kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

রাজা রামমোহন রায়

রাজা রামমোহন রায় ভারতবর্ষে ধর্মীয় ও সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ও ব্রাহ্মধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বাঙালি দার্শনিক হিসেবে তিনি সমসাময়িক রাজনীতি, জনপ্রশাসন, ধর্ম ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব রাখেন। ১৭৭২ সালের ২২ মে অবিভক্ত ভারতের হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।

বাবা রামকান্ত ছিলেন বৈষ্ণব, মা তারিণী দেবী ছিলেন তান্ত্রিক ঘরের কন্যা।   কৈশোরেই ঘর ছেড়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন এবং কাশি ও পাটনা ঘুরে নেপাল যান। সেখানে তন্ত্রশাস্ত্রবেত্তা সুপণ্ডিত নন্দকুমার বিদ্যালংকারের সংস্পর্শে তিনি সংস্কৃতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। বেদান্ত অনুরাগও নন্দকুমারের থেকে পাওয়া। তরুণ বয়সে তিনি কলকাতায় চাকরি করেছেন, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কর্মচারীও ছিলেন। অল্প বয়সে সম্পত্তিরও মালিক হন। ইউরোপীয় বণিকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিচয়ের সূত্রে তিনি অনেক উদারনৈতিক চিন্তা ও ফরাসি বিপ্লব প্রসঙ্গে জানতে পারেন। পারস্যের সুফি কাব্যের ধারণা লাভ এবং অ্যারিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যাও তাঁকে সনাতন ধর্মগুলোর ব্যাপারে বিপ্লবী করে তোলে। একপর্যায়ে তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারে আগ্রহী হন। তিনি সতীদাহ কুপ্রথা বন্ধ করতে জনমত গড়েন ও সরকারকে প্রভাবিত করেন। ১৮২১ সালে তিনি ‘সম্বাদ কৌমুদী’ নামে বাংলা সংবাদপত্র এবং ১৮২২ সালে ‘মিরাত-উল-আখবার’ নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। ১৮২৩ সালে ইংরেজ গভর্নর ভারতীয় প্রেসের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলে রামমোহন প্রতিবাদ করেন। ১৮৩০ সালে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাঁকে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান। ইংল্যান্ডে তিনি উষ্ণ সংবর্ধনা পান। ১৮৩২ সালে তিনি ফ্রান্সও সফর করেন। পরে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল ভ্রমণকালে রোগাক্রান্ত হয়ে ১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য