kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

এমিল জোলা

 

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রভাবশালী ফরাসি ঔপন্যাসিক এমিল জোলার জন্ম ১৮৪০ সালের ২ এপ্রিল প্যারিসে। তাঁর লেখা সমকালীন ফ্রান্সের রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলে।

তিনি রাজনৈতিক উদারীকরণের পক্ষে কথা বলতেন। প্রকৃতিবাদী চিন্তাধারার প্রবক্তা এমিল ‘তাত্ত্বিক প্রকৃতিবাদ’ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জোলার বাবা ফ্রাংকোয়িজ জোলা ছিলেন ইতালীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী। মা ছিলেন ফরাসি। জোলার আট বছর বয়সে তাঁর বাবা মারা যান। এরপর ১৮৫৮ সালে তাঁদের পরিবার ফ্রান্সে চলে আসে। মায়ের ইচ্ছা, ছেলে আইন বিষয়ে পড়বে। কিন্তু লেখালেখিতে বেশি সময় দেওয়ায় জোলা স্নাতক পরীক্ষায় ফেল করেন। আইন পড়াও আর হয়ে ওঠেনি। ফ্রান্সে তিনি বন্ধু হিসেবে পান বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পল সেজানকে। লেখক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে তিনি কাজ করতেন একটি জাহাজ কম্পানির করণিক হিসেবে। তখন তিনি পত্রিকায় সাহিত্য ও শিল্প সমালোচনা লিখতেন। জোলার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য আর্থ’ প্রকাশিত হয় ১৮৬৪ সালে। ১৮৬৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর আরেক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘থেরেস রিকুইন’। তিনি সব সময় একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতেন। ১৮৯৮ সালের ১৩ জুলাই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে তিনি একটি খোলা চিঠি লেখেন। দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় তা প্রকাশিত হয়। এই লেখার কারণে তিনি সরকারের রোষানলে পড়েন। ফলে প্রায় এক বছর তিনি ইংল্যান্ডে আত্মগোপনে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি ফের লিখতে শুরু করেন। ‘দ্য জার্মিনাল’ তাঁর কালজয়ী আরেক উপন্যাস। উপন্যাস ছাড়াও তিনি বেশ কিছু ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও নাটক লিখেছেন। তৃতীয় নেপোলিয়নের প্রতি ব্যক্তিগত বিরাগ তিনি লুকাননি। নেপোলিয়নকে তিনি নিরো, তিবেরিয়াস ও কালিগুলার সঙ্গে তুলনা করেন। দুইবার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও তিনি শেষ পর্যন্ত পুরস্কার পাননি। তাঁকে ঔপন্যাসিকদের ঔপন্যাসিক বলা হয়।

১৯০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঘরের চিমনি বন্ধ হয়ে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে এমিল জোলা ৬২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। অনেকেই বলেন, ঘটনাটি ছিল নাশকতামূলক। তবে এর কোনো জোরালো প্রমাণ মেলেনি। জোলার মরদেহ প্যারিসে সমাহিত করা হয়েছিল। ছয় বছর পর তাঁর মরদেহ প্যারিসের বিখ্যাত মন্দির প্যানতেঅঁ-তে সরিয়ে নেওয়া হয়।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য