kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

ভালো কাজ করলে ছোট ছোট অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হয়

ভালো কাজ করলে ছোট ছোট,অপরাধ ক্ষমা করে,দেওয়া হয়   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভালো কাজ করলে ছোট ছোট অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হয়

 

১১৪. তুমি নামাজ কায়েম করো (যথাযথভাবে পড়ো) দিনের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংশে। সত্কর্ম অবশ্যই অসত্কর্ম মিটিয়ে দেয়।

যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য একটি উপদেশ। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৪ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে প্রথমে দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে। এরপর এর একটি উপকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কেউ যদি ভালো কাজ করতে থাকে, আর মানবীয় দুর্বলতার বশবর্তী হয়ে কিছু মন্দ কাজ করে ফেলে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। সত্কর্ম অবশ্যই অসত্কর্ম মিটিয়ে দেবে। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, মানবসেবা, সদ্ব্যবহারসহ যাবতীয় পুণ্যময় কাজই সত্কর্ম। কিন্তু যাবতীয় সত্কর্মের মধ্যে নামাজ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে অন্য জুমা ও এক রমজান থেকে অন্য রমজান পর্যন্ত যাবতীয় (সগিরা) গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়, যদি সে ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। ’ (সহিহ মুসলিম)

যদিও অসত্কর্ম বলতে সগিরা (ছোট গুনাহ) ও কবিরা (বড় গুনাহ) সব ধরনের মন্দ কাজকেই বোঝানো হয়। কিন্তু আলোচ্য আয়াতে কেবল সগিরা গুনাহর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভালো কাজের অসিলায় আল্লাহ তাআলা সগিরা গুনাহগুলো মাফ করে দেন। কবিরা গুনাহ খাঁটি তাওবা ছাড়া মাফ হয় না। আল্লাহ বলেন, ‘যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, যদি তোমরা সেসব বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারো, তাহলে আমি তোমাদের লঘুতর পাপগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩১)

গুনাহ কী

গুনাহ বলতে সেসব কাজকে বোঝানো হয়, যা আল্লাহর হুকুম ও তাঁর ইচ্ছাবিরোধী। এতে অনুমান করা যায় যে পরিভাষাগতভাবে যেগুলোকে সগিরা (ছোট) গুনাহ বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে সেগুলোও ছোট গুনাহ নয়। আল্লাহর নাফরমানি ও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা কঠিন অপরাধ। তবে কবিরা ও সগিরার যে পার্থক্য, তা শুধু তুলনামূলক। কোনো কোনো মনীষী বলেছেন, ছোট গুনাহ ও বড় গুনাহর উদাহরণ হলো—যেন ছোট বিচ্ছু ও বড় বিচ্ছু কিংবা আগুনের বড় হল্কা ও ছোট অঙ্গার—এ দুটির কোনো একটির দহনও মানুষ সহ্য করতে পারে না।

কবিরা গুনাহর সংখ্যা কত?

আল্লামা জাহাবি (রহ.) তাঁর গ্রন্থ ‘আল-কাবায়ের’-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন, ‘কবিরা গুনাহ ৭০টি। ’ আল্লামা ইবনে হাজর হাইসামি (রহ.) ‘আয-যাওয়াজের’ নামক গ্রন্থে কবিরা গুনাহ ৪৬৭টি বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লামা মুফতি শফি (রহ.) ‘ইনযারুল আশায়ের’ নামক গ্রন্থে কবিরা গুনাহ ৮৩টি ও সগিরা গুনাহ ১২৬টি বলে উল্লেখ করেছেন। শায়খ আবু তালেব মক্কি (রহ.) বলেন, ‘হাদিস শরিফে সুস্পষ্টভাবে ১৭টি কবিরা গুনাহর কথা বলা হয়েছে। (১) আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা, (২) ধারাবাহিকভাবে পাপ করা, (৩) আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ হওয়া, (৪) আল্লাহর শাস্তি থেকে নির্ভয় হয়ে যাওয়া, (৫) মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, (৬) সৎ নারীকে অপবাদ দেওয়া, (৭) মিথ্যা শপথ করা, (৮) জাদু করা, (৯) মদপান করা, (১০) এতিমের সম্পদ গ্রাস করা, (১১) সুদ খাওয়া, (১২) ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, (১৩) সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া, (১৪) নিরপরাধ মানুষ হত্যা করা, (১৫) চুরি করা, (১৬) জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা, (১৭) পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।

কেউ কেউ আরো তিনটি বাড়িয়ে ২০টি পূর্ণ করেছেন। (১৮) সন্তানকে হত্যা করা, (১৯) ডাকাতি করা, (২০) আমানতের খেয়ানত করা। (মা’আরেফুল কোরআন)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য