২ শতাংশ) বেশি দেখানো হচ্ছে। এ গ্যাস বৈধভাবে শিল্প খাতে খরচ হলে গ্যাস খাতে বছরে আরো এক হাজার ৬১৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আসত। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে গণশুনানিতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চুরি হয়। বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট ও চাপের স্বল্পতায় নগরজীবন এখন বিপর্যস্ত। এসবের প্রতিকার ছাড়া গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হবে অযৌক্তিক ও অন্যায়। মূল্যবৃদ্ধি হলে সিএনজিতে চলা পরিবহনে ভাড়া যেমন বাড়বে, তেমন তেলে চলা পরিবহনের ভাড়াও পাশাপাশি বাড়ানোর সুযোগ নেওয়া হবে। কিছুদিন আগে সিএনজির মূল্যহার বৃদ্ধিতে সরকার পরিবহন ভাড়া বাড়ায় ১০ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি। ডিজেলের দাম কমানো হলেও ভাড়া কমানোর সুবিধা জনগণ পায়নি, বরং অন্যায় ও অবিচারের শিকার হয়েছে। সে মূল্যহার আবারও নতুন করে বৃদ্ধি করা হলে পরিবহন ভাড়া ঢালাওভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাই সিএনজির মূল্যহার বৃদ্ধি হবে অবিবেচনাপ্রসূত এবং জনগণের ওপর তা হবে অত্যাচারের শামিল। ফলে সিএনজির মূল্যহার বৃদ্ধি না করা যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত।

সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় সাশ্রয়ীর নির্দেশনাসহ বিইআরসির যেসব নির্দেশনা ছিল, তা প্রতিপালিত হয়নি। বরং আয় হ্রাস হলেও জনবল ও উন্নয়ন ব্যয়বৃদ্ধি এবং নানাভাবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কম্পানির মার্জিন বৃদ্ধির জন্য মূলত মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব। জনবল নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধার যৌক্তিকতা বিইআরসিকে এনার্জি অডিটের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে হবে। জনবল নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব বিইআরসি কর্তৃক পূর্বানুমোদিত হওয়া বাধ্যতামূলক হতে হবে। গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলোর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন অলাভজনক। বিদ্যমান গ্যাস সংকটে সংযোগ বন্ধ। চাহিদার সঙ্গে সরবরাহ সামঞ্জস্যহীন। তাই গ্যাস বিক্রি হ্রাস পেয়েছে। ফলে এসব কম্পানির রাজস্ব চাহিদা পূরণ শুধু ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস কিংবা সিএনজির মূল্যহার বৃদ্ধিতে সম্ভব নয়।

গ্যাস খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন সংকট এবং দুর্নীতিমুক্ত না হওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে গণশুনানিতে বলা হয়েছে, ১. রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় অডিট করে সিএজির দপ্তর। অথচ সংবিধান পরিপন্থী হলেও আইওসির গ্যাস বাবদ আয়-ব্যয় অডিট করে পেট্রোবাংলা নিজেই।

২. জ্বালানি বিভাগ গ্যাস খাতের আপস্ট্রিম রেগুলেটর। কম্পানির নির্বাহী কর্তৃপক্ষ তার পরিচালনা বোর্ড। সে বোর্ড সদস্য ও চেয়ারম্যান জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা হওয়ায় জ্বালানি বিভাগ গ্যাস খাতে স্বার্থ সংঘাতযুক্ত।

এর পরও জ্বালানি বিভাগ পরিবহনে সিএনজি ও আবাসিকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে বিইআরসিকে চাপে রেখেছে এবং তারা স্বার্থ সংঘাতে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়েছে। ওই দুটি খাতে গ্যাসের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজিকে দেখা হচ্ছে। তাতে ব্যক্তি খাতে এলপিজির বাজার সৃষ্টি হচ্ছে এবং এলপিজি সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ টাকা ভর্তুকির বিষয়ও ভাবা হচ্ছে। তাই সিলিন্ডারপ্রতি এলপিজির বিদ্যমান মূল্যহার ৭০০ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকায় পুনর্নির্ধারণবিষয়ক ক্যাবের প্রস্তাব বিইআরসি আমলে নেয়নি। অথচ ২০০৯ সালে প্রথম দফায় বিইআরসি সে মূল্যহার এক হাজার  থেকে হ্রাস করে ৮৫০ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৭০০ টাকা নির্ধারণ করে। এলপিজির মূল্যহার নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির হলেও বলা হচ্ছে, তা নির্ধারণ করবে বাজার। কিন্তু বাজার প্রতিযোগিতাহীন। ফলে সে মূল্যহার নিয়ন্ত্রণ করবে বিইআরসি নয়, এলপিজি ব্যবসায়ীরা। এর ফলে ভোক্তাস্বার্থ ও অধিকার বিপন্ন।

একদিকে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, অন্যদিকে ব্যক্তি খাত এলপিজি ব্যবসায় পর্যাপ্ত মুনাফা লাভের সুযোগ সৃষ্টি—এই দুই উদ্দেশ্যে গ্যাস ও সিএনজির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব এনেছে জ্বালানি বিভাগ। ফলে মূল্যহার পুনর্নির্ধারণে বিইআরসি সীমাবদ্ধতার শিকার হয়েছে এবং গণশুনানি মতে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব সঠিক ও যৌক্তিক প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধির হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করেছে। তাই ভোক্তা ও পক্ষগণের মতামত ও সুপারিশ উপেক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে মূল্যবৃদ্ধি না করে গ্যাসের বিদ্যমান মূল্যহার বহাল রাখার যে দাবি জানানো হয়েছে তা যৌক্তিক বলে মনে করি।

 

লেখক : জ্বালানি বিশেষজ্ঞ


মন্তব্য