kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

দৈনিক পাঁচবার ফরজ নামাজ

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দৈনিক পাঁচবার ফরজ নামাজ

১১৪. তুমি নামাজ কায়েম করো (যথাযথভাবে পড়ো) দিনের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংশে। সৎ কর্ম অবশ্যই অসৎ কর্ম মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য একটি উপদেশ। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৪ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : কোরআন ও হাদিসে নামাজের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। দৈনিক পাঁচবার নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ। ফরজ নামাজ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন নফল নামাজ। যেমন—ইশরাক, চাশত, আউয়াবিন ও তাহাজ্জুদ ইত্যাদি। নির্ধারিত পাঁচটি সময়ে কেন নামাজ ফরজ করা হয়েছে—কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তাই এ ক্ষেত্রে এটাই গুরুত্বপূর্ণ যে মহান আল্লাহ এই পাঁচ সময়ে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা সময় অনুযায়ী নামাজ আদায় করি।

এর অর্থ এই নয় যে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো হেকমত ও রহস্য নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বড় হাকিম ও প্রজ্ঞাবান। তাই তাঁর কোনো সৃষ্টি, তাঁর দেওয়া কোনো বিধান হেকমতশূন্য হতে পারে না। যুগে যুগে ইসলামী পণ্ডিতগণ সেই হেকমত ও রহস্য উদ্ঘাটনে সচেষ্ট হয়েছেন। উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠতম ইসলামী স্কলার শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি (রহ.)-এর মতে, দৈনিক বারবার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আত্মা ও রুহের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তরকে সৃষ্টিবিমুখ ও স্রষ্টামুখী করা হয়। তাঁর ভাষায় দেখুন : ‘মুসলিম উম্মাহ যদি দৈনিক বারবার জীবন ও কর্মের হিসাব ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত না রাখে, তাহলে এই উম্মাহর রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো কিছুতেই সুষ্ঠু ও পরিপূর্ণ হতে পারে না। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান দিয়ে মহান আল্লাহ সে ব্যবস্থাই করেছেন। আগে থেকে নামাজের জন্য অপেক্ষা ও নামাজের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ মূলত নামাজেরই অংশ। এভাবে দিনের বেশির ভাগ সময় নামাজের গণ্ডিতে এসে পড়ে। ’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৭৮)

হাকিমুল ইসলাম কারি তৈয়ব (রহ.) লিখেছেন : “প্রভাতের সময় মানুষের আত্মা স্বচ্ছ ও সতেজ থাকে, তাই সে সময় মুক্তমনে প্রভুর স্মরণে প্রার্থনা করার জন্য ফজরের নামাজের নির্দেশ দেওয়া হয়ছে। দুপুরের দিকে দেহে অলসতা পেয়ে বসে। জোহরের নামাজ তখন দেহে সতেজতা আনে। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ক্লান্তশ্রান্ত বিকেলে একটু বিনোদন ভালো লাগে। নিজের ভেতর উদাসী মনোভাব জেঁকে বসে। সেই উদাসীনতা দূর করে আসরের নামাজ। মাগরিবের সময় দিন-রাতের পরিবর্তন হয়। পৃথিবীতে আমূল পরিবর্তন ঘটে। এ পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মাগরিবের নামাজ হাজির হয়ে যায়। এশার পর মানুষের ওই দিনের সব কাজকর্ম সমাপ্ত করা হয়। এর পরই মানুষ রাতের কোলে ঘুমিয়ে পড়ে। তাই মানুষের শেষ কাজ যেন ভালো হয়, ‘খাতেমা বিল খাইর হয়’, সে তাগিদে এশার নামাজের বিধান দেওয়া হয়েছে। ’ [ফলসাফায়ে নামাজ, মাওলানা কারি মুহাম্মদ তৈয়ব (রহ.), পৃষ্ঠা-৪৭]

ড. ইউসুফ কারজাভি তাঁর ‘আল ইবাদাতু ফিল ইসলাম’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন : ‘দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান রুহ ও আত্মার পবিত্রতার জন্য ‘গোসলখানা’সদৃশ। এর মাধ্যমে মুসলমানের অন্তরকে সব ধরনের গাফিলতি থেকে পবিত্র করা হয়। মুসলমানদের পাপাচার ও ত্রুটিবিচ্যুতি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। এ কথা প্রিয় নবীর একটি হাদিস থেকে জানা যায়। তিনি বলেছেন, ‘বলো তো দেখি, কারো ঘরের দরজায় যদি একটি নদী থাকে, সে যদি ওই নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, না, তার দেহে কোনো ময়লা থাকতে পারে না। মহানবী (সা.) বললেন, এটাই হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দৃষ্টান্ত। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ (তাঁর বান্দাদের) গুনাহ মাফ করে দেন। ’ ’’ (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য