kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

শেখ ফজলুল করিম

কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম ১৮৮২ সালের ৯ এপ্রিল (১২৮৯ সালের ৩০ চৈত্র) রংপুরের কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালে তাঁর শিক্ষক ছিলেন ‘রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক হরশঙ্কর মৈত্রেয়।

১৯ বছর বয়সে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছেড়ে কাকিনা রেলস্টেশনের নিকটবর্তী মেসার্স এম. ডি আপকার কম্পানির জুট ফার্মে চাকরি নেন। নিজ দক্ষতায় সহকারী ম্যানেজার পদে উন্নীত হন। সাত বছর পরে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর কাকিনায় সাহারিয়া প্রিন্টিং ওয়ার্কস নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ওই ছাপাখানা থেকে তাঁর সম্পাদনায় ‘বাসনা’ নামে একটি উচ্চাঙ্গের মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

গদ্য ও পদ্য দুই ধরনের রচনায়ই ফজলুল করিম সিদ্ধহস্ত ছিলেন। তাঁর ভাষা প্রাঞ্জল এবং তাতে একটি সহজ সাবলীলতা লক্ষণীয়। সরল পদ্য বিকাশ (১৮৯৩), তৃষ্ণা (১৯০০), পরিত্রাণ কাব্য (১৯০৪), ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি (১৯১১), গাঁথা (১৯১৩) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। লায়লী-মজনু (১৯০৪) তাঁর রচিত উপন্যাস। মানসিংহ, মহর্ষি হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির (রা.) জীবন-চরিত, চিন্তার চাষ (নীতিকথা), বিবি রহিমা (জীবনী), পথ ও পাথেয়, রাজর্ষি এবরাহীম (জীবনী), বিবি খাদিজা (জীবনী), বিবি ফাতিমা (জীবনী) ইত্যাদি তাঁর প্রসিদ্ধ গদ্যগ্রন্থ। হারুন-অর-রশিদের গল্প ও সোনার বাতি তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ। হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী লেখক হিসেবে ফজলুল করিম পরিচিত ছিলেন। সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ এবং ‘কাব্যরত্নাকর’ উপাধি দিয়েছিল। ১৯৩৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কবি ফজলুল করিম মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য